Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১০০০ রান অভিষেকের!‌ হারের হ্যাটট্রিক!‌ হংকং সিক্সেজে মুখ পুড়ল ভারতের

অভিষেক শর্মার ব্যাটে ফের রেকর্ডের ঝড়। গাব্বায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন এই বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৫২৮ বলেই ১০০০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে তিনি হয়ে গেলেন ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম ব্যাটার এই রেকর্ডে। এর আগে সূর্যকুমার যাদবের নাম ছিল শীর্ষে, যিনি ৫৭৩ বলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট (৫৯৯), অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৬০৪), আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আন্দ্রে রাসেল ও নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন (৬০৯) এঁরা রয়েছেন প্রথম পাঁচে। অভিষেকের নির্ভীক ব্যাটিং ও বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেট ভারতীয় টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের ধরনকেই বদলে দিয়েছে। তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর ব্যাটারদের মধ্যে একজন। ২৮ ইনিংসে ১০০০ রান পূর্ণ করে তিনি হলেন ভারতের দ্বিতীয় দ্রুততম ব্যাটার। এক ধাপ পিছিয়ে রয়েছেন বিরাট কোহলির (২৭ ইনিংস) পরেই। পিছনে ফেলেছেন কেএল রাহুল (২৯), সূর্যকুমার যাদব (৩১) এবং রোহিত শর্মাকে(৪০)। পাঞ্জাবের এই ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার চলতি সিরিজের রান সংগ্রাহকের তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আয়োজিত এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বর্তমানে আইসিসি’র টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যা ঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন অভিষেক। বর্তমানে তাঁর পয়েন্ট ৯২৫। জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তার চেয়ে বেশি রান ও স্ট্রাইক রেটে আর কেউ খেলেননি। পরিসংখ্যান বলছে, ১৮৯-এরও বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে অভিষেক এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন সংজ্ঞা লিখছেন। ঝুলিতে ইতিমধ্যেই রয়েছে ৬৪টি ছক্কা। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য ক্রিকেট দেশগুলির যে কোনও ব্যাটারের মধ্যে সর্বাধিক। উল্লেখ্য, এদিন ব্রিসবেনে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে ভারত। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ টস জিতে নিলেন শুরুতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত। ভারত এগিয়ে রয়েছে ২–১ ব্যবধানে। জিতলেই সিরিজ জয় আর হারলে ড্র হবে সিরিজ। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে একটি বদল হল। তিলক ভার্মার জায়গায় প্রথম একাদশে ঢুকলেন রিঙ্কু সিং। টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম চারটি ম্যাচে রিঙ্কু সিংকে প্রথম একাদশে রাখেননি গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমাররা। ব্রিসবেনে সফরের শেষ ম্যাচে তাঁকে খেলানো হচ্ছে। তিলকের পরিবর্তে ফিনিশার হিসাবে রিঙ্কুকে ব্যবহার করা হতে পারে। মনে করা হয়েছিল, ভারতের সিরিজ হারের সম্ভাবনা না থাকায় খেলানো নাও হতে পারে বুমরাকে। কিন্তু দেশের অন্যতম সেরা জোরে বোলারকে খেলাচ্ছেন গম্ভীররা। টি–টোয়েন্টি সিরিজ জিততে মরিয়া ভারতীয় শিবির ঝুঁকি নিতে চায়নি। এই ম্যাচেও প্রথম একাদশে জায়গা হল না হর্ষিত রানার। সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন মিচেল মার্শরা। তৃতীয় এবং চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছে ভারতীয় দল। ব্রিসবেনে জিততে পারলে ৩–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন সূর্যকুমাররা। এই ম্যাচ ভারত হারলে ড্র হবে সিরিজ।

ভারতের প্রথম একাদশে রয়েছেন:‌ অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), রিঙ্কু সিং, অক্ষর প্যাটেল, শিবম দুবে, জিতেশ শর্মা, ওয়াশিংটন সুন্দর, অর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী এবং জসপ্রীত বুমরা।

ফেভারিট হিসেবে হংকং সিক্সেজে অংশ নিয়েছিল ভারত। কিন্তু শেষপর্যন্ত মুখ চুন করে মাঠ ছাড়তে হল দীনেশ কার্তিকদের। দলে তাবড় তাবড় ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও প্রথম চার ম্যাচের মাত্র একটিতে জেতে ভারত।পাকিস্তানকে হারানোর পর হারের হ্যাটট্রিক। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেপালের কাছে টানা হার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রানে জেতে ভারত। বৃষ্টির জন্য পুরো ১২ ওভার খেলা হয়নি। ভারতীয় দলে দীনেশ কার্তিক, রবিন উথাপ্পা, প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চল, অভিমন্যু মিঠুন, স্টুয়ার্ট বিনি এবং শাবাজ নাদিমের মতো প্লেয়ার আছে। তাসত্ত্বেও আত্মসমর্পণ। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং নেপালের বিরুদ্ধে কার্তিকরা দাঁড়াতেই পারেনি। পুল সি লড়াইয়ে প্রথমে কুয়েতের কাছে ২৭ রানে হারে ভারত। টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কুয়েতের আগ্রাসী ব্যাটিং থামাতে পারেনি। বিশেষ করে ইয়াসিন প্যাটেলের। ১৪ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন। তারমধ্যে শেষ ওভারে টানা পাঁচটি ছয় হাঁকান। ৬ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১০৬ রান তোলে কুয়েত। রান তাড়া করতে নেমে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভারতীয় দল। কুয়েতের পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে ৪ উইকেটে হার। প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১০৭ রান তোলে ভারত। অর্ধশতরান করেন অভিমন্যু মিঠুন। ৪২ করেন কার্তিক। পাল্টা ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে ৪২ রান তোলেন খালিদ শাহ এবং সাগহির খান। কখনওই এই রান তাঁদের ধরাছোঁয়ার বাইরে মনে হয়নি। নেপালের বিরুদ্ধেও হার। খুব একটা ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ না হলেও, কর্তিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। ৬ ওভারে বিনা উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তোলে। টুর্নামেন্টে কোনও দলের সর্বোচ্চ রান। চাপে মাত্র ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারায় ভারত। যার ফলে ৯২ রানে হারতে হয়। যা এই ভারতীয় দলের থেকে অপ্রত্যাশিত। রবিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের পরের ম্যাচ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles