Monday, June 15, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কলকাতা পুরসভার ভোটের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর!‌ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নবনির্বাচিত বোর্ড গঠন করার ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

RK NEWZ ভাঙন ধরেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলে। কলকাতা পুরসভা হাতছাড়া।কলকাতা পুরসভার ভোটের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভা স্বচ্ছতা কর্মসূচির অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ছ’মাসের মধ্যে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হবে। অর্থাৎ, ডিসেম্বরের শুরুতেই পুরসভার ভোট করিয়ে নির্বাচিত বোর্ড গঠনের পথে হাঁটতে চায় রাজ্য সরকার। শুভেন্দু জানান, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নবনির্বাচিত বোর্ড গঠন করা হবে। পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। ভাঙন ধরেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলে। কলকাতা পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে তাদের। সম্প্রতি পুরসভার মেয়রপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। চলতি বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত পুরসভার মেয়াদ থাকলেও মেয়রের পদত্যাগের কারণে পুর বোর্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাই বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক নিয়োগ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। যত দিন পর্যন্ত না পুরসভা নির্বাচন হচ্ছে, তত দিন প্রশাসক দিয়েই পুরসভা পরিচালনার কাজ করবে রাজ্য সরকার। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছিল, ডিসেম্বরের আগেই কলকাতা পুরসভায় ভোট করিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করাবে শুভেন্দুর সরকার। কবে সেই ভোট হবে, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সোমবার পুরসভার অনুষ্ঠানে এসে পুরবোর্ড গঠনের দিনক্ষণ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে কলকাতা পুরসভার ভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেই সময় ভোট করানো সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর ডিসেম্বরে কলকাতা পুরসভার ভোটগ্রহণ হয়। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৭টি জিতে পুরবোর্ড গঠন করেছিল রাজ্যের তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল। যদিও সেই সময় বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ব্যাপক ছাপ্পা, রিগিং করে তৃণমূল পুরভোট জিতেছে। রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েক জন কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই গ্রেফতার। তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর ‘স্বাধীন ভাবে’ কাজ করতে না-পারার অভিযোগ করছিলেন। সেই আবহে কাজ করতে না-পারার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ। তার পরই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে নোটিস জারি করে পুরসভার কাছে জানতে চায়, মেয়রের ইস্তফার পরে কেন ভেঙে দেওয়া হবে না পুরবোর্ড? শুধু তা-ই নয়, নতুন মেয়র কে হবেন, তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিন দিন পরেও পুরসভার তরফে নতুন মেয়রের নাম জানানো হয়নি। আর সেই কারণেই কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেয় শুভেন্দুর সরকার।

কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠান থেকে তা নিয়েই মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমি আগের বোর্ডকে বলেছিলাম, ওরা ধরে রাখতে পারেনি। কলকাতা পুরসভা তো বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। নাগরিক পরিষেবা তো দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।” এরপরই মেয়র বাছাইয়ের সই নিয়ে তৃণমূলের অর্ন্তদ্বন্দ্বকেও নিশানা করেন তিনি। বলেন, “ওরা যদি সবাই মেয়র হতে চান, তাতে তো আমার কিছু করার নেই। কলকাতা পুরসভার একটা ঐতিহ্য আছে। একটা বিস্তীর্ণ এলাকা এর অধীনে। এখানে এখনও সকালে পাইপ দিয়ে রাস্তা পরিস্কার হয়। নেতাজি এখানকার মেয়র ছিলেন। আমি এর ঐতিহ্য ক্ষুন্ন হতে দিতে পারি না।” কলকাতা পুরসভার ভোট প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করা দরকার। পাশাপাশি যেখানে প্রশাসক রয়েছে সব জায়গায়ই দ্রুত ভোট হোক চাইছি।” এদিন ফের বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মোদিজি যেভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করেন, আমি সেভাবেই কাজ করব। আজকের অনুষ্ঠানেও বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। প্রায় সকলেই এসেছেন। এটাই হওয়া উচিত। রাজনীতি শুধু ভোটের সময়।” তবে পূর্বতন বোর্ড কোনও কাজ করেনি বলে অভিযোগও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। প্রসঙ্গত, শেষ কলকাতা পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০২১ সালে। পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ডিসেম্বরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles