বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার গুরুতর অভিযোগ। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন, ২০২১ সালের নভেম্বরে যদি হিরণকে ভাইফোঁটা দেন, তা হলে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক থাকল কী করে? আরও বাড়ছে বিতর্ক। আনন্দপুর থানা সূত্রে খবর, অনিন্দিতার অভিযোগের ভিত্তিতে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু। আনন্দপুর থানার দ্বারস্থ হন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁদের মেয়ে নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়। হিরণ এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তাঁরা। আনন্দপুর থানা সূত্রে খবর, অনিন্দিতার অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে হিরণের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিরণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা (স্বামী বা স্ত্রী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ আবার বিয়ে করেন। শাস্তি হতে পারে সাত বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা অথবা দুটোই) ও ৪৯৮এ ধারা (বিবাহিত মহিলার উপর স্বামীর নির্যাতন এবং গার্হস্থ্য হিংসা। হতে পারে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা)-য় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হিরণের বিরুদ্ধে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। সেই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি বিধায়ক বিবাহিত অবস্থায় ঋতিকার সঙ্গে ফের বিয়ের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অনিন্দিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না, কারণ সবটাই আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।উল্লেখ্য, ঋতিকা এবং হিরণের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই তোলপাড় শুরু হয়। বিয়ে নিয়ে ঋতিকাও মুখ খোলেন। অনিন্দিতাও অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হিরণের মুখে কুলুপ।
বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ে এবং সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরি। তিনি লিখেছিলেন গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা সম্পর্কে রয়েছেন। যদিও সেই পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যম থেকে মুছে দেন তিনি। এ বার প্রকাশ্যে হিরণ এবং ঋতিকার একটি ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিধায়ক তথা অভিনেতাকে ভাইফোঁটা দিচ্ছেন ঋতিকা। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন, ২০২১ সালের নভেম্বরে যদি হিরণকে ভাইফোঁটা দেন, তা হলে পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক থাকল কী করে? অনিন্দিতা যোগ করেন, “হিরণের খড়্গপুরের বাড়িতে এই ভাইফোঁটার ছবি তোলা, দেখে সেটাই বুঝলাম। আমি যে মিথ্যা বলছি না আবার প্রমাণিত হয়ে গেল। ভাই হিসাবে ভাইফোঁটা দিয়ে তাঁকে আবার কী করে বিয়ে করতে পারে একজন? অত্যন্ত লজ্জাজনক একটা বিষয়। ভাবতেই আমার অস্বস্তি হচ্ছে।” গত কয়েক বছর ধরে খড়্গপুর থেকে কলকাতার বাড়িতে যাতায়াত করতেন হিরণ। তাঁর প্রথম স্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন,একেবারে যোগোযাগ বিচ্ছিন্ন ছিল এমনটা কখনও হয়নি। এমনকি ২০২৪ সালে তাঁরা ঘুরতেও গিয়েছিলেন বিদেশে। সে সময় ঋতিকা সম্পর্কে কানাঘুষো শুনেছিলেন অনিন্দিতা। কিন্তু সে সময় হিরণ তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন মেয়েটি তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে। অনিন্দিতা জানান, সেই সময় স্বামীর কথা বিশ্বাসও করেছিলেন তিনি। তবে হিরণের সঙ্গে যে অনিন্দিতার সম্পর্ক খুব মসৃণ ছিল, তেমনও নয়। অনিন্দিতা বলেছিলেন, “ও যাতায়াত করত। কিন্তু অভিমান করে আমি কথা বলতাম না। এত দিন চুপ ছিলাম, কারণ পরিবারের অসম্মান হোক চাইনি। কিন্তু এই কয়েক বছর আমার এবং মেয়ের উপরে খুবই মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে।” এত বিতর্কের মাঝে নীরব হিরণ। এখন কোথায় আছেন তিনি? উঠছে প্রশ্ন।
হিরণের আপ্তসহকারী হিসাবে কাজ করতেন ঋতিকা। তবে পাল্টা কথাও আলোচিত হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, তেমনটা একেবারেই নয়। ঋতিকা নাকি কোনও দিনই হিরণের আপ্তসহকারী হিসাবে কাজ করেননি। হিরণের প্রথম স্ত্রীরও দাবি, ঋতিকা যে হিরণের আপ্তসহায়ক, এমন কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। তিনি জানতেন, রাজনীতির কাজে খড়্গপুরে গিয়ে ঋতিকার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর স্বামীর। কারও কারও দাবি, খড়্গপুরে বিজেপি-র মহিলা মোর্চার হয়ে কাজ করতেন ঋতিকা। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এ কথার সত্যতা স্বীকার করেনি। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মেদিনীপুরের সাধারণ পরিবারের মেয়ে ঋতিকা। তাঁর মা-বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে আইনজীবী হোন। সেই অনুযায়ী ওড়িশার একটি কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে ভর্তি করা হয় ঋতিকাকে। তার পরেই নাকি হিরণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাঁর। আইনজীবী হিসাবে কখনও কাজ করতে শোনা যায়নি। বরং কিছু দিনের মধ্যেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। তার পর থেকে মডেলিংয়ে মন দেন বলে সূত্রের খবর। রাজনীতি এবং অভিনয় জগতের অনেকেই নানা কথা বলছেন ঋতিকার সম্পর্কে। নিন্দকেদের দাবি, আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছাই ছিল না ঋতিকার। লেখাপড়াতেও তেমন মন ছিল না তাঁর। দশম শ্রেণিতে নাকি তিন বার অনুত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কোনও রকমে নাকি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এগিয়েছিলেন বলেও সমালোচনা চলছে।





