Friday, June 19, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ছাব্বিশে ফিরল ʼ১৪-র স্মৃতি!‌ ৭ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু জার্মানির!‌ এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে!‌ জাপান ম্যাচে ঘুমপাড়ানি ফুটবলে ড্র

জার্মানি ৭ (হাভার্ৎজ় পেনাল্টি-সহ ২, মেচা, শ্লটারবেক, মুসিয়ালা, ব্রাউন, উন্ডাভ)
কুরাসাও ১ (কমেনেন্সিয়া)

নেদারল্যান্ডস ২ (ভ্যান ডাইক, সামারভিল)
জাপান ২ (নাকামুরা, কামাদা)

RK NRWZ হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল। শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজ়িলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল। দুই দলের লড়াই যে ডেভিড-গোলিয়াথ মার্কা হবে, তা বুঝতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ফুটবলপ্রেমী বাঙালি তবু টিভির সামনে বসেছিল দুই কৌতূহলে। এক, কত গোলে জিতবে জার্মানি? এবং দুই, ফিফা ব়্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে থাকা মুসিয়ালাদের দলের সামনে কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে কুরাসাও? শেষ পর্যন্ত ৭-১-এ ফয়সালা হল ম্যাচের। একটা দল চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে, আরেকটা দলের ফিফা ব়্যাঙ্কিং ৮২। একটা দলের অতীত ঐশর্য বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার, লোথার ম্যাতিউস, অলিভার কান, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের মতো বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা, আরেক দলের খেলোয়াড় তো দূরের কথা, দল বা দেশটার নামই লোকে প্রথম শুনল। এমন দুই দলের লড়াই যে ডেভিড-গোলিয়াথ মার্কা হবে, তা বুঝতে ফুটবল বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ফুটবলপ্রেমী বাঙালি তবু টিভির সামনে বসেছিল দুই কৌতূহলে। এক, কত গোলে জিতবে জার্মানি? এবং দুই, ফিফা ব়্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে থাকা মুসিয়ালাদের সামনে কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে পুঁচকে কুরাসাও? প্রথম ছ’মিনিটে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়— জার্মানরা গোলের বন্যা বওয়াতে নেমেছে, অন্যদিকে ‘কুরাসাও এগারো’ জান লড়িয়ে তা বাঁচানোর চেষ্টা চালাবে নব্বই মিনিট। শেষতক হারবে। হারলোও। ২০২৬-এ ২০১৪ সালের স্মৃতি ফিরল। শেষতক ৭-১ ফয়সালা হল ম্যাচের। ছ’মিনিটেই বাঁক খাওয়ানো ডান পায়ের শটে জার্মানির হয়ে প্রথম গোল করলেন ফেলিক্স এনমেচা। শুরু থেকেই কুরাসাওয়ের অর্ধেই খেলা হচ্ছিল। আরও ভালো করে বললে ডাচ অধীনে থাকা দেশটির বড় বক্সের আশপাশে জার্মান ফুটবলারদের পায়ে পায়ে ঘুরছিল বল। যদিও ২১ মিনিটে গতির বিরুদ্ধে কাউন্টার অ্য়াটাকে জোরাল শটে গোল করেন নীল জার্সিধারী লিভানো কোমেনসিয়া। দেড় লাখি জনতার দেশের কাছে হেরে বসবে বিশ্ব ফুটবলের পাওয়ার হাউজরা? কিন্তু সেগুড়ে বালি। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। এক লক্ষ ৫৬ হাজার। পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে এর চেয়ে ঢের বেশি ভোটার মিলবে। ঠিক এটাই জনসংখ্যা কুরাসাওয়ের। স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। এত গোল হজম করার পরেও কুরাসাওকে একটি মুহূর্তের জন্যও নেতিবাচক ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। বল পেলেই তারা প্রতি আক্রমণে উঠে গোল করার চেষ্টা করেছে। বড় দলের বিরুদ্ধে ছোট কোনও দল খেলতে নামলে সাধারণত ঘর সামলানোর দিকেই নজর দেয় বেশি। কুরাসাও যে আলাদা কিছু করেছে তা নয়। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল বা নেতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় তারা হাঁটেনি। বল পেলে উড়িয়ে দেওয়ার নীতি নয়, তারা চেষ্টা করেছে পাস খেলে, লম্বা বল খেলে, হিসেবে ফুটবল খেলে আক্রমণে উঠতে। দুই দলের ফুটবলারের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ফারাকের কারণে তারা সফল হয়নি। কিন্তু কুরাসাও বা আইভরি কোস্টের মতো প্রতিপক্ষ কখনওই জার্মানির কাছে শক্তি পরীক্ষার আসল মঞ্চ হতে পারে না। কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তা থেকে সরে আসেনি। দিনের শেষে এটাই কুরাসাওয়ের বড় প্রাপ্তি।

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধ। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ। তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ডনিয়েল মালেনের শট বারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। এর পর থেকে দু’দলের খেলায় শুধু ঘুমপাড়ানি ফুটবল। নেদারল্যান্ডস যতটা পারছিল নিজেদের মধ্যে পাস খেলছিল। চেষ্টা করছিল বলের দখল রাখার। কিন্তু গোলের সুযোগ সে ভাবে তৈরিই হচ্ছিল না। বরং তারা মাঝে মাঝে শারীরিক ফুটবলে জাপানকে বেগ দেওয়ার চেষ্টা করছিল, যার কোনও দরকারই ছিল না। যে কয়েকটি সুযোগ তারা তৈরি করেছিল তা রুখে দেন জাপানের গোলকিপার জ়িয়ন সুজুকি। ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে। সেই দলের এমন নিষ্প্রভ ফুটবল দেখে অবাক হয়েছিলেন সমর্থকেরা। জাপান মানেই আগ্রাসী ফুটবল, প্রতি আক্রমণে ঝড় তুলে দেওয়া খেলা।

প্রথমার্ধে জাপানকে দেখে মনে হচ্ছিল খেলার ইচ্ছেই নেই তাদের। কোনও মতে জোর করে মাঠে নামানো হয়েছে। চোটের কারণে তাকুমি মিনামিনো, কাওরু মিতোমারা না থাকায় এমনিতেই তারা একটু দুর্বল। তা বলে লড়াইটুকু দেখা যাবে না, এটা অনেকেই প্রত্যাশা করেননি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলাই বদলে গেল। শুরুটা হয় নেদারল্যান্ডসকে দিয়ে। সেটাও জাপানের রক্ষণের ভুলে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস যখন ভার্জিল ভ্যান ডাইক হেড করছেন, তখন জাপানের কোনও খেলোয়াড় তাঁকে মার্ক করেননি। কার্যত ফাঁকায় গোল করে যান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। সাত মিনিট পর। তাকেফুসা কুবো নেদারল্যান্ডসের বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন কিতো নাকামুরাকে। তিনি বল ধরে সামান্য এগিয়ে নিচু শটে পরাস্ত করেন বার্ট ভারব্রুগেনকে। নাকামুরার এক সতীর্থ অফসাইডে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর পায়ে হালকা স্পর্শ লেগে বল গোলে ঢোকে। যদি রেফারি অফসাইড দেননি। কয়েক মিনিট পরে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এ বার গোল করেন ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল। তাঁর গোল আসে অনেকটা আর্জেন রবেনের কায়দায়। জাপানের বক্সে ঢুকে বাঁ দিকে কাট করে বিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন তিনি। জাপানের গোলকিপারের কিছু করারই ছিল না। খেলা শেষ হতে তখন দু’মিনিট বাকি। তিন পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডসকে ফিরতে দিলেন না কোকি ওগাওয়া। তাঁর শট দাইচি কামাদার গায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। পিছিয়েও পড়েও ডালাসে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় জাপান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles