
ফাউন্ডেশন সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি গ্রামে হেমোফিলিয়া রোগীদের জন্য একটি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে। ক্যাম্পে প্রায় ১২০ জন মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং এদের মধ্যে ৭০ জন রোগী হিসেবে নথিভুক্ত হন।
হেমোফিলিয়া একটি বিরল এবং ব্যয়বহুল রক্তক্ষরণজনিত রোগ, যার জন্য নিয়মিত ‘ক্লটিং ফ্যাক্টর’-এর প্রয়োজন হয়। এই চিকিৎসা অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ হওয়ায় বহু রোগীর পক্ষে তা নিয়মিত গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ইন্টাস ফাউন্ডেশন ফ্যাক্টর VIII সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা রোগীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির বিষয় হয়ে ওঠে।
এই ক্যাম্পে অংশ নিয়ে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা সুবাশীষ রায় চৌধুরী তার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি জানান, একদিন সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আঘাত পান। সেই রাতেই তার উরুতে রক্ত জমাট বেঁধে গাঢ় রঙ ধারণ করে। তিনি দ্রুত পূর্বের ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত ফ্যাক্টর VIII ইনজেকশন নিজ দেহে প্রয়োগ করেন।
“পরদিন সকালে আমি অনুভব করি যে, ঐ অংশে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। পরে কাছাকাছি হাসপাতালে গেলে ডাক্তাররা জানান, ইনজেকশনের প্রভাব ভালোভাবেই কাজ করেছে এবং আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ,” বলেন সুবাশীষ। তিনি আরও বলেন, “ইন্টাস ফাউন্ডেশন যদি এই দামী ওষুধটি বিনামূল্যে না দিত, তাহলে আমি হয়তো সেটা কিনে নিতে পারতাম না। ওদের জন্যই আমি বেঁচে আছি। আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
এই ক্যাম্প শুধু ওষুধ বিতরণে সীমাবদ্ধ ছিল না; স্থানীয় চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা রোগীদের এবং তাঁদের পরিবারদের হেমোফিলিয়া সম্পর্কে সচেতন করেন এবং নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে পরামর্শ দেন।
বর্তমানে যেখানে দীর্ঘমেয়াদী রোগের চিকিৎসা খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, সেখানে ইন্টাস ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অনেক পরিবারের জন্য আশার আলো। সুবাশীষের মতো অসংখ্য মানুষের কাছে এই সহায়তা শুধু একটি ওষুধ নয়—এটি তাদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুস্থতার প্রতীক।
ইন্টাস ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও অঞ্চলজুড়ে এধরনের ক্যাম্প আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সঠিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা পেতে পারে।
ক্যাম্প শেষে রোগীদের মুখে ছিল কৃতজ্ঞতার হাসি—যা এই উদ্যোগের সাফল্যের জীবন্ত প্রমাণ।





