সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ইতিহাস বৈভব সূর্যবংশীর। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে শতরান করল বিহারের ১৪ বছরের ব্যাটার। ইডেন গার্ডেন্সে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৫৮ বলে শতরান পূর্ণ করে বৈভব। অন্য দিকে, এ দিনই পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। বৈভবকে নিয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির শুরু থেকেই আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু ব্যাটে রান পাচ্ছিল না বিহারের সহ-অধিনায়ক। মঙ্গলবার ভক্তদের আক্ষেপ মিটিয়ে দিল বৈভব। পৃথ্বী শয়ের দলের বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে শুরু থেকেই পরিচিত আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করে। শতরান পূর্ণ করার পথে ৭টি চার এবং ৭টি ছক্কা এসেছে তার ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত বৈভব খেলেছে ৬১ বলে ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার শতরানের সুবাদে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিহার ২০ ওভারে তুলেছে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান। বৈভব ছাড়া বিহারের হয়ে ভাল ব্যাট করেছেন আয়ুষ লোহারুকা। তিনি ১৭ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।
অন্য দিকে, চোট সারিয়ে ক্রিকেটে ফিরলেন হার্দিক। গত এশিয়া কাপে চোট পেয়েছিলেন বডোদরার অলরাউন্ডার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মেডিক্যাল টিমের ছাড়পত্র পাওয়ায় মঙ্গলবার তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেন ক্রুণাল পাণ্ড্য। পঞ্জাবের বিরুদ্ধে অবশ্য বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করতে পারলেন না। ৪ ওভারে ৫২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন হায়দরাবাদের ২২ গজে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের আগে হার্দিকের প্রত্যাবর্তন স্বস্তি দিতে পারে সূর্যকুমার যাদবদের। হার্দিক খেলায় ফেরায় উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটপ্রেমীরাও। মঙ্গলবার হায়দরাবাদের মাঠে ঢুকে পড়েন এক ক্রিকেটপ্রেমী। নিরাপত্তাকর্মীদের এড়িয়ে চলে যান হার্দিকের কাছেও। প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে নিজস্বীও তোলেন ওই হার্দিক-ভক্ত।নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেন। চোটের জন্য এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলতে পারেননি। সেই থেকে তিনি ছিলেন মাঠের বাইরে। অবশেষে চোট সারিয়ে ২২ গজে ফিরলেন টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার হার্দিক পাণ্ডিয়া। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি–টোয়েন্টি ট্রফিতে ব্যাট হাতে ৭৭ রান করে বরোদাকে জেতালেন তিনি। হার্দিকের তাণ্ডবেই হেরে যায় অভিষেক শর্মার পাঞ্জাব। ঝোড়ো অর্ধশতরান করেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ অভিষেক। এদিকে, নজর কাড়ল হার্দিকের জনপ্রিয়তা। হায়দরাবাদের মাঠে হার্দিককে ছুঁতে বার বার মাঠে ঢুকলেন ভক্তরা। সেলফিও তুললেন। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারেই বল করতে যান হার্দিক। চার ওভার করেন তিনি। কিন্তু বল হাতে নজর কাড়তে পারেননি হার্দিক। ৫২ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারের ৮ উইকেট হারিয়ে ২২২ রান করে পাঞ্জাব। অভিষেক মাত্র ১৯ বলে ৫০ রান করেন। আনমোলপ্রীত সিং করেন ৬৯ রান। নমন ধীর করেন ৩৯। জবাবে ৫ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় বরোদা। দশম ওভারে নেমে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন হার্দিক। ৪২ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করেন তিনি। মারেন সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ভারতের এই অলরাউন্ডার। চোট পাওয়ার পর বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে সুস্থ হয়েছেন হার্দিক। এই প্রথম খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে নেমে হার্দিক বোঝালেন, পুরো সুস্থ হয়ে উঠেছেন তিনি। অর্থাৎ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি–টোয়েন্টি সিরিজে হার্দিকের খেলা প্রায় পাকা। তার আগে প্রস্তুতির জন্য আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। হায়দরাবাদের মাঠে হার্দিককে দেখতে ভালই ভিড় হয়েছিল। ঘরোয়া ক্রিকেট হওয়ায় নিরাপত্তা কম ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাঠে বার বার দর্শকরা ঢুকে পড়েন। হার্দিকের সঙ্গে হাত মেলান তাঁরা। হার্দিকও তাঁদের নিরাশ করেননি। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের নিয়ে যাওয়ার আগে হার্দিকের সঙ্গে সেলফি তোলেন ভক্তরা। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।




