ভারতের সর্বকালীন সেরা ক্রীড়াবীদদের অন্যতম। ১৮টা গ্র্যান্ড স্লাম এবং অলিম্পিক্সে পদকজয়ী এবার, বিজেপিতে নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করলেন, টেনিস কিংবদন্তি, লিয়েন্ডার পেজ। ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে, মঙ্গলবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন তিনি। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন লিয়েন্ডার পেজ, যুবভারতীকাণ্ডে মুখ খুললেন লিয়েন্ডার পেজ। তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখ হয়, পশ্চিমবঙ্গে মেসিকে অসম্মান করা হল। আমার পশ্চিমবঙ্গকে এত অসম্মান হতে হবে কেন?সৌরভদা, স্নেহাশিসদা বা কোনও খেলোয়াড় ক্রীড়া মন্ত্রী হলে এসব হত না’। যুবভারতীকাণ্ডে মন্তব্য বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন টেনিস খেলোয়াড় লিয়েন্ডার পেজের। বিজেপিতে যোগ দিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। দিল্লির বিজেপি দফতরে সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেন লিয়েন্ডার পেজ। পদ্ম পতাকা হতে ধরার পর লিয়েন্ডার বলেন, “৪০ বছর দেশের জন্য খেলেছি। এবার নতুন খেলার সুযোগ। দেশসেবার সুযোগ পাব। দেশ ও দেশের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করব।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কিরেণ রিজিজু বলেন, “বিজেপিতে লিয়েন্ডারের যোগদান ঐতিহাসিক। এবার বিজেপিতে বড় ইনিংস খেলবেন তিনি। ভোট ময়দানেও তাঁর সহায়তা পাব বলে আশা করছি। পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনে লিয়েন্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন।”
২৪ মার্চ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন যখন কলকাতায় এসেছিলেন, সেই সময়ে লিয়েন্ডার সাক্ষাৎ করেছিলেন তাঁর সঙ্গে। তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল লিয়েন্ডারকে নিয়ে। কবে বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা নিয়ে চলছিল চর্চা। সেই জল্পনার অবসান ঘটল মঙ্গলবার। লিয়েন্ডার শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন টেনিস তারকা নন। তিনি হয়ে ওঠেন এক অনুভবের প্রতীক। টেনিস কোর্টে তাঁর প্রতিটি লড়াই হয়ে ওঠে সমষ্টির বহিঃপ্রকাশ। কে ভুলতে পারেন ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিক থেকে তাঁর ব্রোঞ্জ আনার আখ্যান। জাতীয় পতাকার নীচে লিয়েন্ডারই শিখিয়েছেন, জয় কেবল স্কোরবোর্ডেই খোদিত থাকে না। তা লেখা হয় মানুষের মনে। সেই জয়ের রেশ থেকে যায় চিরকাল।
সুকান্ত মজুমদার এবং কিরেন রিজিজুর হাত ধরে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। তারপর সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। সল্টলেকে রাজ্য বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন লিয়েন্ডার। সেখান থেকে বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
লিয়েন্ডার বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন। আমি তাঁকে বলেছি, আমি বাংলাকে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ বানাতে চাই না, বাংলার যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই, যাতে ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্য বা দেশে চলে না যায়। ১৯০০ সালে নরম্যান প্রিচার্ড কলকাতায় জন্ম নিয়ে অলিম্পিকে অংশ নেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র চারজন অলিম্পিক পদক জিতেছেন। আমরা কী করছি নতুন প্রজন্মের জন্য? আমরা অন্য খেলাগুলোর জন্য কী করছি? বাংলায় অলিম্পিক স্পোর্টসের জন্য আমরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি? এখানে একটি স্থায়ী ইনডোর টেনিস কোর্টও নেই। বর্ষা আর গরমে ছয়-সাত মাস খেলাই সম্ভব হয় না।’
তাঁর দাবি, ‘আমি চাই বাংলায় স্পোর্টস, স্পোর্টস এডুকেশন, ইন্ডাস্ট্রি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে উঠুক। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। আমি সেই ভিশনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত এবং দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং, মহিন্দ্রা, কাস্টমস এই শহরের ঐতিহ্য অপরিসীম। আমার মা-বাবা ভারতের হয়ে খেলেছেন। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল, একদিন দেশের জন্য খেলব। এবার সেই পরিশ্রম আমি যুবদের পিছনেও করতে চাই।’ পদ্ম পতাকা হতে ধরার পর লিয়েন্ডার বলেন, ‘৪০ বছর দেশের জন্য খেলেছি। এবার নতুন খেলার সুযোগ। দেশসেবার সুযোগ পাব। দেশ ও দেশের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করব।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কিরেণ রিজিজু বলেন, ‘বিজেপিতে লিয়েন্ডারের যোগদান ঐতিহাসিক। এবার বিজেপিতে বড় ইনিংস খেলবেন তিনি। ভোট ময়দানেও তাঁর সহায়তা পাব বলে আশা করছি। পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনে লিয়েন্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন।’ বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা নিয়ে চলছিল চর্চা। সেই জল্পনার অবসান ঘটল। লিয়েন্ডার শুধুমাত্র একজন প্রাক্তন টেনিস তারকা নন। তিনি হয়ে ওঠেন এক অনুভবের প্রতীক।
টেনিস কোর্টে তাঁর প্রতিটি লড়াই হয়ে ওঠে সমষ্টির বহিঃপ্রকাশ। কে ভুলতে পারেন ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিক থেকে তাঁর ব্রোঞ্জ আনার আখ্যান। জাতীয় পতাকার নীচে লিয়েন্ডারই শিখিয়েছেন, জয় কেবল স্কোরবোর্ডেই খোদিত থাকে না। তা লেখা হয় মানুষের মনে। সেই জয়ের রেশ থেকে যায় চিরকাল।
উল্লেখ্য, ১৪ বছর পর, গত ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কলকাতায় আসেন লিওলেন মেসি। তাঁর ৩ দিনের সফরের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘GOAT ট্যুর অফ ইন্ডিয়া’। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নির্ধারিত সময়েই যুবভারতীতে পৌঁছে যান মেসি, সুয়ারেজ, ডি’পল-রা। সেদিন প্রায় ঘণ্টা দেড়েক স্টেডিয়ামে থাকার কথা থাকলেও, মেসিকে ঘিরে নেতা, মন্ত্রী, তাঁদের অনুগামী, ভিআইপি, পুলিশের থিকথিকে ভিড় এবং তার জেরে তৈরি হওয়া চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলায় মাত্র ১৭ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিন তারকা ফুটবলার।
তারপরের ঘটনা সকলেরই জানা! হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে এক ঝলক দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে-রাগে তাণ্ডব শুরু হয় গোটা যুবভারতী জুড়ে। যুবভারতীতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যখন মেসির সঙ্গে মাঠে সেভাবে নামতেই পারেননি, তখন মুম্বইয়ের মাঠে মেসির হাতে সচিন তেন্ডুলকরের তাঁর জার্সি তুলে দেওয়ার অংশ জ্বলজ্বল করছে লিওর পোস্ট করা ভিডিওয়।
লিয়েন্ডার পেসের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে বিজেপি বলছে, নির্বাচনের আগে হাওয়া গেরুয়া হচ্ছে। এদিকে, লিয়েন্ডার বিজেপিতে যোগদানের পরই, তৃণমূল X পোস্টে লিখছে, আরও এক বহিরাগতকে প্যারাশুটে করে পশ্চিমবঙ্গে আনল বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ২০২১-এর ২৯ অক্টোবর, গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, তৃণমূলে যোগ দেন, লিয়েন্ডার পেজ। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত থেকে ঘাসফুলের পতাকা তুলে নেন। ৫ বছরের মাথায়, এবার বিজেপির কোর্টে লিয়েন্ডার পেজ।





