Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টাইগার বধ ভারতের!‌ চরম লজ্জার তালিকায় শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

চারটি ক্যাচ মিস (সইফ হাসানের চারবার ক্যাচ ফেলা), মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ৬.১ ওভারে বিনা উইকেটে ৭৭ রান থেকে ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ১৬৮ রান। ক্রিকেট মাঠে অন্যতম জঘন্য কাটিয়েও বাংলাদেশকে হেলায় হারিয়ে দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। সুপার ফোরের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল ৪১ রানে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে ভারত। অর্থাৎ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৯৪.৪৪ শতাংশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে কোনও একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ের হারের নিরিখে সবথেকে বেশি ন্যূনতম ১০টি ম্যাচে জয়। দ্বিতীয় স্থানে আছে পাকিস্তান। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে জয়ের হার হল ৮৫.৭ শতাংশ। ভারতের ইনিংসটা একটা উদ্ভট ছন্দে এগিয়েছে। প্রথম তিন ওভারে ১৭ রান তোলে। পরের তিন ওভারে তোলে ৫৫ রান। সেটার সুবাদে পাওয়ার প্লে’তে ভারতের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৭২ রান। সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অভিষেক শর্মা এবং শুভমন গিলের জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। তখন ভারতের স্কোর ছিল ৬.২ ওভারে ৭৭ রানে এক উইকেট। পরপর উইকেট খুইয়ে খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে ভারত। অভিষেক যতক্ষণ ছিলেন, তাও মোটামুটি একটা গতি ছিল। তিনি আউট হয়ে যাওয়ার পরে আরও ছন্দে হারিয়ে ফেলে ভারত। শেষপর্যন্ত ষষ্ঠ উইকেটে ৩৯ রান যোগ করে ভারতের স্কোরটা ছয় উইকেটে ১৬৮ রানে নিয়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া এবং অক্ষর প্যাটেল। ২৯ বলে ৩৮ রান করেন হার্দিক। অক্ষর ১৫ বলে অপরাজিত ১০ রান করেন। অভিষেক করেন ৩৭ বলে ৭৫ রান। চারটি চার এবং পাঁচটি ছক্কা মারেন। স্ট্রাইক রেট ছিল ২০২.৭। পাকিস্তান ম্যাচেও তিনি অর্ধশতরান করেছিলেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জঘন্য ভুল বোঝাবুঝিতে রান-আউট না হয়ে গেলে সেঞ্চুরি করে আসতে পারতেন। আর ভারতের স্কোরটাও বেশি হতে পারত। গিল ১৯ বলে ২৯ রান করেন। সেই রান তাড়া করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ১২৭ রানেই মুড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ বলে ৬৯ রান করেন সইফ হাসান। তাঁর চারটি ক্যাচ পড়েছে। তাঁর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। বাকিরা এক অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তিনটি উইকেট নেন কুলদীপ যাদব। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ এবং বরুণ চক্রবর্তী।

ভারতের মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং চিন্তা বাড়াবে গৌতম গম্ভীরের। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেখানে ২০০-র বেশি রান হওয়া উচিত সেখানে ১৬৮ রানে থামতে হল ভারতকে। তাতে অবশ্য জিততে কোনও সমস্যা হল না। বোলারদের দাপটে বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেলেন সূর্যকুমার যাদবেরা। শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত। বৃহস্পতিবারের পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ সেমিফাইনাল হয়ে দাঁড়াল। সেই ম্যাচ যারা জিতবে তারা রবিবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে। অভিষেক নিজের ছন্দে রয়েছেন। পাকিস্তান ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেখান থেকেই শুরু করলেন। তবে প্রথম তিন ওভার দেখে খেললেন ভারতীয় ওপেনারেরা। তাড়াহুড়ো করেননি। চতুর্থ ওভার থেকে হাত খুলতে শুরু করলেন তাঁরা। প্রথম তিন ওভারে রান ছিল ১৭। পরের তিন ওভারে উঠল ৫৫ রান। পাওয়ার প্লে-তে ৭২ রান করল ভারত। আরও একটি অর্ধশতরান করলেন অভিষেক। আগের ম্যাচে ২৩ বলে করেছিলেন। এই ম্যাচে করলেন ২৫ বলে। পেসার, স্পিনার সকলের বিরুদ্ধেই হাত খুলে খেলেন অভিষেক। মাঠের চার দিকে বড় শট খেলতে পারেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও সেটাই দেখা যাচ্ছিল। শুভমন ভাল খেললেও পাকিস্তান ম্যাচের তুলনায় ধীরে খেলছিলেন। স্পিনারেরা বল করতে এসে খেলায় ফেরালেন বাংলাদেশকে। ভারতীয় বোলারেরা দাপট দেখালেন। বুমরাহের পর দলের তিন স্পিনারের সামনে খেই হারাল বাংলাদেশের ব্যাটিং। কুলদীপ আবার উইকেটের মধ্যে ফিরলেন। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি। বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী ২ করে উইকেট নিলেন। অক্ষর পটেল ও তিলক বর্মা ১ করে উইকেট নিলেন। পুরো ২০ ওভার খেলতে পারল না বাংলাদেশ। ১৯.৩ ওভারে ১২৭ রানে অল আউট। রবিবারের ফাইনালের আগে ব্যাটিং অর্ডারের পাশাপাশি ভারতের যদি আর একটি ক্ষেত্রে চিন্তা থাকে তা হল ফিল্ডিং।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles