RK NEWZ মহমেডানের মাথায় এখন ১৩ কোটি টাকার দেনা। পাশাপাশি পরের মরসুমের দল গড়ার অর্থও দরকার। কিন্তু ক্লাবের হাতে অর্থ না থাকায় গোটা প্রক্রিয়াটাই বিশ বাঁও জলে। কয়েক মাস আগে নওশাদ জানিয়েছিলেন, ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের পাশে যে ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ততটা মহমেডানের পাশে দাঁড়াননি। তখন দাবি করেছিলেন, চাইলে তিনি স্পনসরের ব্যবস্থা করতে পারেন। পরে হুমায়ুনও মহমেডানের অচলাবস্থা কাটানোর ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। দুই আলাদা রাজনৈতিক দলের বিধায়ককেই চিঠি পাঠানো হয়। এই বছর প্রথম বার যোগ্যতা অর্জন করে আইএসএল খেলার সুযোগ পায় মহমেডান। তবে তাদের খেলা অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল। ট্রান্সফার ব্যান এবং ঠিক করে দল গড়তে না পেরে এ বার আইএসএল থেকে অবনমনও হতে হয়েছে মহমেডানকে। পয়েন্ট তালিকায় সবার নীচে ছিল। গত কয়েক বছর ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিল মহমেডান ক্লাব। তার জেরে আমিরুদ্দিনকে বর্তমান কমিটি থেকে সরে যাওয়ার দাবি বার বার উঠেছিল মহমেডানের সদস্য-সমর্থকদের তরফ থেকে। বিধানসভা ভোটে বিজেপি জেতার পর, যখন নতুন সরকার গঠন হয়, এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এর আগে ক্লাব আর্থিক সাহায্যের জন্য রাজ্যের দুই বিধায়ক আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি এবং হুমায়ুনের কাছে দ্বারস্থ হয়। দুই বিধায়ককে চিঠি পাঠিয়ে নতুন স্পনসর খুঁজে আনার ব্যাপারেও সাহায্য চায় তারা। মহমেডান ক্লাব সূত্রে খবর, ক্লাবের বাকি যে কমিটিগুলি আছে, সেগুলি আগের মতেই থাকছে। শুধু সভাপতি বদল হয়েছে। নতুন সভাপতির অধীনে ক্লাবের কাজকর্ম কী রকম হচ্ছে এবং আর্থিক সঙ্কট মেটে কি না, তা আগামী এক মাস ধরে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। মহমেডান ক্লাবের নতুন সভাপতি হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামিকাল, শনিবার দুপুরে নতুন সভাপতিকে মহমেডান ক্লাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। গত কয়েক দিন ধরে ক্লাবের সদস্য-সমর্থকেরা তৎকালীন সভাপতি আমিরুদ্দিন ববির পদত্যাগের দাবি করছিলেন। তার জেরে শুক্রবার আমিরউদ্দিন পদত্যাগ করেন। তাঁর বদলে ক্লাবের নতুন সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হল হুমায়ুনকে।
এদিকে, সচিব পদেও রদবদল চাইছেন মহমেডান সমর্থকরা। নিজের পদ বজায় রেখে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ থেকে ইস্তিয়াক আহমেদ রাজু কিছুই করতে পারেননি ক্লাবের জন্য। বরং অনেকটা ময়দানের তথাকথিত ছবি বিশ্বাসের মতো তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত থাকতেন। রাজুর বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ ক্লাবের তরফে। মহমেডান সমর্থকরাও চাইছেন না ইস্তিয়াক রাজুকে। দানীশ ইকবালকে কাজের মানু্ষ মনে করছেন সাদা কালো শিবির। এক সময়ে সচিব পদে থেকে দারুন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে দানীশ ইকবালের। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ থেকে নিজের স্বার্থে নানান সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে মহমেডান সচিব ইস্তিয়াক আহমেদ রাজুর বিরুদ্ধে। তাই, সচিব পদেও বদল হতে চলেছে? মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রাক্তন সচিব স্বচ্ছ ও সৎ মনোভাবাপন্ন দানীশ ইকবালকে আবার সচিব আসনে দেখতে চাইছেন মহমেডান সমর্থক থেকে শুরু করে ক্লাবকর্তাদের একাংশ।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে জর্জরিত মহমেডান। সেই কারণেই বর্তমান কমিটির পরিবর্তনের দাবি বারবার উঠেছিল সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের পর সেই দাবি আরও জোরাল হয়। আর্থিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে সম্প্রতি ক্লাব কর্তৃপক্ষ আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এবং হুমায়ুন কবিরের কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। পাশাপাশি নতুন স্পনসর খুঁজে আনার ক্ষেত্রেও তাঁদের সহযোগিতা চাওয়া হয়।





