Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রাণভরা আশীর্বাদ করলেন রানির ‘বুম্বজ’! চাইব ছোট্ট পুতুল যেন মহারানির মতো থাকে আজীবন:‌ প্রসেনজিৎ

২১ মার্চ অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। অভিনেত্রীর বিশেষ দিনে তাঁর ছোটবেলায় ফিরে গেলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ‘জানকি কুটীর’-এ প্রথম দেখেছিলাম ছোট্ট রানিকে। একেবারে পুতুলের মতো দেখতে ছিল। তখন ওর বয়স দুই-আড়াই বছর হবে। আমার বাবা মানে বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাম মুখোপাধ্যায় (রানির বাবা) এবং ইন্ডাস্ট্রির বেশ কয়েক জন বন্ধু মিলে সপ্তাহের শেষে আড্ডা দিতে বসতেন। সেখানে কখনও কখনও আমরাও যেতাম। সেই সূত্রেই ওঁদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ছুটি পেলে যখন রানিরা কলকাতায় আসত, তখন সময় পেলে আমাদের বাড়িতেও ঘুরে যেত। রানির দাদা রাজা তখন কিছুটা বড়। আমার বাড়িটা ছিল ওদের ‘ডেন’। সবাই মিলে লুকোচুরি খেলত ওরা। ওদের তো চোখের সামনে বড় হতে দেখলাম। একটা মজার ঘটনা কিছুদিন আগে বলেছিলাম, ও আমায় ছোট থেকেই ‘বুম্বজ়’ বলে ডাকে। ছোট্টবেলায় আমার বাড়িতে এলে ও আমার মাকে বলত, ‘আমি বুম্বজ়কে বিয়ে করব’। মা বলতেন, ‘তুই যখন বড় হবি, বুম্বজ় তো বুড়ো হয়ে যাবে’! তখন স্পষ্ট জবাব দিত। সেই উত্তর এখনও বলতে গেলে আমার হাসি পায়। ও বলত, ‘গোদরেজ লাগা দেনা’। মানে আমি বুড়ো হয়ে গেলে আমার মাথার পাকাচুলে নাকি কালো র‌ং করে নেবে।

আমার আর দেবশ্রীর বিয়ের সময়ে রানির সম্ভবত ১৫ বছর বয়স। তখন আবার সম্পর্কে আমি ওর মেসো। এক দিন রামদা এসে বললেন ‘বিয়ের ফুল’ ছবির কথা। তার পরে জানতে পারলাম, ওই ছবিতে রানিই আমার নায়িকা। কেউ কেউ জানেন, আবার অনেকেই জানেন না— এই বাংলা ছবি দিয়েই ওর অভিনয়জগতে পা রাখা। রানির প্রথম ছবি। শুরু হল শুটিং। সেই ছবির শুটিং ফ্লোরে সারা ক্ষণ মজা হত। বিশেষ করে প্রেমের দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়ে। ওর বাবা, মানে রামদা, তো বছর আঠারোর মেয়েকে ‘রোমান্টিক’ দৃশ্য বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আমার কাঁধে দায়িত্ব এল। আমি যেন রানিকে বোঝাই , কী ভাবে প্রেমের দৃশ্যে অভিনয় করবে। তার পরেই তো হিন্দিতে ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’ ছবিতে অভিনয় করে। এর পর একে একে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করে ও। ‘গুলাম’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’— সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তখন রানি এগিয়ে চলছে। অভিনেত্রী রানির নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে ওর অভিনয় আমার মনে আজও গেঁথে রয়েছে। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরেও কথা হয়েছে রানির সঙ্গে। ওর মেয়ে হওয়ার পরেও দেখা হয়েছিল। ছোট্ট রানি এখন বড় হয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও ও মানুষটা একই আছে।

রানিকে আমি মানুষ হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রাখব। পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে ভালবাসে, সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। কিছু দিন আগে রানির মা মানে কৃষ্ণাদির ৭৫ বছরের জন্মদিনের উদ্‌যাপনেও গিয়েছিলাম। সেখানেও একই ভাবে দেখেছি ওকে। কিছু দিন আগে কলকাতাতেও একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল। আমাকে দেখতে পেয়েই আগে এসে প্রণাম করল। আমিও সেই একই ভাবে কাছে টেনে নিলাম। আমি এখনও ভাবতেই পারি না যে, রানি বড় হয়ে গিয়েছে। এখনও মনে হয়, সেই ছোট রানিই আছে বুঝি! ওর জীবনে সাফল্য এসেছে ঠিকই। কিন্তু, মানুষটার এখনও কোনও পরিবর্তন হয়নি। পরস্পরের কাজ নিয়েও কথাবার্তা হয়। অনেকটা সময় আমরা হয়তো পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু সমীকরণে কোনও বদল আসেনি। আমি এখনও সেই ওর বুম্বজ়। ও আমার ছোট্ট পুতুল। আসলে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক তো শুধু এক সময় আমার নায়িকা হয়েছে, সেই হিসাবেই নয়। আমি যে প্রান্তেই থাকি না কেন, ওর প্রায় সব ছবি দেখার চেষ্টা করি। দেখে আমার প্রতিক্রিয়াও জানাই। কেমন লাগল, মেসেজ করলে সঙ্গে সঙ্গে আসে উত্তরও। আজ রানির জন্মদিন। ওকে অনেক শুভেচ্ছা, ভালবাসা, আশীর্বাদ জানাই। সেই ফ্রক পরা ছোট্ট পুতুল সারা জীবন ‘মহারানি’র মতোই থাকুক। মাথা উঁচু করে বাঁচুক। অভিনেত্রী রানি আরও বড় হোক। আর ওর মধ্যে যে সুন্দর একটি মানুষ রয়েছে, তাকে বাঁচিয়ে রাখুক।

কলকাতায় এসেছেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। বোনঝি এসেছে শহরে। তাই সকাল থেকে মাসি দেবশ্রী রায় ব্যস্ত। কাজের যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন এ দিনটা শুধুই মাসি আর বোনঝির। রানি শহরে পা রাখতেই, তাঁকে নিয়ে কালীঘাটের মায়ের কাছে পুজো দিতে ছুটলেন দেবশ্রী। তাঁর কাছে আর কী কী আবদার করলেন বলিউডের নায়িকা? রানিকে ফুচকা খাওয়াবেন ভেবেছিলেন দেবশ্রী। কিন্তু সেটা এই বার হচ্ছে না। সেই আক্ষেপের সুরই শোনা গেল দেবশ্রীর কণ্ঠে। অভিনেত্রী বলেন, “২০২৫ সালটা তো খুব একটা ভাল যায়নি, তাই পুজো দিতে গিয়েছিলাম। ওর কাজের খুব চাপ। তাই তার পরেই গাড়ি ঘুরিয়ে হোটেলে চলে এলাম। ভাঁড়ে চা খাওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেটাও হল না। তবে রানি বলেছে মার্চে এসে তেলাপিয়া মাছের ঝোল খাবে আর ফুচকা খাবে।” এখন বোনঝিকে দেখলেই বার বার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায় দেবশ্রীর। অভিনেত্রী যোগ করেন, “ছোটবেলায় রানি যা কাঁদত। ভাবতেই পারিনি বড় হয়ে এমন এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হবে ও। রানি যখন ছোট, আমিও তখন বাচ্চা। সবাই ওকে কোলে নিত, সেটা দেখে আমারও ইচ্ছা হত। মুম্বইয়ে গেলে ওর হাত টেনে টেনে নিয়ে আমি ঘুরতাম। আর দিদি বকত আমাকে, ‘ওর হাত যে খুলে যাবে’। এখনও সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে বেশ অন্যরকম লাগে। আজ একটু মনখারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল, ঝুমা থাকলে আমাদের সঙ্গে ও-ও যেত।” কয়েক দিন আগে দেবশ্রীও মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন। রানির মা অর্থাৎ দিদির জন্মদিন উপলক্ষে। অভিনেত্রী জানালেন, মার্চ মাসে আবার কলকাতায় আসবেন রানি। তখন বোনঝির সব পছন্দের জিনিস সাজিয়ে রাখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles