লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে চর্চা। তাঁকে নিয়ে খবর। তিনি জেরার্ড পিকে-শাকিরার বাড়ি কিনছেন। আবার তাঁর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স নিয়ে আচম্বিতেই খবর। এল ক্লাসিকোয় বর্ণহীন কেন ইয়ামাল? চিকিৎসক পেদ্রো লুইস রিপোলি যা বললেন, তা বার্সার জন্য মোটেও সুখকর নয়। দীর্ঘস্থায়ী কুঁচকির সমস্যায় ভুগছেন ইয়ামাল, এই কারণেই তাঁকে নিষ্প্রভ দেখিয়েছে। এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় বার্সাকে। তার পর থেকেই ইয়ামলাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। মাঠে তাঁর প্রণরম্যান্স মোটেও প্রভাববিস্তারকারী ছিল না। রিয়াল তাঁকে আটকানোর জন্য জাল বিছিয়েছিল। তাঁদের ফাঁকি দিয়ে বেরতো পারেননি ইয়ামাল। রিয়ালের ব্যুহে আটকে গিয়েছেন তিনি। তাঁর শটের গতি কমে গিয়েছে পঞ্চাশ শতাংশ। সব দিক থেকেই কিন্তু বার্সার জন্য ভাল খবর নয়। ইয়ামালের মতো প্লেয়ার নিষ্প্রভ মানেই বার্সাও বেরঙিন। মেগাম্যাচে ছাপ ফেলতে পারেনি বার্সেলোনা।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নন ইয়ামাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে ইয়ামাল মজার ছলে বলেছেন, ‘‘রিয়াল মাদ্রিদ সবসময় চুরি করে আর অভিযোগ জানায়।’’ ম্যাচের শেষে মাদ্রিদ অধিনায়ক ড্যানি কার্ভাহাল ও তাঁর সতীর্থরা ইয়ামালের দিকে তেড়ে যান। ম্যাচে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়, পরিস্থিতি গরম হয়। ইয়ামাল কি ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছেন? এহেন লামিন ইয়ামাল বিলাসবহুল বাড়ি কিনতে চলেছেন বলে খবর। বার্সেলোনার প্রাক্তন তারকা জেরার্ড পিকের প্রায় ২০০ কোটি টাকার বাড়ি কিনতে পারেন। বার্সার অভিজাত এলাকার ৩ হাজার ৮০০ স্কোয়ার মিটারের বাড়িটি ২০১২ সালে নির্মিত হয়। সেই বাড়িটিই এবার কিনবেন ইয়ামাল। এই বাড়িতে রয়েছে ৬টি বেডরুম, একটি ইনডোর ও একটি আউটডোর সুইমিং পুল, একটি টেনিস কোর্ট, একটি জিম ও একটি স্টুডিও। এদিকে ইয়ামাল এল ক্লাসিকো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লামিনের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ বার্সা সমর্থকরাই। তাদের মতে, লামিনের এই আচরণ দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। বার্সেলোনার সহকারী কোচ মার্কাস সর্গ আগেভাগেই জানিয়েছিলেন দর্শকদের চাপ ইয়ামালের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। মাদ্রিদও চাপে রাখার জন্য বার্নাবাউয়ের ছাদ বন্ধ করে দিয়েছিল। ইয়ামালের ছোট্ট কেরিয়ারে এমন প্রতিকূল অভিজ্ঞতা খুব একটা আসেনি। গত বছর স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪ জেতার পর বার্সেলোনার ঘরোয়া ট্রেবল জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, এমনকি ব্যালন ডি’অর ভোটিংয়ে দ্বিতীয় স্থানও পান।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো মানেই সাফল্য আর সাফল্য। পর্তুগিজ মহাতারকা মানে গোলের পর গোল। কিন্তু সৌদি আরবে পা দেওয়া ইস্তক তাঁর সঙ্গে নেই ট্রফি। একটা নয়, দুটো নয়, ১৩টি টুর্নামেন্ট তিনি খেলেছেন। অথচ একটি ট্রফিও তিনি ঘরে তুলতে পারেননি। এই ট্রফি খরা কবে কাটবে কেউ জানেন না। কিংস কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আল ইত্তিহাদ ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে রোনাল্ডোর আল নাসেরকে। ইত্তিহাদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন করিম বেনজিমা। বেনজিমা আর রোনাল্ডো একসময়ে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে কত ম্যাচ জিতেছেন তার ইয়ত্তা নেই। এদিন বেনজিমা গোল করলেও রোনাল্ডো গোল পাননি। শুধু রোনাল্ডো কেন, আল নাসের তো তারকা সমৃদ্ধ একটা দল। সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্সের মতো খেলোয়াড়ও তো রয়েছেন। তাঁরাও পারেননি আল নাসেরকে জয় এনে দিতে। ৪৯ মিনিটে আহমেদ আল-জুলায়দান লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর ১০ জন হয়ে যায় আল ইত্তিহাদ। এগারোর বিরুদ্ধে দশ-সব সময়ে সুবিধা পায় এগারো জনের দল। রোনাল্ডো-ফেলিক্সরা সুবিধা আর কোথায় করতে পারলেন! পাঁচটি শট গোললক্ষ্য করে নিয়েছিলেন রোনাল্ডো। সবক’টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আসল নাসেরের হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল। বেনজিমার সঙ্গে ইত্তিহাদের হয়ে আরেকটি গোল করেন হুসেম আওয়ার। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে আল নাসেরে এসেছিলেন রোনাল্ডো। সেই বছর আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স কাপ জিতেছিল আল নাসের। তবে সেটি তো ফিফা স্বীকৃত টুর্নামেন্ট ছিল না। পর্তুগিজ কিংবদন্তি ১৩টি অফিশিয়াল টুর্নামেন্টে আল নাসেরের হয়ে নামেন। একটি খেতাবও জেতেননি। তিনবার ফাইনালে উঠে সবকটিতেই হেরেছেন। সৌদি প্রো লিগে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ মরশুমে দ্বিতীয় হয়েছিল আল নাসের। গতবার হয়েছে তৃতীয়। এবার কী হবে? এখনও পর্যন্ত শীর্ষে আল নাসের। তার অর্থ এই নয় যে মরশুমের শেষে তারা শীর্ষেই থাকবে। রোনাল্ডো সব সময়ে ইতিবাচক। তিনি হেরে গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ”আমরা একসঙ্গে দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াই, শিখি ও সামনে এগিয়ে চলি।” বাকি মরশুমে আল নাসের কী করে সেটাই এখন দেখার। রোনাল্ডোর জন্যও বড় পরীক্ষা। আকাশছোঁয়া অর্থের বিনিময়ে সৌদি মুলুকের ক্লাবে এলেও তিনি ক্লাবকে দিতে পারেননি একটি খেতাবও। রোনাল্ডো গোল করে চলেছেন ঠিকই কিন্তু তাঁর দল তো আর ট্রফি জিতছে না। ট্রফি জেতার জন্যই তো রোনাল্ডোকে আনা হয়েছিল সৌদির ক্লাবে।





