Saturday, July 25, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শুভাংশুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর উচ্ছ্বসিত মোদি!‌ দুঃখ হচ্ছে সেই অসাধারণ মানুষদের ছেড়ে আসতে

ঘরে ফিরছেন ‘শুক্স’। এই নামেই মার্কিন মুলুকে, বিশেষত নাসার অভিযানে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত হয়ে পড়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার সদস্য, ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী হিসাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন-এর ১৮ দিনের মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফিরেছেন আগেই। রবিবার সকালে ফিরলেন ভারতে। তার আগে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা লিখলেন মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি ভারতে ফিরে আসছি।’ বিমানে বসেই ইনস্টাগ্রামে লেখা সেই নোটে শুভাংশু তাঁর মনের নানা অনুভূতির কথা ভাগ করে নেন। শুভাংশু লিখেছেন, ‘ভারতে ফেরার – বিমানে বসে আমার মনে একসঙ্গে অনেকগুলো অনুভূতি কাজ করছে। দুঃখ হচ্ছে সেই অসাধারণ মানুষদের ছেড়ে আসতে, যারা গত এক বছরে এই মিশনে আমার পরিবার ও বন্ধু ছিল। আবার একইসঙ্গে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে, কারণ এবার আমি প্রথমবার মিশনের পর দেশে ফিরে আমার পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারব। মনে হচ্ছে, এটাই আসলে জীবন, সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া।’ এই অভিযানে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন তাতেও তিনি আপ্লুত। দেশে ফিরে তিনি আগামিকাল, সোমবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করবেন। গগনযানের জন্যও প্রস্তুতি নেবেন দ্রুত সেই বিষয়ে মোদির সঙ্গে কথা হবে তাঁর। দিল্লি বিমাবন্দরে পৌছান শুভাংশু। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রিয় মন্ত্রি জিতেন্দ্র সিং, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং ইসরোর কর্মকর্তারা। এক বছরে লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু নাসা, অ্যাক্সিওম এবং স্পেসএক্স-এর বিভিন্ন কেন্দ্রে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের অংশ হিসেবে তাঁর এই মহাকাশযাত্রা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বড় সাফল্য নয়, ভারতের সাফল্য এমনই মনে করছেন তিনি। মহাকাশ মিশনে সঙ্গে সামিল ছিলেন কমান্ডার পেগি হুইটসন। তাঁর প্রসঙ্গে শুভাংশু বলেন, ‘বিদায় জানানো কখনওই সহজ নয়। কিন্তু জীবন মানেই এগিয়ে চলা। যেমন আমার কমান্ডার পেগি হুইটসন বলেন, স্পেসফ্লাইটে পরিবর্তন একমাত্র অবিচল জিনিস। আমি মনে করি, এটা জীবনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।’ পোস্টের শেষে অ শুভাংশু শাহরুখ খানের ‘স্বদেশ’ ছবির জনপ্রিয় গান থেকে একটি লাইন উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘শেষমেশ বলতে হয়, ইউ হি চলা চল রহি, জীবন গাড়ি হ্যায় সময় পাহিয়া।’

ভারতীয় নভোশ্চর শুভাংশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডলে মোদি পোস্ট করেছেন তাঁর ও শুভাংশুর ছবি। লিখেছেন, ‘শুভাংশু শুক্লার সঙ্গে দারুণ আলাপচারিতা হয়েছে। আমরা মহাকাশে তাঁর অভিজ্ঞতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী গগনযান মিশন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারত ওঁর কৃতিত্বের জন্য গর্বিত।’ রাজকীয় অভ্যর্থনায় দেশে ফিরেছেন শুভাংশু। তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর জিতেন্দ্র সিং এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং ইসরোর কর্মকর্তারা। গত এক বছরে লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু নাসা, অ্যাক্সিওম এবং স্পেসএক্স-এর বিভিন্ন কেন্দ্রে কঠোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের অংশ হিসেবে তাঁর এই মহাকাশযাত্রা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের বড় সাফল্য নয়, ভারতের সাফল্য এমনই মনে করছেন তিনি। মহাকাশ মিশনে সঙ্গে শামিল ছিলেন কমান্ডার পেগি হুইটসন। তাঁর প্রসঙ্গে শুভাংশু বলেন, ‘বিদায় জানানো কখনওই সহজ নয়। কিন্তু জীবন মানেই এগিয়ে চলা। যেমন আমার কমান্ডার পেগি হুইটসন বলেন, স্পেসফ্লাইটে পরিবর্তন একমাত্র অবিচল জিনিস। আমি মনে করি, এটা জীবনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।’ বলে রাখা ভালো, এবার তিনি অংশ নেবেন গগনযান মিশনেও। ২৬ জুন ইতিহাস তৈরি করেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। অ‌্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হিসাবে অন্য তিন মহাকাশচারীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৌঁছান শুভাংশু। তারপর বেশ কিছুদিন ধরে মহাকাশ থেকে একাধিক বিষয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। এরপর ফিরে আসেন পৃথিবীতে। একেবারে ঘড়ি মিলিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে নামে তাঁর ক্যাপসুল। এর প্রায় ৫০ মিনিট পরে হ্যাচ খুলে শুভাংশুদের ক্যাপসুল থেকে বের করা হয়। এরপর তাঁদের নানা শারীরিক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যার পরে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অনুমতি মেলে।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘আত্মনির্ভর ভারত’। বড় বড় ক্ষেত্রে গবেষণা কাজে আর পাঁচটা উন্নত দেশকে টেক্কা দিচ্ছে। তারই মধ্যে একটি মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্র। সেই কাজে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো কার্যত যুগান্তকারী কাজ করে চলেছে। আগামী ২, ৩ বছরের মধ্যে ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে হবে ‘গগনযান মিশন’। তার প্রস্তুতি জোরকদমে। এবার শোনা গেল, নভশ্চরদের প্রশিক্ষণের জন্য বাইরের দেশে নয়, এ দেশেই তেমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে লাদাখের মরু অঞ্চল সো কার ভ্যালিকে। এখান থেকেই নাকি মহাকাশকে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করা যায়। তাই সেখানে তৈরি হচ্ছে হিমালয়ান আউটপোস্ট ফর প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন বা ‘হোপ’। এখানে মহাশূন্যের মতো পরিবেশ বানিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। এই উপত্যকা আসলে নোনা এলাকা। দেশের সর্বোচ্চ স্থানে এমন পরিবেশ পাওয়া বিরল। সেই কারণে এখানেই গম্বুজাকৃতি তাঁবু তৈরির সিদ্ধান্ত। নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার একটি তাঁবু বানানো হয়েছে হিমালয়ান আউটপোস্ট ফর প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন বা ‘হোপ’-এর তরফে। এর মধ্যে অন্তত ১০ দিন কাটালে মহাকাশের পরিবেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এই গোটা প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছেন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. সিদ্ধার্থ পাণ্ডে। তিনি নাসা-সহ একাধিক দেশের মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মতে, ”শুধু নভশ্চররা এখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, তা নয়। সাধারণ মানুষ, ভবিষ্যতে যাঁরা মহাকাশে যেতে ইচ্ছুক, তাঁদের কথা ভেবে এটা তৈরি করা।” লাদাখে তৈরি হিমালয়ান আউটপোস্ট ফর প্ল্যানেটারি এক্সপ্লোরেশন। দিন কয়েক আগেই মার্কিন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে জোট বেঁধে ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ মিশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন, লখনউয়ের শুভাংশু শুক্লা। তিনি ভারতের গগনযান মিশনে নভশ্চর হিসেবেও নির্বাচিত। তার আগে ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ একটা বাড়তি অভিজ্ঞতা, যা পরবর্তী মিশনে সামগ্রিকভাবে কিছুটা সুবিধা দেবে। শুভাংশুকে রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল। এ ব্যাপারে আর পরনির্ভরশীল থাকতে চায় না ভারত। মোদির ‘আত্মনির্ভরতা’র মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে ইসরোও সব বিষয়ে নিজেদের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে তৎপর। আর সেই কারণেই বেসরকারি সংস্থা ‘প্রোটোপ্ল্যানেট’-এর হাত ধরে লাদাখে ওই ‘হোপ’ তৈরির পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ এক অভিনব উদ্যোগ। মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্য নিয়ে ভারতের যা পরিকল্পনা, তা যথাযথভাবে করতে গেলে নিজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles