Thursday, July 2, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এসটিএফ গ্রেফতার করল অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজকে? অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষরক্ষা

RK NEWZ পুরুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার। বেঙ্গল এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট যৌথভাবে হানা। পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামীর এই জেলার বাঘমুণ্ডি এবং অযোধ্যা পাহাড় এলাকায় যোগাযোগ ছিল। যোগাযোগ ছিল ওই এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। সেই সূত্র ধরেই প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাঁরা জানতে পারেন দেবরাজ অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট রীতিমতো টিম বানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাক্তন বিধায়কের স্বামীর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করেছিলেন কেষ্টপুরের প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা। ধৃত দেবরাজ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বিধাননগর এলাকায় সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমির কারবার ছাড়াও ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত। কলকাতা হাই কোর্ট প্রথমে দেবরাজকে রক্ষাকবচ দিলেও, দ্বিতীয়বার তিনি তা পাননি। কলকাতা হাই কোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার হোটেলে কার্যত লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। বেঙ্গল এসটিএফ ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট যৌথভাবে হানা দিয়ে বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেই তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন দেবরাজ। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫-তেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন তিনি। জিতেওছিলেন। পরবর্তীতে ফিরে যান তৃণমূলে। বিয়ের পর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর আসনে বিধায়ক হন তিনি। দেবরাজের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি দেবরাজ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেবরাজ ও অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত করছিল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। রক্ষাকবচের আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর থেকেই পুলিশ দেবরাজকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। এদিন গ্রেপ্তার করা হয় দেবরাজকে।

রামনবমীর মিছিলে হামলায় বোমা মজুতের নির্দেশ, এনআইএ হেফাজতে অপরূপার স্বামী সাকির। তিন বছরের পুরনো রামনবমী মিছিলে হামলা মামলায় এনআইএ হেফাজতে অপরূপা পোদ্দারের স্বামী সাকির আলি। তদন্তকারীদের দাবি, মিছিলে হামালর জন্য তাঁর নির্দেশে বোমা মজুত করা হয়েছিল। সে কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই জামিনের আবেদন খারিজ করে অপরূপার স্বামীকে দু’দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এদিকে, থানায় হাজিরা এড়িয়ে বুধবার দিনভর স্বামীর সঙ্গে ব্যাঙ্কশাল আদালতে ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় কিনা, সেটাই দেখার। আদালতে এনআইএ আধিকারিকরা দাবি করেন, রামনবমীর মিছিলে হামলার মূলচক্রী ছিলেন অপরূপার স্বামী। তাঁর নির্দেশে হামলার জন্য বোমা মজুত করা হয়েছিল। এছাড়া অপরূপার বাড়ি থেকে ৩৬ রাউন্ড গুলি পাওয়া গিয়েছে। তাই তাঁকে আরও জেরা করার জন্য় হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানান তদন্তকারীরা। এনআইএ-র তরফে জানানো হয়, হামলার দিনের ওই এলাকার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে সাকির আলির গাড়ি একেবারে অক্ষত ছিল। ওই গাড়িতে চড়েই বাড়ি ফিরে গিয়েছেন সাকির। ওই গাড়িটি পরে বিক্রিও করে দেওয়া হয়। বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালের মে মাসের পুরনো মামলা। ওই মামলা ব্যবস্থা নিতে কেন এত সময় লাগল? জবাবে এনআইএ আধিকারিকরা জানান, সাকির আলি নিজে ছিলেন কাউন্সিলর। তাঁর স্বামী ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ। তাই আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা ‘স্বপ্নের মতো’ ছিল। সাকিরের আইনজীবীর দাবি, এই মামলায় দু’বার হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামলা নয়। শান্তিরক্ষা করতে যান সাকির। তাঁর বক্তব্য, “যারা মিছিল করে এল তাদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পেলেন না। যারা রক্ষা করতে গিয়েছিল, তাদের গ্রেপ্তার করছেন? বাকি অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত।” সাকিরের দাবি, তাঁর কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স রয়েছে। সাকিরের আর্জি, “মাথায় অক্সিজেন যায় না। ক্যানসার হয়েছে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেকোনও শর্তে জামিনের আবেদন করছি।” যদিও আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। দু’দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ভূরি ভূরি। দীর্ঘদিন ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিনি। তৃণমূলের এই ভাঙনের মরশুমে তাঁর অস্বস্তি বাড়িয়েছে সই জাল কাণ্ড এবং ডিজে মন্তব্য মামলা। কাচ ঢাকা কালো গাড়িতে অভিষেক, ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত নিরাপত্তারক্ষীদের! ‘যুবরাজে’র বিরুদ্ধে এফআইআর। মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট লঙ্ঘন করার অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের। কালীঘাট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজীব সরকার নামে বাগুইআটির এক বাসিন্দা তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। ওই ব্যক্তি তাঁর অভিযোগপত্রে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, অভিষেকের গাড়িতে দু’জন নিরাপত্তারক্ষী বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করেন। যা ভেহিক্যাল অ্যাক্টের পরিপন্থী। ওই ব্যক্তির দাবি, দ্য মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট (১২৩ ধারা) অনুযায়ী, চলন্ত গাড়িতে চালক কিংবা আরোহীর কেউ ঝুলে ঝুলে যাতায়াত করতে পারেন না। দ্বিতীয়ত ১৮৪ ধারা অনুযায়ী, চলন্ত গাড়িতে বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এই ঘটনায় অভিষেকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। ভারতীয় ন্য়ায় সংহিতায় অভিষেকের বিরুদ্ধে ২৮১, ১২৫, ২২৩ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ভূরি ভূরি। দীর্ঘদিন ইডি-সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিনি। তৃণমূলের এই ভাঙনের মরশুমে তাঁর অস্বস্তি বাড়িয়েছে সই জাল কাণ্ড এবং ডিজে মন্তব্য মামলা। পরপর তিনবার সিআইডি হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। পরে অবশ্য সই জাল মামলায় দু’বার ভবানীভবনে হাজিরা দেন অভিষেক। ডিজে মন্তব্য মামলাতেও সিআইডি তলবে সাড়া দেন। এই মামলায় অবশ্য ক্রমশ চাপ বাড়ছে তাঁর। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে যান। আবার কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়র দায়ের করা মানহানি মামলায় অভিষেকের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। সেবাশ্রয় নিয়েও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। তার মাঝে আবার নতুন এফআইআর। অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্রমশ আইনি জট যে বাড়ছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles