প্রশাসনিক মহলে সোনিয়া সিং পরিচিত কঠোর ও নিয়মমাফিক অফিসার হিসেবে। তদন্তে কোনও ফাঁক না রেখে ধাপে ধাপে এগোনোর জন্যই তিনি বিশেষ পরিচিত। মালদহের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়েই তদন্ত করাতে হবে কমিশনকে। এর পরেই এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শুক্রবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং।
কে এই সোনিয়া?
২০২৪ সালের শেষদিকে এনআইএ-তে যোগ দেন সোনিয়া সিং। নাগাল্যান্ড ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসার আগে উত্তর-পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। নাগাল্যান্ডে ডিআইজি ও পরে আইজি পদে থেকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা এবং জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। অনেকের মতে, সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এনআইএ-র মতো সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসে।
প্রশাসনিক মহলে সোনিয়া সিং পরিচিত কঠোর ও নিয়মমাফিক অফিসার হিসেবে। তদন্তে কোনও ফাঁক না রেখে ধাপে ধাপে এগোনোর জন্যই তিনি বিশেষ পরিচিত। সূত্রের খবর, তিনি কলকাতার রাজারহাটে এনআইএ-র আঞ্চলিক দফতরে অন্যতম অভিযুক্তদের জেরা তদারকিও করেছেন।
কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানান। তার পরেই বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলাটি শুনতে চায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না পারায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। মালদহের ঘটনায় সিবিআই বা এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর কথা কমিশনকে বলে শীর্ষ আদালত। সেই সঙ্গে আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে, এসআইআরের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের বা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে তাঁদের বাসভবনেরও। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিচারকদের পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার মালদহের পাশাপাশি রাজ্যের আরও কিছু জায়গায় সংঘাত শুরু হয়েছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইও, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কমিশন আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তার পরপরই নির্বাচন কমিশন ঠিক করে নেয়, ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ। সেই মোতাবেক শুক্রবার বেলা গড়ানোর আগেই কলকাতায় এসে পৌঁছন এনআইএ-র দুঁদে অফিসার আইজি সোনিয়া সিং। সূত্রের খবর, পূর্ব ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে মালদহ ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে অপরাধচক্র ও সম্ভাব্য জঙ্গি যোগের দিকটি খতিয়ে দেখতে চাইছে এনআইএ। সেই কারণেই কলকাতা ও মালদহের একাধিক অভিযানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজ্য পুলিশের সিআইডি ও এসটিএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্য সংগ্রহ, অভিযুক্তদের জেরা এবং তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিংয়ের নেতৃত্বেই।





