Sunday, May 3, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ধুমপান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন!‌ গভীর অবসাদ মস্তিষ্কের রোগের সঙ্কেত!‌ জীবনটা অন্ধকারে ঢাকা?‌

ধূমপান ছেড়ে দেওয়া জীবনের অন্যতম সেরা এবং কঠিন সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি। ধূমপান ছাড়ার পরমুহূর্ত থেকেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে দেয়। হৃদ্‌রোগ এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমতে শুরু করে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব থেকে ফুসফুসকে মুক্ত করা এবং তার কার্যক্ষমতা বাড়ানো একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে ফুসফুসকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব। প্রাক্তন ধূমপায়ীদের ফুসফুসের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ। ধূমপান ছাড়ার পর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ব্যায়ামের কোনও বিকল্প নেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিগুলি শক্তিশালী হয় এবং ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়ে। হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা সাইক্লিং-এর মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি গতির ব্যায়াম করুন। প্রাণায়াম বা ডিপ বেলি ব্রেদিং-এর মতো গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের গভীরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে এবং ফুসফুসের প্রসারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট এই ধরনের ব্যায়াম করুন। সঠিক খাবার ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলিকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে। আপনার খাদ্যতালিকায় কোন কোন খাবার যোগ করবেন? অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার: জাম, স্ট্রবেরি, সবুজ শাকসবজি (পালং, ব্রকোলি) এবং গাজরের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল ও সবজি ফুসফুসকে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। পর্যাপ্ত জল পান: সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে বেরিয়ে যেতে সুবিধা হয়, যা ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনার চারপাশের বাতাস এখনও আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলুন: যে সমস্ত জায়গায় অন্যেরা ধূমপান করছেন, সেই স্থানগুলি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের জন্য সমান ক্ষতিকর। বায়ু দূষণ থেকে সাবধান: বাড়ির বাইরে বেরোলে, বিশেষ করে অতিরিক্ত দূষণযুক্ত এলাকায়, মাস্ক ব্যবহার করুন। বাড়িতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারলে তা ফুসফুসের জন্য খুবই উপকারী। বাড়ির অন্দরে ধূপ বা মশা তাড়ানোর ধোঁয়া থেকেও দূরে থাকুন। ধূমপান ছাড়ার পর একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনও রকম সমস্যা, যেমন দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে তা কখনই অবহেলা করবেন না। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে পালমোনারি ফাংশন টেস্ট বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার ফুসফুসের বর্তমান অবস্থা নিরীক্ষা করতে পারেন। ধূমপান ছেড়ে আপনি ফুসফুসকে সারিয়ে তোলার প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপটি নিয়ে ফেলেছেন। রাতারাতি হয়তো সব ক্ষতি পূরণ হবে না, কিন্তু ধৈর্য ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা মেনে চললে আপনার ফুসফুস ধীরে ধীরে অনেকটাই সেরে উঠবে এবং আপনি এক নতুন, সতেজ জীবন ফিরে পাবেন।

‘সাইকো’। শব্দের উৎস যেখানে, সেই জায়গাটা অন্ধকারে ঢাকা। সাইকো কথাটা এসেছে সাইকোসিস থেকে। মানসিক রোগের একটি অবস্থাকে বলে সাইকোসিস। এই রোগ যাঁদের হয়, তাঁদের কেউ হয়তো গভীর অবসাদে চলে যান, আবার কারও মনে উঁকি দেয় নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চিন্তা। সাইকোসিস কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা সচরাচর ধরা পড়ে না। কিন্তু নতুন গবেষণা জানাচ্ছে, জটিল মানসিক রোগ মনের গভীরে চেপে বসার আগে ধরা দেয় ত্বকে। রোগ জটিল স্তরে পৌঁছনোর আগে তার সঙ্কেত পৌঁছে যায় ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ত্বকের সেই রোগ থেকে রোগীর মানসিক স্থিতি আঁচ করা সম্ভব! দাবি,ইউরোপিয়ান কলেজ অফ নিউরোসাইকোফার্মাকোলজি-র গবেষণায়। গবেষকেরা ৪৮১ জন মানসিক রোগীর উপরে পরীক্ষা করে দেখেছেন, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, গভীর অবসাদ বা স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ায় ভুগছেন, তাঁদের ত্বকের সমস্যাও রয়েছে। যে রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়, তাঁদের মধ্যে ২৪ শতাংশ মহিলা ও ৯.৮ শতাংশ পুরুষ চর্মরোগেরও শিকার। কারও ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানির সমস্যা রয়েছে, কেউ ভুগছেন সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগে, আবার কারও ত্বকের সংক্রমণজনিত রোগ হয় ঘন ঘন। মানসিক রোগকে মূলত দু’ভাগে ভাগ করা হয়। নিউরোসিস ও সাইকোসিস। নিউরোসিস সাধারণ কিছু অসুখ যেমন অ্যাংজ়াইটি ডিজঅর্ডার, অবসাদ ইত্যাদি। আর সাইকোসিস হল অনেক জটিল ও গুরুতর মানসিক রোগ। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অবসেসিভ কমপালসিভ নিউরোসিসও বলা হয়। যেমন স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার বিভিন্ন কারণে সাইকোসিস হতে পারে। গবেষকেরা দাবি করেছেন, সাইকোসিস হানা দেওয়ার আগে তার কিছু উপসর্গ ধরা পড়ে চেহারায়। এমনকি যাঁর মনে আত্মহননের চিন্তা আসছে, তাঁরও ত্বকের কিছু অস্বাভাবিক বদল দেখা দেয় আগে থেকেই। এই বিষয়টি এত দিন আড়ালেই ছিল, গবেষণায় ধরা পড়েছে। বাতের ব্যথা নির্মূল হবে রেডিয়েশন থেরাপিতে? হাঁটু প্রতিস্থাপনের বিকল্প উপায় খুঁজে পেলেন গবেষকেরা মস্তিষ্কের রোগের সঙ্গে ত্বকের কী সম্পর্ক, সে নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকেরা দাবি করেছেন, মস্তিষ্ক ও ত্বক দুইই তৈরি হয়েছে এক্টোডার্ম স্তর দিয়ে। তাই স্নায়বিক যোগসূত্র রয়েছে। আবার এ-ও মনে করা হচ্ছে, মনের চাপ বাড়লে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রদাহ বাড়ে, ফলে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন ও কোষের পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়। তখন ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং গভীর অবসাদ ত্বকের প্রদাহ বহু গুণে বাড়িয়ে তোলে। এর থেকে এগ্জিমা, সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আত্মহত্যার চিন্তা যাঁদের বেশি হয়, তাঁদের ত্বকে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন, লিপিড ও জৈব-রাসায়নিকের আধিক্য দেখা দেয়। সেই উপাদানগুলিকে যদি চিহ্নিত করা যায়, তা হলে আগে থেকে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে সেই প্রক্রিয়া জটিল। আপাতত এ নিয়ে গবেষণা চলছে। মানসিক রোগের সঙ্গে ত্বকের বদলের সম্পর্ক ও তা সঠিক সময়ে শনাক্তকরণের উপায় আয়ত্ত হলে অনেক জটিল মানসিক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলেই আশা রাখছেন গবেষকেরা।

শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালী রাখতে প্রকৃতিতে এমন অনেক উপাদান রয়েছে, যা আমাদের রোজের পাতে থাকা প্রয়োজন। তেমনই এক আশ্চর্য ফল হল আখরোট। দেখতে অবিকল মস্তিষ্কের মতো এই বাদামটি যে কেবল মস্তিষ্কের জন্যই উপকারী, তা কিন্তু নয়। এর পুষ্টিগুণ জানলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। আধুনিক জীবনযাত্রায় হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা এক প্রকার ‘ভাল ফ্যাট’। এই উপাদানটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভাল কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ধমনীর ভিতরে চর্বি জমার আশঙ্কা কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত আখরোট খেলে তাই হৃদযন্ত্র থাকে সতেজ ও সুরক্ষিত। ছোটবেলা থেকেই বড়রা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেন। এর কারণ, এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষকে সজীব রাখে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত আখরোট খেলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয় এবং বয়সজনিত মস্তিষ্কের ক্ষয় বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে। পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সকলের জন্যই আখরোট অত্যন্ত উপকারী। শরীরের অভ্যন্তরে নানা কারণে প্রদাহ বা ‘ইনফ্ল্যামেশন’ হতে পারে, যা থেকে ডায়াবিটিস, আর্থারাইটিস বা ক্যানসারের মতো রোগের আশঙ্কা বাড়ে। আখরোটে থাকা পলিফেনল নামক যৌগ এই প্রদাহ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। তাই রোজ ডায়েটে কয়েকটি আখরোট রাখলে দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। অনেকেই ভাবেন, বাদাম খেলে ওজন বাড়ে। এই ধারণা কিন্তু সম্পূর্ণ ঠিক নয়। আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকায় অল্প কয়েকটি খেলেই পেট ভরে যায়। ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। হজমশক্তি উন্নত করতে, হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতেও আখরোটের জুড়ি মেলা ভার। তাই আর দেরি কেন? প্রতিদিন সকালে খালি পেটে বা বিকালের জলখাবারে দু-তিনটি ভেজানো আখরোট যোগ করুন আপনার খাদ্যতালিকায়। শরীর আর মন, দুই-ই থাকবে চনমনে। তবে শুধু একটি কথা মাথায় রাখবেন, কোনও কিছুই অতিরিক্ত ভাল নয়, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই শ্রেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles