কলকাতা সিপির ‘রুটিন পুলিশিং’। শহরের ১০টি ডিভিশনের ১০৯টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে নাকা তল্লাশি। তবে এটা বিশেষ কোনও উদ্যোগ নয়। কলকাতা শহরে রাতের নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে পুলিশ। চলছে নাকা তল্লাশি। সেই প্রক্রিয়া ঘুরে ঘুরে দেখছেন পুলিশ কমিশনার (সিপি) সুপ্রতিম সরকার নিজে। বৃহস্পতিবার রাতে ধর্মতলার মোড়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে এই ধরনের ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একসঙ্গে অনেক পুলিশ রাস্তায় থাকছেন। সুপ্রতিম জানিয়েছেন, শহরের ১০টি ডিভিশনের ১০৯টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে নাকা তল্লাশি বিশেষ কোনও উদ্যোগ নয়। একে ‘রুটিন পুলিশিং’ বলে উল্লেখ করেছেন সিপি। এর পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ‘অন রুট পুলিশিং’ বা ওআরপি। সুপ্রতিম জানান, শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআরপি পুলিশের নতুন উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ওসি, ডিসি এবং এসি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকেরা একসঙ্গে নামছেন। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি, পুলিশের কাজ খতিয়ে দেখা। তল্লাশি প্রসঙ্গে সিপি বলেন, ‘‘রোজ যেমন হয়, তেমনই হচ্ছে। এটা রুটিন পুলিশিং। তবে নিয়মিত টহলদারির পাশাপাশি আমরা অন রুট পুলিশিং চালু করেছি। সেটা রুটিনের বাইরে। একসঙ্গে অনেক পুলিশ রাস্তায় থাকছে, যাতে মানুষ ভরসা পান। এটা চলবে।’’ কলকাতার পাসপোর্ট অফিসে হুমকি ইমেল থেকে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার শহরের নগরদায়রা আদালতেও একই ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সুপ্রতিম বলেন, ‘‘কোথাও হুমকি মেল এলে আমাদের কিছু নিয়ম মানতে হয়। এসওপি মেনে কাজ করতে হয়। সেই মতো বম্ব স্কোয়াড গিয়েছিল। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। কে বা কারা এটা করেছে, সেটা দেখছি। এসটিএফ এই তদন্তের ভার নিয়েছে। ফলে বিস্তারিত বলতে পারছি না। তদন্ত চলছে।’’
ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। প্রায় তিন মাস পরে পুলিশ সুপার পেল পূর্ব মেদিনীপুর। পাশাপাশি, নতুন দায়িত্ব দেওয়া হল কোচবিহারের প্রাক্তন এসপি দ্যুতিমান ভট্টাচার্যকেও। ভোটের আগে ডিএসপি এবং ইনস্পেক্টর স্তরেও রদবদল করেছে নবান্ন। ডিএসপি স্তরের ২৯ জন আধিকারিককে বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। দায়িত্ব বদলেছে ৩০৭ জন ইনস্পেক্টরেরও। ২৭ নভেম্বর রাজ্য পুলিশে রদবদল করা হয়েছিল। বদল করা হয়েছিল ১০ পুলিশ সুপারকে। এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য। তাঁকে বাঁকুড়ার এসপি করে পাঠানো হয়। তখন থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদটি খালি ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মিতুন দে-কে পূর্ব মেদিনীপুরে পাঠানো হয়েছিল অ্যাডিশনাল এসপি হিসাবে। এত দিন তিনিই ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হিসাবে কাজ করছিলেন। এ বার ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি করে পাঠানো হল পারিজাত বিশ্বাসকে। তিনি এত দিন পুরুলিয়ার ১১ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। মিতুনকে বদলি করে খড়্গপুরে পাঠানো হয়েছে। হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের জন্য ট্রাইবুনালে প্রথম সওয়াল করেন, সেই চিফ প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দিলেন তারেক! কোচবিহারের এসপি ছিলেন দ্যুতিমান। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল ৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট হিসাবে। এ বার তাঁকে ব্যারাকপুরের ডিসি (দক্ষিণ)করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশে মোট ২৩টি রদবদলের বিজ্ঞপ্তি জারি। হাওড়ার ডিসি (ট্রাফিক) থেকে অসীম খানকে সরিয়ে পাঠানো হয়েছে ব্যারাকপুরের ডিসি (উত্তর) করে। ব্যারাকপুরের ডিসি (উত্তর) থেকে গণেশ বিশ্বাসকে পাঠানো হয়েছে হাওড়ার ডিসি (দক্ষিণ) করে। হাওড়ার ডিসি (দক্ষিণ) থেকে সুরিন্দর সিংহকে তিন নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডার করে পাঠানো হয়েছে। অনুপম সিংহ ব্যারাকপুরের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন। তাঁকে হাওড়ার ডিসি (ট্রাফিক) করা হয়েছে। ব্যারাকপুরের ডিসি (এসবি) ছিলেন জয় টুডু। তিনি হোম গার্ড অর্গানাইজ়েশনের সিনিয়র স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই পদে এত দিন ছিলেন পাপিয়া সুলতানা। তাঁকে ব্যারাকপুরের ডিসি (এসবি)করা হয়েছে। দার্জিলিঙের গোর্খা ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) ছিলেন মনোরঞ্জন ঘোষ। তাঁকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যাডিশনাল ডিসি করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) করে পাঠানো হয়েছে আসানসোল দুর্গাপুরের দায়িত্বে থাকা সুব্রত দেবকে। কোচবিহারের অ্যাডিশনাল এসপি হলেন কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায়। রানাঘাটের অ্যাডিশনাল এসপি হলেন কৃষ্ণগোপাল মীনা। মুর্শিদাবাদের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) করা হয়েছে সুমন্ত কবিরাজকে। এ ছাড়া, নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন জলপাইগুড়ি (গ্রামীণ)-এর অ্যাডিশনাল এসপি উত্তম ঘোষ, কৃষ্ণনগরের (গ্রামীণ) অ্যাডিশনাল এসপি সুরজিৎ কুমার দে, রায়গঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি সমীর আহমেদ, পূর্ব বর্ধমানের অ্যাডিশনাল এসপি (ট্রাফিক) লাল্টু হালদার, খড়্গপুরের অ্যাডিশনাল এসআরপি মিতুনকুমার দে, বনগাঁর এসডিপিও অভিষেক যাদব এবং পূর্ব বর্ধমানের এসডিপিও (কালনা) দেশমুখ রোশন প্রদীপ।





