Saturday, July 4, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শুভেন্দু ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী’!‌ সার্টিফিকেট দিলেন ‘মহাগুরু’!‌ নেপথ্য কারিগর’কে জয়ের কৃতিত্ব দিতে মিঠুনের বাড়িতে শুভেন্দু

শুভেন্দু ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী’ বলেই দরাজ সার্টিফিকেট দেন ‘মহাগুরু’। ছাব্বিশের ভোটের আগে বাংলায় লাগাতার প্রচার করেছেন। একের পর এক বৈঠক করেছেন। অবশেষে বাংলায় প্রথমবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। জয়ের ‘নেপথ্য কারিগর’ মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার সকালে বিজেপির তারকা প্রচারকের নিউটাউনের বাড়িতে যান। ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার আগে নিউটাউনে মিঠুনের বাড়িতে যান শুভেন্দু। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অত্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য, হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য, মা-বোন, দিদি কন্যাকে সুরক্ষিত করার জন্য নিরলস চেষ্টা করেছেন। পরিশ্রমের কোনও সীমা নেই তাঁর। গত ৮-১০ মাস ধরে ইন্ডোর মিটিং করেছেন। গত ৩-৪ মাস ধরে কাজ করে গিয়েছেন তিনি। একের পর এক ব়্যালি, সভা করেছেন। এক বছর ধরে মাইক্রো লেভেলেও কাজ করেছেন। নিশ্চিতভাবে আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি জনগণের আশীর্বাদে, বিজেপি মনোনীত করেছে। নেপথ্যের কারিগরদের মধ্যে অত্যন্ত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যাঁর নাম আসে তিনি নিঃসন্দেহে মিঠুন চক্রবর্তী।” কেন আচমকা মিঠুনের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু, তা স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “জয়ের পর মিঠুনদা আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি বলেছি আপনার জেতানো মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে এসে দেখা করে যাবে। তাই আজ মিঠুনদার সঙ্গে দেখা করতে আসি।” প্রায় ঘণ্টাখানেক কথা হয় দু’জনের। তবে কি বড় কোনও পদ পেতে চলেছেন ‘মহাগুরু’? শুভেন্দু জানান, পদ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই মিঠুনের। কোনও পদ নিতে চান না। এনইসির সদস্য। দল তাঁকে পদ দিয়েছে। একথা শুনে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন মিঠুন। হাসিমুখে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাঁধে হাত রাখেন। শুভেন্দুকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন ‘মহাগুরু’। তিনি বলেন, “এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে হতে পারে না। যে মুহূর্ত থেকে শপথ নিয়েছেন তারপর থেকেই কাজ করছেন। আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না। আমরা আশীর্বাদধন্য যে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পেয়েছি। আগামি দিনেও দেখুন কী হয়। ইনি যোদ্ধা। আর আমি তো আছিই পাশে লড়ার জন্য।” বলে রাখা ভালো, এর আগে গত বুধবারও বাংলার বিজেপি সরকারের প্রশংসা করেন মিঠুন। এদিকে, মিঠুনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা ডায়মন্ড হারবারের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু।

প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করতে এদিন ডায়মন্ড হারবারে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুপুর ১টায় বৈঠক পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে। ডায়মন্ড হারবারের বিধায়কদেরও বৈঠকে ডাকা হয়েছে বলে খবর। এদিনই ডায়মন্ড হারবারের মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক ঘোষণাও যে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন তা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। ডায়মন্ড-হারবার, সুন্দরবন ও বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ আধিকারিক ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে এক দফা বৈঠক করতে পারেন। এছাড়াও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা বিধায়কদের নিয়েও আরও একদফা বসতে পারেন তিনি। এই এলাকার যে সমস্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলছে সেগুলি সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন বলে খবর। হতে পারে পর্যালোচনা বৈঠক। সেখান থেকেই একাধিক প্রকল্প, কর্মসূচির ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। শুভেন্দু অধিকারী যখন ডায়মন্ড হারবারে ঢুকবেন তখন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রচুর কর্মীরা জোড়ো হতে পারেন। তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ। এছাড়াও যে আবাসিক হোটেলে পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক বৈঠক চলবে সেখানেও রীতিমতো কড়াকড়ি করা হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র হিসাবে বরাবরই চর্চায় থাকে এই ডায়মন্ড হারবার। তাঁর ডায়মন্ড হারবার মডেলকে সামনে রেখে প্রচারে ঝড়ও তুলেছিল তৃণমূল। এখন অভিষেকের লোকসভা কেন্দ্র থেকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি শুরু হতেই তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আঙিনাতেও। ডায়মন্ড হারবার থেকেই শুভেন্দু আবার এদিন চলে যাবেন ফলতায়। ভোটের আগে সেখানে রয়েছে কর্মিসভা।

ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগকে মর্যাদা দিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে তাঁর একটি কর্মসূচিকে শিখণ্ডি করে হঠাৎ বন্ধ করা হয়েছিল গীতাপাঠের আসর। কিন্তু শুভেন্দু নিজেই হস্তক্ষেপ করে চালু রেখেছেন সেই ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গত ১১ মে থেকে ধনধান্যে শুরু হয়েছে এক সপ্তাহব্যাপী ‘পুষ্টিশ্রী শ্রীমদ্ভাগবত কথা’। ভবানীপুর এলাকার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, প্রধানত মারোয়াড়ি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের প্রায় দুই হাজার ভক্ত প্রতিদিন এই আধ্যাত্মিক আসরে যোগ দিচ্ছেন। ১৭ মে, তথা আগামী রবিবার এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ হঠাৎ ধনধান্য অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফে আয়োজকদের জানানো হয়, ১৭ তারিখের হল বুকিংটি বাতিল করা হয়েছে। ওইদিন ওই অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান রয়েছে বলে হল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা, যিনি এখনও বড় সরকারি পদে রয়েছেন, তাঁর নির্দেশেই গীতাপাঠের অনুষ্ঠানটি আচমকা বন্ধ করা হয়। প্রায় ছ’মাস আগে থেকে হল বুক করে হওয়া ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠান মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে বাতিল করার কথা জানানোয় চাঞ্চল্য পড়ে।জেলে মোবাইল ফোনে তৃণমূলের ‘স্ট্রং’ নেটওয়ার্ক? রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই অ্যাকশন মুডে বিজেপি সরকার। একের পর এক বড় পদক্ষেপ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার প্রেসিডেন্সি জেলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুভেন্দুর। জেলে বসেই অপরাধের নেটওয়ার্ক চালানো হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রেসিডেন্সে জেলে গোপনে অভিযান চালিয়ে ২৩টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের তরফেই প্রশ্ন ওঠে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সনাতনী আদর্শে বিশ্বাসী এবং ওই ভবানীপুর কেন্দ্রেরই বিধায়ক, সেখানে তাঁর কর্মসূচির দোহাই দিয়ে কেন এমন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হবে? আয়োজকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, এত অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের পক্ষে বিকল্প জায়গা ঠিক করা অসম্ভব এবং এভাবে অনুষ্ঠানটি বাতিল হলে মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। শুক্রবার রাতেই বিষয়টি শুভেন্দুর নজরে যেতে তিনি তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করেন। প্রশাসনের আধিকারিকদের শুভেন্দু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ১৭ মে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গীতাপাঠের আসর চলবে। প্রয়োজনে সরকারি কর্মসূচির সময় ও স্থানের পরিবর্তন করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উদ্যোক্তাদের ভাবাবেগকে আঘাত করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত আয়োজকরা। বেশি রাতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী তথা তাঁদের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপে তারা উল্লসিত। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করলেন তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন সনাতনী। তাঁর হস্তক্ষেপেই অনুষ্ঠানটি সাতদিনের পূর্ণতা পাচ্ছে। রবিবার বিকেল চারটে থেকে সন্ধ্যে সাতটা পর্যন্ত যথারীতি গীতাপাঠের আসর চলবে বলে আয়োজকদের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles