Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মণিপুরে শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী!‌ নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিকে অভিনন্দন নরেন্দ্র মোদির

রক্তক্ষয়ী হিংসা। দু’বছর ধরে জ্বলছে মণিপুর। মৃত্যু বহু মানুষের। ঘর ছাড়া অগনিত। মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী। গোষ্ঠী সংঘাতের পর এই প্রথম রাজ্যে এসে চুড়াচাঁদপুরে ঘরহারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্বাস দিলেন, কেন্দ্র সরকার পাশে আছে। উপহারের ডালি সাজিয়ে মণিপুরে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী! দেখা করেন হিংসায় ঘরছাড়াদের সঙ্গে। চুড়াচাঁদপুর ছিল হিংসার ঘটনার কেন্দ্রস্থল। এখানে মৃত্যু হয় ২৬০ জনের। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ৬৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। চুড়াচাঁদপুরে পৌঁছে মণিপুরকে “সাহস ও দৃঢ়তার ভূমি” বলে প্রশংসা করেন। তিনি চুড়াচাঁদপুরের ত্রাণ শিবিরে বয়স্ক এবং শিশুদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। ত্রাণ শিবিরে শিশুরা হাতে আঁকা ছবি, ফুলের তোড়া এবং পালকের টুপি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দেয়। এই সফরে মোদির সঙ্গে ছিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ​​কুমার ভাল্লা। চূড়াচাঁদপুরের জনসভায় উপস্থিত হয়ে হিংসা ভুলে শান্তির আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ‘উন্নয়নের জন্য শান্তি জরুরি।’ উত্তর-পূর্বের রাজ্যে উন্নয়নের মেশিন চালিয়ে যেতে সংঘাত থামানোর আর্জি জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি ফেরাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চূড়াচাঁদপুরের সভায় মোদি বলেন, “আশা ও বিশ্বাসের নয়া সকাল শুরু হয়েছে মণিপুরে। তবে উন্নয়নের জন্য শান্তি প্রয়োজন। গত ১১ বছরে একাধিক সংঘাত হয়েছে এখানে। তবে মানুষ শান্তির পথই বেছেছেন।”

‘ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেপাল।’ মণিপুর থেকে প্রতিবেশী দেশটিকে জরুরি বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। শুক্রবার রাতে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৭৩ বছরের সুশীলা কারকি। সরকার পতনের পর অগ্নিগর্ভ নেপালের হাল ধরেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইম্ফলের সভা থেকেও সুশীল কারকি এবং নেপালকে বার্তা দিলেন নমো। ইম্ফলের সভা থেকে মোদি বলেন, “নেপাল ভারতের বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা ইতিহাস এবং (ধর্মীয়) বিশ্বাসের দিক থেকে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। একসঙ্গেই এগিয়ে চলেছি। নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শ্রীমতি সুশীলা কারকিকে ভারতের ১৪০ কোটি জনতার তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।” এর আগে এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লেখেন, “নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য, আমি মাননীয়া শ্রীমতী সুশীলা কার্কিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। নেপালের ভাইবোনদের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য ভারত সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ‘জেন জি’ বিক্ষোভের জেরে ওলি সরকারের পতনের চারদিন পর দেশটির দায়িত্বভার উঠেছে কারকির কাঁধে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম কার্যত নিশ্চিত হওয়ার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদও জানিয়ে বলেন, “মোদিকে আমি নমস্কার জানাই। আমি তাঁকে সম্মান করি। ভারতের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা এবং স্নেহ রয়েছে। কারণ, তারা সর্বদা নেপালের পাশে থেকেছে। নেপালে অনেক আগে থেকেই সমস্যা ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেশের উন্নয়নের জন্য এক সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব আমরা। নেপালের নতুন সূচনা স্থাপনের চেষ্টা করব।” হবু প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার পর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল জোরকদমে। অবশেষে শুক্রবার শপথ নেন। ৫ হাজার যুব আন্দোলনকারী একটি ভারচুয়াল বৈঠক করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে কারকির নাম প্রস্তাব করে। তরুণ প্রজন্ম কারকির কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেল তিনি সমর্থনের জন্য কমপক্ষে ১,০০০ লিখিত স্বাক্ষর চেয়েছিলেন। যদিও তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসাবে সমর্থন করে ২,৫০০-রও বেশি স্বাক্ষর সংগৃহীত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles