Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শতদ্রু দত্তকে আবারও জেল হেফাজতের নির্দেশ!‌ টিকিট বিক্রি ছাড়াও শতদ্রুর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল ১০ কোটি টাকা!

শুনানি শেষে শতদ্রুকে আবারও জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শুক্রবার শতদ্রুকে আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ দাবি করে, তদন্ত এগোচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নথিভুক্ত করা হয়েছে অনেকের বয়ান। টিকিট বিক্রির টাকা ছাড়াও আরও ১০ কোটি টাকা ঢুকেছিল শতদ্রু দত্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে! কোথা থেকে এল সেই টাকা? তার উৎস খোঁজার কাজ চলছে। আদালতে এমনই জানাল পুলিশ। শুক্রবার ধৃত শতদ্রুকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। শতদ্রুর তরফে জামিনের আবেদন করা হয়। কিন্তু পুলিশ তার বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে শতদ্রুকে আবারও জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। শতদ্রুর তরফে জামিনের আবেদন করা হয়। তাঁর আইনজীবী সৌমজিৎ রাহা আদালতে বলেন, ‘‘আমার মক্কেল ২৭ দিন জেল হেফাজতে রয়েছেন। এখন তদন্ত যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে তাঁকে আর হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।’’ তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন শতদ্রু। আইনজীবী মারফত তিনি আদালতে জানান, যখনই প্রয়োজন হবে বা তাঁকে তলব করবে পুলিশ বা আদালত— হাজিরা দেবেন। শতদ্রু এ-ও জনান, মেসির সফরের জন্য দু’টি বিমা করা হয়েছিল। একটি ১৫০ কোটি এবং অন্যটি সাড়ে ৪২ কোটি টাকার। শতদ্রু প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যদি লোক ঠকানোর উদ্দেশ্য থাকত, তবে কেন বিমা করেছিলাম?’’ তবে তাঁর যুক্তি ধোপে টেকেনি। বিচারক ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

যুবভারতীতে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসিকে ভাল ভাবে দেখতে না-পাওয়ায় মাঠের মধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দর্শকেরা। দর্শকাসন থেকে ছোড়া হয় বোতল, চেয়ার। মেসি মাঠ ছাড়তেই দর্শকদের একটা বড় অংশ মাঠে পৌঁছে যায়। সেই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি। কী কারণে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, কারা দায়ী— সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার দিনই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মেসির ভারত সফরের মূল আয়োজক শতদ্রুকে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথি, তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নথিভুক্ত করা হয়েছে অনেকের বয়ান। এখনও পর্যন্ত তদন্তে যা যা উঠে এসেছে, তা একত্র করতে ইতিমধ্যেই হাজার পাতার বেশি লেগেছে। ঘটনা সম্পর্কে আরও কিছু জিনিস জানার বাকি আছে। সেই বিষয় জানাতে গিয়ে রাজ্যের তরফে ওই ১০ কোটি টাকার উল্লেখ করা হয়। রাজ্যের দাবি, শতদ্রুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে ১০ কোটি টাকার লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে। এই টাকা টিকিট বিক্রি থেকে আসেনি! প্রশ্ন উঠছে, কোথা থেকে এল এই ১০ কোটি টাকা? তা জানার প্রয়োজন আছে, আদালতে সওয়াল রাজ্যের। শতদ্রুকে আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ দাবি করে, তদন্ত এগোচ্ছে। দর্শকদের টাকা ফেরানো নিয়ে অন্য একটি দিক উঠে আসে এদিনের শুনানিতে। সরকার পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারাকে ব্যবহার করে দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া যায়। জেলাশাসকের মাধ্যমে এই বিষয়ে আবেদন করা হয়। তদন্তকারীরা সন্ধান পেয়েছেন টিকিট বিক্রির মোট ২১ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তবে দু’টি অ্যাকাউন্টই আপাতত বাজেয়াপ্ত। যুবভারতীতে মেসিকে দেখার জন্য মোট ৪০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। যার মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয় অনলাইনে। ১৭ জানুয়ারি ফের শুনানি। এদিন সরকার পক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জেলাশাসকের মাধ্যমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৭ নম্বর ধারার প্রসঙ্গ তুলে জানান, কীভাবে দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ১৭ জানুয়ারি সেই বিষয়েও শুনানি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles