ছবিটা এরকম হওয়ার কথা ছিল! ইডেন গার্ডেন্সের বাইশ গজের ওপর দাঁড়িয়ে টস করতেন লিটন দাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অধিনায়ক শাই হোপের সঙ্গে। বাংলাদেশে হিন্দু নিধন ও হিন্দুদের ওপর নিপীড়নের আবহে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেঁটে ফেলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আইপিএলের নিলামে যাঁকে ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশ পাওয়ার পর বাঁহাতি পেসারকে ছেড়ে দেয় কেকেআর। বাংলাদেশে যে প্রবল ভারত-বিদ্বেষী হাওয়া বইছে, তার প্রতিবাদ স্বরূপ। যার জেরে ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করে বাংলাদেশ। মধ্যস্থতা করার প্রয়াস ব্যর্থ হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ নেয় আইসিসি-ও। টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। পরিবর্ত হিসাবে আচমকা বিশ্বকাপে খেলার দরজা খুলে যায় যে দলের সামনে, শনিবার তারাই ইডেন গার্ডেন্সে নামল প্রথম ম্যাচে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে স্কটল্যান্ড হেরে গেলেও, মন জিতে নিল তাদের লড়াই। আর ১৮ হাজার ১১৪ ক্রিকেটপ্রেমী মাঠে বসে দেখলেন সেই লড়াই। পুলিশ কর্মী, সাংবাদিক, সিএবি সদস্যদের ধরলে সংখ্যাটা প্রায় ২০ হাজারের কাছাকাছি।

অথচ ফাঁকা ইডেনের ছবি পোস্ট করে তীব্র বিদ্রুপ করল বাংলাদেশ! ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচে ইডেনের ফাঁকা দর্শকাসনের ছবি পোস্ট করে খবর করেছে যে, বাংলাদেশ নেই বলেই গ্যালারির এই অবস্থা। বাংলাদেশহীন বিশ্বকাপ হারিয়েছে জৌলুস, নেই উন্মাদনা, এমন দাবি করে একের পর এক ছবি ও খবর পোস্ট করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সেই খবর উড়িয়ে দিল সিএবি। পাল্টা শুনিয়ে দিল, ভাল সংখ্যক মানুষ ইডেনে এসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয় দেখে গেলেন। সিএবি কর্তাদের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ হচ্ছে না জেনেও যে এত মানুষ খেলা দেখতে মাঠে এসেছেন, সেটা কলকাতায় বলেই সম্ভব। বাংলাদেশ থাকলে কলকাতায় আরও একটু উন্মাদনা থাকত মেনে নিয়েও সিএবি জানিয়েছে, ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ইডেনে সোমবার সকাল ১১টা থেকে স্কটল্যান্ড বনাম ইতালির ম্যাচ। সেই ম্যাচেও স্টেডিয়াম পুরো ফাঁকা থাকবে না বলেই আশা সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। বলছিলেন, ‘স্কটল্যান্ড বনাম ইতালি ম্যাচেও লোক হবে মাঠে।’

সৌরভ বলছিলেনন, ‘১০ বছর পর টি-২০ বিশ্বকাপের আয়োজন করছে ভারত। ইডেনেও ভাল ম্যাচ হবে। ভারতের ম্যাচ রয়েছে। সেমিফাইনাল রয়েছে। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ইংল্যান্ডের মতো দল খেলবে। ইডেন পুরোপুরি তৈরি। ক্রিকেট প্রশাসক হিসাবে ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে অত বৃষ্টির মধ্যেও এখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ফাইনাল এখনও লোকের মুখে মুখে ফেরে। হ্যাঁ, বাংলাদেশ থাকলে কলকাতার মানুষের মধ্যে উন্মাদনা আরও একটু থাকত। কয়েকটি ছোট দলের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ একটু কম। তবে মাঠ ভরানোর জন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। বিভিন্ন স্কুল ও ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে চিঠি দিয়েছি। তারা খুদেদের পাঠালে আমরা নিখরচায় মাঠে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা করব। ভাল একটা বিশ্বকাপ হবে।’ পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গে সৌরভ বলেছিলেন, ‘কেন ওরা বয়কট করছে? কারণটা কী? টি-২০ বিশ্বকাপে খেলছে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলছে না! আমি জানি না কোন যুক্তিতে এটা করছে পাকিস্তান।’





