সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস এখন শীর্ষে। জয়ের হ্যাটট্রিক। সৌরভের দল বোনাস পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা লিগে শীর্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘এসএ২০’-তে প্রিটোরিয়া ৫৩ রানে হারিয়েছে এমআই কেপ টাউনকে। আট ম্যাচে ২০ পয়েন্ট প্রিটোরিয়ার। সৌরভ এই দলের প্রধান কোচ। প্রথম পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি জয়। সেখান থেকে পর পর তিনটি ম্যাচ জিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস এখন শীর্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ ‘এসএ২০’-তে প্রিটোরিয়া ৫৩ রানে হারিয়েছে এমআই কেপ টাউনকে। সৌরভ এই দলের প্রধান কোচ। আট ম্যাচে ২০ পয়েন্ট প্রিটোরিয়ার। শেষ ম্যাচে বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিতেছে প্রিটোরিয়া। শেরফানে রাদারফোর্ডের মাত্র ২৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংসের ফলে প্রিটোরিয়া প্রথমে ৬ উইকেটে ১৮৫ রান তোলে। দলের রান যখন ৪ উইকেটে ৮৯ এবং হাতে মাত্র ৭ ওভার, তখন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। রাদারফোর্ড যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে। এই জুটি মাত্র ৩৪ বলে ৬৯ রান যোগ করে। এমআই কেপ টাউনকে তাদের খারাপ ফিল্ডিংয়ের মাসুল দিতে হয়েছে। করবিন বশের পর পর দুই বলে দুই ব্যাটারই জীবন ফিরে পান। এর পর ব্রেভিস কাগিসো রাবাডাকে দু’টি অবিশ্বাস্য ছক্কা মারেন। তার মধ্যে একটি ছিল ‘নো-লুক’ ফ্লিক। রাদারফোর্ড ট্রেন্ট বোল্টের এক ওভারেই ১৬ রান তুলে নেন। প্রিটোরিয়া ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রাখে বোলিংয়েও। গিডিয়ন পিটার্স ডাবল-উইকেট মেডেন ওভার করে এমআই কেপ টাউনের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। এমআই কেপ টাউনের স্কোর ৪৬/২ থেকে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে ৫৫/৬ হয়ে যায়। ব্যাটিংয়ের পর ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন ব্রেভিস। বাউন্ডারি লাইনে দু’টি ভাল ক্যাচ নিয়ে তিনি এমআই কেপ টাউনকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। এমআই কেপ টাউনের পক্ষে রিজা হেনড্রিকস ৫০ বলে অপরাজিত ৬৮ রান করে একা লড়াই করলেও ১৩২/৭ রানের বেশি তুলতে পারেনি। সৌরভের দলের পরের দু’টি ম্যাচ পার্ল রয়্যালস (বৃহস্পতিবার) ও জোহানেসবার্গ সুপার কিংস (শনিবার)-এর বিরুদ্ধে।

এদিকে, বিজয় হজারে ট্রফির সেমিফাইনালে উঠল বিদর্ভ এবং পাঞ্জাব। ছিটকে গেল দিল্লি এবং মধ্যপ্রদেশ। মঙ্গলবার কোয়ার্টার ফাইনালে বিদর্ভ ৭৬ রানে হারাল দিল্লিকে। অন্য ম্যাচে মধ্যপ্রদেশকে ১৮৩ রানে হারাল পাঞ্জাব। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লির অধিনায়ক ইশান্ত শর্মা। প্রথমে ব্যাট করে বিদর্ভ করে ৯ উইকেটে ৩০০। ওপেনার অথর্ব তাইদে করেন ৬২। বিদর্ভের পক্ষে সর্বোচ্চ রান যশ রাঠোরের ৭৩ বলে ৮৬। ৮টি চার এবং ২টি ছক্কা মারেন তিনি। এ ছাড়া ৪৯ রান করেন ধ্রুব শোরে। দিল্লির হয়ে নীতীশ রানা ১৯ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ৪৭ রানে ২ উইকেট ইশান্তের। ৫৯ রানে ২ উইকেট প্রিন্স যাদবের। ৬৮ রানে ২ উইকেট নবদীপ সাইনির। জবাবে ৪৫.১ ওভারে ২২৪ রানে শেষ হয়ে যায় দিল্লির ইনিংস। সর্বোচ্চ অনুজ রাওয়াতের ৯৮ বলে ৬৬। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়েছেন ইশান্তেরা। বিদর্ভের সফলতম বোলার নচিকেত ভুতে ৫১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৩৬ রানে ৩ উইকেট হর্ষ দুবের। ৫৪ রানে ২ উইকেট প্রফুল হিঙ্গের। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে পঞ্জাব করে ৬ উইকেটে ৩৪৫। সর্বো্চ্চ অধিনায়ক প্রভশিমরন সিংহের ৮৬ বলে ৮৮। ১০টি চার এবং ২টি ছক্কা মারেন তিনি। এ ছাড়া অনমোলপ্রীত সিংহ ৭০, নেহাল ওয়াধেরা ৫৬ এবং হরনুর সিংহ ৫১ রান করেন। মধ্যপ্রদেশের সফলতম বোলার বেঙ্কটেশ আয়ার ৬০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ৬১ রানে ২ উইকেট ত্রিপুরেশ সিংহের। জবাবে ৩১.২ ওভারে ১৬২ রানে শেষ হয়ে যায় মধ্যপ্রদেশের ইনিংস। সর্বোচ্চ রজত পাটিদারের ৪০ বলে ৩৮। এ ছাড়া বলার মতো রান ত্রিপুরেশের ৩০ বলে ৩১। পাঞ্জাবের সনবীর সিংহ ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ২৩ রানে ২ উইকেট রমনদীপ সিংহের। ২৭ রানে ২ উইকেট গুরনুর ব্রারের। ২৮ রানে ২ উইকেট কৃষ ভগতের। বিজয় হাজারে ট্রফির সেমিফাইনালের চার দল চূড়ান্ত। সৌরাষ্ট্র এবং কর্নাটক কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পর মঙ্গলে শেষ চারে পাঞ্জাব এবং বিদর্ভ।





