Thursday, July 2, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হ্যারি কেনের জোড়া গোলে ষোলোয় ইংল্যান্ড!‌ ভালো খেলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় সেনেগালের, টিকে গেল বেলজিয়াম

ইংল্যান্ড: ২ (কেন-২) কঙ্গো: ১ (সিপেঙ্গা)
বেলজিয়াম – ৩ (টিয়েলেম্যানস ২, লুকাকু) সেনেগাল – ২ (দিয়ারা, সার)

RK NEWZ ভাল খেলেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আফ্রিকার আরও এক দেশ। নিজেদের ভুলে হারল সেনেগাল। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটের গোলে জিতল বেলজিয়াম। জেতা ম্যাচ হেরে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ল আফ্রিকার দেশের রক্ষণ। তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ হল সেনেগালের। সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। খেলার শুরু থেকে সেনেগালের পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ, আক্রমণ আর আক্রমণ। কখনও প্রান্ত ধরে মানে বা এনডিয়ায়ে ঢুকলেন। আবার কখনও থ্রু বল কাজে লাগিয়ে মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করলেন ইসমাইলা সার। বেলজিয়াম তখন ঘর গোছাতে ব্যস্ত। কোচ রুডি গার্সিয়াকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কী হচ্ছে বুঝতে পারছেন না। তিনি ঘর সামলে আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু আক্রমণ হল কই। চাপ বাড়ানোর ফল পেল সেনেগাল। শুরুতেই হাবিব দিয়ারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ১৫ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে যেত সেনেগাল। প্রথম সুযোগে গোল করতে না পারলেও ২৪ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় সুযোগে গোল করলেন দিয়ারা। সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরলেও ফিরতি বলে গোল করেন তিনি। গোল খাওয়ার পরেও বেলজিয়ামের খেলায় কোনও তাগিদ চোখে পড়েনি। একটু চেষ্টা করছিলেন জেরেমি ডোকু। বাকিদের দেখে মনে হচ্ছিল না, গোল করার চেষ্টা করছেন। খেলা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, বেলজিয়ামের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব হচ্ছে। দ্বিতীয়ার্ধে তা আরও প্রকট হল। ডিফেন্স থেকে আসা লম্বা বল বুকে নামিয়ে বেশ খানিকটা দৌড়ে ডান পায়ের শটে সেনেগালের দ্বিতীয় গোল করলেন সার। তাঁর ঘাড়ের কাছে বেলজিয়ামের দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ছিলেন। কিন্তু সারকে আটকাতে পারেননি। ঘড়ির কাঁটায় তখন ৫১ মিনিট। মনে হচ্ছিল, খেলার ফয়সালা করে ফেলেছে সেনেগাল। কিন্তু তখনও বোঝা যায়নি যে, অনেক নাটক বাকি। প্রথমার্ধে এক স্ট্রাইকারে খেলছিল বেলজিয়াম। ডি কেটেলায়েরেকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোমেলু লুকাকুকে নামান কোচ। তিনি নামার পর অন্তত সেনেগালের ডিফেন্ডারদের বিরক্ত করতে শুরু করেন। ৫৫ মিনিটে দ্য ব্রুইন ও ডোকুকে তুলে নেন গার্সিয়া। কোচের এই সিদ্ধান্ত অবাক হয়ে যান ধারাভাষ্যকারেরাও। কিন্তু তিনি যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা ম্যাচের শেষে বোঝা গেল। সুযোগ তৈরি করতে না পেরে হতাশা বাড়ছিল বেলজিয়ামের ফুটবলারদের। এক সময় তো অধিনায়ক টিয়েলেম্যানস ও লিয়োনার্দো ট্রসার্ড মাঠেই ঝগড়া শুরু করেন। লুকাকু কোনও রকমে তাঁদের সামলান। এই দৃশ্য দেখে বেলজিয়ামের সমর্থকেরা আরও হতাশ হয়ে পড়েন। পাস খেলে সেনেগালের বক্সে ঢুকতে না পারায় একটা সময় লম্বা বলে খেলা শুরু করে বেলজিয়াম। সেই সময় তাদের মাঝমাঠ বলে কার্যত কিছু ছিল না। সামনে চার স্ট্রাইকার রেখে খেলছিল তারা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত সেনেগালকে দেখে মনে হয়নি সেই চাপ সামলাতে কোনও সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেই শুরু নাটক। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। যেন সকলে একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সেটাই কাল হল। অতিরিক্ত সময়েও সেনেগাল সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। গোটা ম্যাচে অন্তত পাঁচটি গোল করতে পারত তারা। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল তাদের। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে কোনও রকমে জিতলেও বেলজিয়ামের খেলায় সেই ঝাঁজ দেখা গেল না। শেষ দিকে কিছুটা আক্রমণাত্মক খেললেও তার আগে সেনেগালকে তাড়া করে যাচ্ছিল তারা। দলের রক্ষণের অবস্থাও খুব খারাপ। এই দল নিয়ে বেশি দূর যাওয়া কঠিন। তবে আপাতত নিজেদের টিকিয়ে রাখল বেলজিয়াম। ভাল খেলেও বিদায় নিতে হল সেনেগালকে।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই। নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। হারার আগে হেরে না গিয়ে জেতার জন্য ঝাঁপানো। এই তিন মন্ত্রেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। একটা সময়ে ফুটবলপ্রেমীরা অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, এবারের বিশ্বকাপে আরেকটা অঘটন হতে চলেছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেবে কঙ্গো। তবে রূপকথাকে টেনে নামিয়ে বাস্তবের কঠিন জমি দেখিয়ে দিলেন হ্যারি কেন। জোড়া গোল করে প্রমাণ করলেন ব্রিটিশ শ্রেষ্ঠত্ব। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে মূলপর্বে খেলতে এসেই রুখে দিয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগালকে। তারপর থেকেই বিশ্বকাপে চলেছে কঙ্গোর স্বপ্নের দৌড়। ধারেভারে এগিয়ে থাকা কলম্বিয়ার কাছে হারলেও উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতে গিয়েছিলেন স্যামুয়েল মুথুস্বামীরা। প্রথমবারের জন্য আফ্রিকার দরিদ্র দেশটির হাতে বিশ্বকাপ নকআউটের টিকিট। ইংল্যান্ডের মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে মাঠে নেমেছিল কঙ্গো। ফেভারিটদের তালিকায় থাকা ইংল্যান্ড সম্ভবত ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেনি কঙ্গোকে। ব্রিটিশ দর্পের সামনে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে ইবোলায় জেরবার ছোট্ট দেশ-এমনটা ধরে নিয়ে গাছাড়া মনোভাব নিয়ে মাঠে নামলেন ডেকলান রাইসরা। ঘুমন্ত ইংল্যান্ড রক্ষণকে একেবারে দাঁড় করিয়ে রেখে গোল করলেন ব্রায়ান সিপেঙ্গা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটাই তাঁর প্রথম গোল। সাত মিনিটে গোল হজম করার পর ছন্দ হারিয়ে ফেলল ইংল্যান্ড। একের পর এক ভুল পাস, বক্সে ঢুকে খেই হারিয়ে ফেলা- তখন ইংল্যান্ডের ব্যর্থতাটাই বেশি। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড যেমন নিজের দোষে পিছিয়ে থাকল, তেমনই বারবার আটকে গেল কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসির হাতেও। অন্তত তিনটে নিশ্চিত গোল আটকালেন। সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটা আক্রমণও তৈরি করেছিল কঙ্গো। ৪৪ মিনিটে কেনকে পেনাল্টি দেওয়া উচিৎ ছিল কিনা সেই নিয়ে বিতর্ক থাকবে। বিরতির আগে পর্যন্ত যেমন লড়াই চালিয়েছিল ইংল্যান্ড, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও সেই একই ফুটবল চালিয়ে গেলেন মার্কাস র‍্যাশফোর্ডরা। তাঁদের ভুলের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ রক্ষণে কাঁপুনি ধরাচ্ছিলেন ইয়োহান উইজারা। ম্যাচের শেষ আধঘণ্টায় এসে আগ্রাসী ভঙ্গিতে রক্ষণ শুরু করল কঙ্গো। ঠিক সেই সময়েই টমাস টুখেলের মাস্টারস্ট্রোক। নামালেন বুকায়ো সাকা এবং অ্যান্থনি গর্ডনকে। বদলাতে শুরু করল ইংল্যান্ডের খেলা। ১৫ মিনিট সংঘর্ষ। অবশেষে ৭৫ মিনিটে কেনের হেডারে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড। ওই একটা মুহূর্তে হারানো আত্মবিশ্বাস যেন ফিরে এল থ্রি লায়ন্সদের মধ্যে। কঙ্গোর রক্ষণ ভাঙতে শুরু করল ধীরে ধীরে। স্বমহিমায় ফিরে এসে নিজের জাত চেনাতে শুরু করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ৮৬ মিনিটে কেনের দ্বিতীয় গোল। ওখানেই লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য। লড়াই করেও এবারের মতো বিশ্বকাপ শেষ কঙ্গোর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles