Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এসএসকেএম হাসপাতালে নির্যাতিতা কিশোরী!‌ অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে কেন শৌচালয়ের দিকে গিয়েছিল?

‌অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে কেন শৌচালয়ের দিকে গিয়েছিল? মায়ের প্রশ্নে কেঁদে ফেলেছিল এসএসকেএম হাসপাতালে নির্যাতিতা কিশোরী। সে জানায়, অভিযুক্তকে সে ‘ভাল মানুষ’ ভেবেছিল। সেই কারণেই তাঁর কথায় রাজি হয়ে তাঁর সঙ্গে গিয়েছিল। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কী উদ্দেশ্য, কিছুই বুঝতে পারেনি। এসএসকেএম-এ গত বুধবার নির্যাতনের শিকার হয় কিশোরী। অভিযোগ, ডাক্তার সেজে এসে তাকে ভুল বুঝিয়ে শৌচালয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত। পুরুষদের শৌচালয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্থা করা হয়। কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সেই সংক্রান্ত মামলা রুজু করেছে পকসো আইনে। আপাতত ধৃত পুলিশি হেফাজতে। মা এবং দাদুর সঙ্গে এসএসকেএম-এর বর্হিবিভাগে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল কিশোরী। ছিল মনোরোগ বিভাগে। সেখানেই হাসপাতালের পোশাক পরে অভিযুক্ত তার কাছে আসে এবং মা ও দাদুর কাছ থেকে তাকে নিয়ে যায়।

কিশোরীকে শৌচালয়ে নিয়ে যান ধৃত যুবকই, মিলল সিসিটিভি ফুটেজ! এসএসকেএম-কাণ্ডে ডিএনএ পরীক্ষা চাইছে পুলিশ। কিছু ক্ষণ পরে শৌচালয় থেকে কিশোরীর চিৎকার শুনে লোকজন জড়ো হয়ে যায় ঘটনাস্থলে। অভিযুক্ত ধরা পড়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শৌচালয় থেকে বেরিয়ে আসার পর কিশোরীকে তার মা এবং দাদু বার বার জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন সে অচেনা যুবকের সঙ্গে শৌচালয়ের দিকে গিয়েছিল? উত্তরে বার বার একটিই কথা জানায় কিশোরী। বলে, ‘‘আমি ওকে ভাল মানুষ ভেবেছিলাম।’’ হাসপাতাল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত যে কিশোরীকে শৌচালয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, তা ফুটেজে দেখা গিয়েছে বলে খবর। ধৃতকে আদালতে হাজির করিয়ে তাঁর পুলিশি হেফাজত এবং ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। চাওয়া হয়েছে গোপন জবানবন্দির অনুমতিও। ধৃতকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে পকসো আদালত। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এই ঘটনায় এসএসকেএম কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথক ভাবে রিপোর্ট চেয়েছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অতীতে যুবক শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। সেই সূত্রে এসএসকেএম-এও তাঁর যাতায়াত ছিল। কেন তিনি কিশোরীকে নিশানা করলেন, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

বেশ কয়েকটি ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে নানা চর্চা চলছে। সতর্ক রাজ্য সরকার। শনিবার সমস্ত সরকারি হাসপাতালের সুপার, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপারদের নিয়ে হয় ভার্চুয়াল পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এরপরই বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক বিষয়ে পরামর্শ দেন মমতা ব্যানার্জি। জোর দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট পোশাক, ডিউটি রস্টারের দিকে। এছাড়া কর্মী নিয়োগের আগে তাঁদের অতীত কাজের রেকর্ড খুঁটিয়ে দেখার ক্ষেত্রে জোর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী কী পরামর্শ-নির্দেশ দিলেন মমতা ব্যানার্জি?

  • এবার থেকে হাসপাতালে কর্মী নিয়োগের আগে তাঁর অতীত কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে হবে।
  • কর্মীদের নির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম পরতে হবে।
  • ভিজিটিং আওয়ার্সে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রোগীকে দেখতে লোক ঢুকবে।
  • ডিউটি রস্টারে নজর রাখতে হবে। কে, কখন হাসপাতালে আসছেন, যাচ্ছেন, তা ডিউটি রস্টার দেখেই স্পষ্ট হবে। ফলে কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে, তদন্তে সুবিধা হবে।
  • কর্মী নিয়োগের পর তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়ায় বিষয়ে জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি রাখতে হবে। কোনও সিসিটিভি খারাপ হলে তা তৎক্ষণাৎ বদলে দিতে হবে।
  • পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাপনার বন্দোবস্ত করতে হবে।
  • হাসপাতালে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের ভুল হলে তা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্ব।
  • হাসপাতালের নম্বর আলাদা করে রাখা হবে‌। যাতে কল এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে।
    ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ নির্দেশ, সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোন রকম খামতি রাখা যাবে না। এছাড়াও মমতার পরামর্শ, হাসপাতালগুলিতে যাতে কাজে কোনও ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে সেইদিকে নজর পাখতে হবে। তাঁর কথায়, “কোনো উন্নয়ন মূলক কাজ যেন বন্ধ না হয়।”
    এসএসকেএম এবং উলুবেড়িয়ার হাসপাতালে নাবালিকাকে ধর্ষণ থেকে নার্সকে হুমকি, মারধরের মতো একাধিক অভিযোগে সরগরম রাজ্য। দিন কয়েক আগে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের গুঞ্জন ঘিরেও বেশ শোরগোল পড়েছিল। পরে অবশ্য জানা যায়, তা গণধর্ষণ নয়, ধর্ষণের ঘটনা। এসবের পর ফের রাজ্যের হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles