সিবিআই তদন্তের দাবি। সৌরভ গাঙ্গুলির যোগ শতদ্রু দত্তের? দাবি ফ্যান ক্লাব কর্তার। কলকাতায় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব’ কর্তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ মুখ খুললেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। সৌরভের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি সেই ফ্যান ক্লাব কর্তার। ‘মেসি’-কাণ্ডে যে তিনি যুক্ত নন, শতদ্রু দত্তের সঙ্গে যে তাঁর যোগ নেই, তা প্রমাণ করুন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়কের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানালেন সেই বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব কর্তা৷ যাঁর বিরুদ্ধে যুবভারতীর ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগ করেছেন সৌরভ। ফ্যান ক্লাব কর্তার বক্তব্য। কলকাতার ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর কর্তার নাম উত্তম সাহা৷ মুখ খুললেন সেদিনের অনুষ্ঠানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়োর যোগ দেওয়া নিয়ে। উত্তম সাহা বলেন, “এটার সিবিআই তদন্ত হোক। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যদি মনে করেন যে এর সঙ্গে তিনি যুক্ত নেই, শতদ্রুর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই, তাহলে উনি আমার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলুন যে ঠিক আছে তদন্ত হোক। আর তদন্তে যদি দেখা যায় সত্যি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় যুক্ত নেই, তাহলে আমিও বলব যে আমি যেটা বলেছি সেটা ঠিক নয়। আর কাকে কখন কী বলেছি সব মনে নেই আমার।”
বলেন, “আমি আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাবের সদস্য। মেসি আমার শহরে এসেছে। মেসি এখানে রীতিমতো অপমানিত হয়েছে বলা যায়। কেউ তাঁকে উপভোগ করতে পারেনি। প্রত্যেকেই অনেক টাকার টিকিট কেটেছিল। আমার একটাই প্রশ্ন, শতদ্রু দত্ত যে ১০০, ১৫০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছে, সেই টাকা তাকে কে দিয়েছে?” অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পেয়ে ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর সদস্যরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি উত্তম সাহার৷ তাঁর কথায়, “কাল যদি আইপিএল দেখতে যাই, গিয়ে দেখি সৌরভকে, তবে আমার তাঁর প্রতি সেই আগের মতোই শ্রদ্ধা থাকবে। যুবভারতী ফুটবল মাঠ। আর ফুটবল মাঠে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমার কাছে আলাদা কিছু নয়। কারণ আমরা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব। ওখান থেকে আমাদের আমন্ত্রণ করা হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকে আমাদের ভ্যালু অনেকটা বেশি। সবাই জানে যে শতদ্রু দত্ত কার লোক।” তাঁর বিরুদ্ধে করা সৌরভের অভিযোগ নিয়ে উত্তম সাহা বলেন, “আমি একটা চিঠি পেয়েছি। আমি আইনিভাবে লড়ব এবং আইনিভাবে সেই চিঠির জবাব দেব। আমাদের আবেগটা কারও থেকে কম নয়। এক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত হয়েছি৷ আমাদের কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। এখানে রাজশ্রী-শুভশ্রীরা মাঠে ভিড় করেছে। এদিকে যারা পাঁচ হাজার টাকার টিকিট কেটেছে তারা মেসিকে একবারও দেখতে পায়নি। ফলে তারা যে ব্যথা পেয়েছে তাদের সকলের তরফ থেকে আমার এই বক্তব্য।”
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন “এখানে কে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আর কে কী সেটা আমার দেখার দরকার নেই। তবে আমি আবার বলছি, কালকে যদি আমি ক্রিকেট খেলা দেখতে যাই সেখানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখতে পেলে তিনি তার সম্মান পাবেন। বিদেশেও অনেক নামকরা তারকা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, ওরা কখনই বলে না যে আমি রকস্টার আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াব। মেসি তুমি এখানে আসো এবং আমাকে সিগনেচার দিয়ে যাও।” যুবভারতী কাণ্ড। ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসি এসেছিলেন৷ সেদিনের অনুষ্ঠানে স্বপ্নের এলএম টেন-কে শহরে পেয়েও ঠিক করে দেখতে না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সমর্থকরা। যুবভারতী মাঠে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়৷ কাউকে দেখা গিয়েছে মাঠের কারপেট নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিতে। আবার কাউকে দেখা গিয়েছে মাঠের মধ্যেই সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করতে। শুধু মাঠের ভিতরের অশান্তি নয়, বরং এই অশান্তির আঁচ গিয়ে পড়ে মাঠের বাইরেও। বিশেষ করে সোশাল মিডিয়ায়। মেসিকে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে কেউ কেউ তুলোধনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী থেকে আমলা ও প্রশাসনকেও। পাশাপাশি ট্রোলের মুখে পড়েন সিএবি-র সভাপতি তথা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক কুৎসামূলক ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন৷ লালবাজারের সাইবার সেলেও তিনি এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি প্রায় ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও হয়েছে। আর মূলত কলকাতার ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল ফ্যান ক্লাব’-এর কর্তা উত্তম সাহার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷





