Saturday, June 20, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চাই!‌ পছন্দের রাজনীতিবিদ!‌ ব্যক্তিত্ব আর ক্ষুরধার বুদ্ধির ইন্দিরা গান্ধী, জ্যোতি বসু

তারকা ভোটার। তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে তেমনই তারকা ভোটার অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী উত্তর দিলেন অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
গার্গী রায়চৌধুরী: এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চাই। কারণ, ওঁর ব্যক্তিত্ব, বা দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা আমাকে আকৃষ্ট করে।

সব রকম চরিত্রে আপনি সমান সাবলীল। অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন কী করে?
গার্গী: ১২-১৩ বছর বয়স থেকে মানুষকে লক্ষ করার একটা খেলা খেলি আমি। নাটকের লোক। ‘বহুরূপী’তে অভিনয় করেছি। থিয়েটারে জাতীয় স্কলারশিপ পেয়ে দিল্লি গিয়েছি। তাই বরাবরই মানুষ অবজ়ার্ভ করার কাজটা চালিয়ে যাই। খুব কম বয়স থেকে ভীষণ পরিণত মানুষদের সঙ্গে মিশেছি। তাই আমার কিছু আদর্শ তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমি ‘না’ বলতে শিখেছি। নিজের মনের মধ্যে একটা ছবি রয়েছে, কোন কোন পরিচালকের সঙ্গে আমার কাজ করতে ভাল লাগবে। তার বাইরে যাই না।

আপনি কি তা হলে ঝুঁকি নেন না?
গার্গী: ঝুঁকি তো নিই। কিন্তু জেনেবুঝে নয়। ‘বহুরূপী’র ‘পিরিতি পরমনিধি’ করেছিলাম যখন খুব ছেলেমানুষ। না বুঝেই করেছিলাম, খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। সে সময় ধীরেনদা (দাস) খুব মজা করে গান শেখাতেন। তখন কিন্তু বুঝিনি। আসলে এখনও আমি সুর বুঝি না। কিন্তু কোথায় সুর থেকে এ দিক-ও দিক হল, সেটা ধরতে পারি। জীবনেও তাই সংযমটা রয়েছে। কোথায় মাত্রা টানতে হবে জানি। নাটকে রিহার্সাল করতে হয়, কিন্তু সিনেমায় অভিনয় হবে নির্ভার। তাই খুব বেশি রিহার্সাল দিই না। তা ছাড়া মিতালির মতো চরিত্র তো আমাদের চারপাশেই ঘুরছে। তাদের দেখেই শিখি।

এত বছরে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের কী বুঝলেন?
গার্গী: ভাল, সবাই খুব ভাল।

সকলেই খুব ভাল বলছেন?
গার্গী: যখন আমার মনে হয়, কেউ কিছু খারাপ করছেন, আমি চেষ্টা করি, আমার দিক থেকে যেন সেই ভুলটা না হয়। আসলে সব ইন্ডাস্ট্রিতেই অনেক কিছু ঘটে। আমরা প্রচারের আলোয় থাকি বলে সমালোচনাও বেশি হয়। তবে আমি যেমন চাই না কেউ সারা ক্ষণ আমার সমালোচনা করুন, আমি সহজে কাউকে নিয়ে কোনও ধারণা তৈরি করতে চাই না। চেষ্টা করি বোঝার এক জন মানুষ কেন কোনও খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে নিজেদের আরও একটু সাবধান হওয়া জরুরি। কারণ, শেষ দিন পর্যন্ত আমার কাজটাই তো আমার পরিচয় হয়ে থেকে যাবে।

দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
গার্গী: যদি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখটাই মাথায় ভাসে, তা হলে ওঁর মুখটাই আসল। ওঁর দল যেখানে থাকবে, সেখানেই ভোট দেব।

প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
গার্গী: সকলের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। সর্বার্থে, সব জায়গায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। যেমন, পোড়খাওয়া অভিনেতাদেরও প্রত্যেক চরিত্রে অভিনয়ের আগে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রয়োজনীয়তা সব বিভাগে, সর্ব ক্ষেত্রেই দরকার। কারণ, প্রশিক্ষণই পারে ব্যক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। একই ভাবে পরীক্ষারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভোটটাই তো প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা। নাগরিকত্বের অধিকারপ্রয়োগ।

গার্গীর সঙ্গে কাজ করা মুশকিল’ বলে ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার একটু বদনাম রয়েছে?
গার্গী: কাজ তো অনেকেই করছেন। আমি যেমন সকলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী নই, সকলেই বা আমার সঙ্গে কাজ করবেন কেন? তবে আমার সঙ্গে কাজ করতে এত অসুবিধা হলে কিন্তু এত জন পরিচালক আমার সঙ্গে কাজ করতেন না। তা ছাড়া, কোনও দিনই আমি সংখ্যায় বিশ্বাসী নই। বছরে দুটো ছবি করি, এ বছর তিনটে হয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটা চরিত্র কিন্তু দর্শকের মনে আছে। এখন অপেক্ষায় রয়েছি ভাল কোনও ওয়েব সিরিজের।

অভিনেত্রীরা খুব স্পষ্টবক্তা হলে কি ইন্ডাস্ট্রিতে মুশকিলে পড়তে হয়?
গার্গী: কোনও মানুষই খুব বেশি স্পষ্টবক্তা হলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। তাই একটা ভারসাম্য বজায় রেখে চলা প্রয়োজন। ১৮ বছর বয়সে মনে হত, সব তছনছ করে দিই। কিন্তু বয়সের সঙ্গে বুঝেছি, এগুলোর কোনও প্রয়োজন নেই। পৃথিবী নিজের নিয়মে চলবে। সব সময় সব কথা স্পষ্ট বলে দেওয়াটাও ঠিক হয় না।

নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
গার্গী: আমি তো কখনও ভাবিনি যে বিধায়ক হব। তাই আমার কিছু বদলানোরও প্রশ্ন নেই।

আপনার পেশা জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
গার্গী: বিশ্বাস করুন, এ নিয়ে কখনও ভেবে দেখিনি। কোনও দিন ভেবে দেখলে তখন না হয় উত্তর দেব।

এত বছর ধরে গার্গী রায়চৌধুরীর চেহারা একই রকম। কী করে?
গার্গী: আমি খুব সহজ মনের মেয়ে। খুব সহজ কিন্তু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে বিশ্বাসী। ব্রাউন রাইস বা কিউয়ি খাই না। নিমবেগুন বা পেয়ারা খেতে ভালবাসি। বিয়েবাড়ি থেকে ফিরেও কেষ্টার হাতের মাছ-ভাত খেতেই ভালবাসি। তবে আইসক্রিম পেলে ছাড়ি না। পাহাড়ে বেড়াতে যাই। ঠিক সময়ে ঘুম, শরীরচর্চা এগুলো করি। সবচেয়ে বড় কথা, যা অপছন্দ, তা করি না একদমই। সে কারণেই বোধহয় চেহারায় একটা ছাপ পড়ে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
গার্গী: স্বচ্ছ নির্বাচন আর স্বচ্ছতা। একমাত্র এগুলোই পারে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে।

ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
গার্গী: শুধু রাজনীতিতে কেন! মুখবদল, দলবদল তো হামেশাই সর্বত্র চলতে থাকে। আমার কাছে আসল হল নাগরিকত্বের অধিকার এবং তার প্রয়োগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles