RK NEWZ তরুণজ্যোতির বক্তব্য, অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর জমি কিনেছিলেন। সেই জমির বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি মনোনয়নপত্রের কোথাও। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি একটা জমি বিক্রি করেছিলেন,সেই জমির বিক্রয়মূল্যও মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় আয়ের সঠিক তথ্য গোপন এবং আয় বহির্ভূত সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে হতে গ্রেফতার। সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি। আজ অর্থাৎ শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি। দেবরাজ ও অদিতির সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট চাইল আদালত। ১৯ জুনের মধ্যে দিতে হবে এই রিপোর্ট।
মামলাকারী (অদিতি ও দেবরাজ) আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য: সম্পত্তি হস্তান্তর কোনও অবৈধ কাজ নয়। কেউ অভিযোগ করেনি এর জেরে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ইনকাম ট্যাক্স দফতর বিষয়টি দেখুক।
রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার: রোজগারের উৎস কী জানতে হবে। হঠাৎ এত সম্পত্তি কীভাবে হল প্রশ্ন উঠছে?
মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য: সম্পত্তি নিয়ে হলফনামায় মিথ্যে কথা বলা হলে সেটা ইলেকট্রোরাল অপরাধ হতে পারে ক্রিমিনাল অপরাধ নয়।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত: শেখ শাজাহানের কথা মনে আছে? কেউ ভয়েতে হয়ত অভিযোগ করতে পারেনি, এরা বিধায়ক ছিলেন বলে।
রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার: সম্পত্তি ট্রান্সফার হয়েছে একদিনে। মাত্র একদিনে এত কোটি সম্পত্তি কীভাবে বদল হয়? সেখানে কোনও বেআইনি হস্তান্তর হতে পারে। এত সম্পত্তির টাকা কোথা থেকে জোগাড় হল? এগুলি অরগানাইজ ক্রাইম।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত: সম্পত্তি নিয়ে রিপোর্ট দিন। কেউ অত্যাচারিত হয়েছেন বলে যেহেতু অভিযোগ নেই তাই আপাতত অরগানাইজ ক্রাইম বলা যাবে না
রাজ্যের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি: অদিতি মুন্সির ৪০ লক্ষ এবং দেবরাজের ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ০৪০ টাকা পাঁচ বছরে আয়। অথচ গাড়ি কেনা হয়েছে মোট তিনটি। গাড়ির মূল্য ৭১ লাখ টাকার। আবার সম্পত্তি আছে ১০০ কোটি টাকার। তার অধীনে ওই এলাকার দুই কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে।
শুনানি শেষে রাজ্যের মৌখিক আশ্বাস, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত গ্রেফতার নয় তাদের।
মামলার প্রেক্ষাপট
ভোটের একদিন আগে অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর দাবি, মনোনয়নে সঠিক তথ্য দেননি অদিতি। তরুণজ্যোতির বক্তব্য, অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর জমি কিনেছিলেন। সেই জমির বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি মনোনয়নপত্রের কোথাও। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি একটা জমি বিক্রি করেছিলেন,সেই জমির বিক্রয়মূল্যও মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে লাগাতার সরব হয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, এইসব সঙ্গীরা চুনোপুঁটি। তোলাবাজির মাথা হলেন দেবরাজ। আর দেবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেবরাজ খুব শীঘ্রই গ্রেফতার হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। সিভিক ভলেন্টিয়ার থেকে কাউন্সিলর, রকেট গতিতে উত্থান। দমদম এবং ব্যারাকপুর জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি দেবরাজ চক্রবর্তী কাছের ছেলে সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল। তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগ। বিধাননগর পৌরনিগমের একের পর এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন বিধাননগর পৌরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া। তোলাবাজি, দখলদারি অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করল বাগুইহাটি থানার পুলিশ। এই সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘ডান হাত’ হিসেবেই পরিচিত। একসময় সিভিক ভলান্টিয়ার ছিলেন সম্রাট। দেবরাজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাঁর প্রভাবের কথা শোনা যেত। সিভিক ভলান্টিয়ার বিধাননগর পৌরনিগমের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে কাউন্সিলর হন। এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায়, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে রকেট গতিতে উত্থান হয় সম্রাটের। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দখলদারির অভিযোগ উঠে। রাজ্যে পালাবদল হতেই সম্রাটকে গ্রেফতার করা হল তোলাবাজি, দখলদারির অভিযোগেই। তিনদিন আগে দেবরাজের আর এক ছায়াসঙ্গী অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক প্রোমোটারকে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দারকে একাধিক অভিযোগে পাকড়াও করেছে পুলিশ। দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে লাগাতার সরব হয়েছেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর বক্তব্য, এইসব সঙ্গীরা চুনোপুঁটি। তোলাবাজির মাথা হলেন দেবরাজ। আর দেবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেবরাজ খুব শীঘ্রই গ্রেফতার হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন। দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে হলফনামায় সম্পত্তি নিয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দেবরাজ ও অদিতি। সেই মামলার শুনানিতে এদিন রাজ্যের আইনজীবী হাইকোর্টে বলেন, ১০০ কোটির সম্পত্তি রয়েছে ২ জনের। হাইকোর্ট এই নিয়ে তথ্য চেয়েছে। ১৯ জুনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। ততদিন গ্রেফতার করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য। তারপর কী হবে, তা নিয়ে বাড়ছে গুঞ্জন।





