Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাবার গুলিতে ‘‌খুন’‌ টেনিস খেলোয়াড় মেয়ে!‌ বাবার উৎসাহেই টেনিস খেলা শুরু করেন, ১৮টি স্বর্ণপদক জেতেন

টেনিস খেলোয়াড় মেয়েকে খুন করলেন খোদ বাবা নিজেই। চর্চা গোটা দেশজুড়ে। গুলি করে খুন করলেন মেয়েকে। অভিযুক্ত দীপক যাদবের কথায়, কটাক্ষ সহ্য করতে করতেই মেয়ে রাধিকাকে খুন করেছেন তিনি। তারপরেই চর্চায় উঠে এসেছে দীপকের সম্পত্তির পরিমাণ। জানা গিয়েছে, মাসে অন্তত ১৭ লক্ষ টাকা আয় তাঁর। রয়েছে বিলাসবহুল ফার্মহাউসও। নিজের বাড়িতেই খুন হন হরিয়ানার রাজ্যস্তরের ২৫ বছর বয়সি টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার তাঁর বাবা দীপক। সেই ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব। রাধিকা-কাণ্ডে কাকা বলেন, ‘ভেবেছিলাম প্রেসার কুকার ফাটল, দোতলায় উঠে দেখি রক্তাক্ত ভাইঝি মেঝেতে পড়ে’ ! বিকট শব্দ। রাধিকা যাদবের চিৎকার। তা শুনে ছুটে গিয়ে তাঁর কাকা কুলদীপ যাদব দেখেন, রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ভাইঝি। আর ড্রয়িংরুমের টেবিলের উপর রাখা একটি পয়েন্ট ৩২ বোরের রিভলবার। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর দাদা দীপক যাদব!মেয়ের উপার্জনে বসে বসে খাচ্ছেন, জীবন কাটাচ্ছেন! আত্মীয়স্বজন থেকে প্রতিবেশীদের এ হেন কথা সহ্য করতে পারেননি হরিয়ানার দীপক যাদব। চেয়েছিলেন তাঁর মেয়ে বন্ধ করে দিক তাঁর টেনিস অ্যাকাডেমি। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না রাধিকা যাদব। পুলিশ জানিয়েছে, সেই রাগেই নিজের বাড়িতে মেয়ে রাধিকাকে পর পর গুলি করে খুন করেন দীপক! রাধিকাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি গুলি চালান দীপক। তিনটি গুলি রাধিকার বুকে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর। জেরার মুখেই খুনের কথা স্বীকার করে দীপক স্পষ্ট জানান, “গ্রামের সকলে আমাকে খোঁচা দিত। সবাই বলত, আমি মেয়ের পয়সায় বসে বসে খাই। এই খোঁচা শুনতে শুনতে বিরক্ত লাগত। আমার মেয়ের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলত। আমি অনেকবার মেয়েকে বলেছিলাম অ্যাকাডেমিটা বন্ধ করে দিতে, শোনেনি। বারবার কটাক্ষ শুনতে শুনতে আমার সম্মানহানি হচ্ছিল।”

হরিয়ানার টেনিস খেলোয়াড় রাধিকার খুনের নেপথ্যে কারণ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর সেই কারণ কিছুটা স্পষ্ট করল পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতি দুপুরে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন রাধিকা। সেই সময়েই পিছন থেকে পর পর পাঁচ বার গুলি চালান দীপক। তার মধ্যে তিনটি লাগে রাধিকার গায়ে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয় তাঁর দু’টি বন্দুকও। প্রাথমিক জেরায়, রাধিকাকে খুন করার কথা স্বীকার করে নেন দীপক। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি তদন্তকারীদের জানান, তাঁর মেয়ে কথা শুনতেন না। সব সময় রিল বানাতেন সমাজমাধ্যমে। রাধিকাকে বার বার বারণ করেও লাভ হয়নি। তাই রাগের বশে তাঁকে গুলি করেন। দীপক জানান, রাগের বশেই রান্নাঘরে গিয়ে মেয়েকে গুলি করে দেন তিনি। নিজের লাইসেন্সড রিভলভার থেকেই গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেন তিনি। জানা গিয়েছে .৩২ বোরের রিভলভার ব্যবহার করেন দীপক। গত কয়েকমাস ধরে মেয়ে রাধিকার জীবনযাপনে বিরক্ত হয়ে ওঠেন তিনি, বিশেষত আর্থিক স্বাধীনতার বিষয়টি ঘিরে। টেনিস অ্যাকাডেমি চালানোর পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং মিউজিক ভিডিও থেকেও উপার্জন করতেন রাধিকা। সেটাই মেনে নিতে না পেরে মেয়েকে খুন করে দেন দীপক।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে খুনের নেপথ্যে অন্য এক কারণও। পুলিশ জানিয়েছে, দিনকয়েক আগে খেলার সময় কাঁধে চোট পান রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা। এই চোট তাঁকে ভোগাচ্ছিল। কোর্টেও ভাল ফল করতে পারছিলেন না। ঠিক করেন শিশুদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি টেনিস অ্যাকাডেমি খুলবেন। সেই পরিকল্পনামতো নিজের এলাকাতেই একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করেন রাধিকা। রাধিকার উদ্যোগ ভাল ভাবে নেননি দীপক। তিনি চেয়েছিলেন এই অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিন রাধিকা, যা নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হত। পুলিশ জানিয়েছে, রাধিকার উপার্জনে সংসার চলত। এই নিয়ে নানা সময়ে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবের কাছে কথা শুনতে হত দীপককে। সেই কারণে দীপক চাইতেন না তাঁর মেয়ে অ্যাকাডেমি চালান। অ্যাকাডেমি বন্ধ করতেও বলেন। কিন্তু বাবার প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না রাধিকা। দীপক পুলিশকে বলেছেন, ‘‘আমি যখন দুধ কিনতে ওয়াজ়িরাবাদ গ্রামে যেতাম, তখন লোকেরা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করতেন। বলতেন, আমি আমার মেয়ের টাকায় বেঁচে আছি। এই সব কথায় খুব কষ্ট পেতাম। কেউ কেউ আবার আমার মেয়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। তাই আমি আমার মেয়েকে টেনিস অ্যাকাডেমি বন্ধ করে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু ও রাজি ছিল না।রাধিকাকে অ্যাকাডেমি বন্ধ করার কথা বলি। ও না শোনায় তর্কাতর্কি শুরু হয়। রাগের মাথায় আমি আমার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক দিয়ে গুলি করি।’’ দীপকের স্ত্রী মঞ্জু যাদব এই ব্যাপারে লিখিত বিবৃতি দিতে অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দীপকের ভাই কুলদীপ যাদব থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাধিকার হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছেন দীপকের এক পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, “দীপকের প্রচুর সম্পত্তি। সেগুলি ভাড়া দিয়েই মাসে ১৫ থেকে ১৭ লক্ষ টাকা উপার্জন। বিলাসবহুল ফার্মহাউসও রয়েছে। গ্রামের সকলেই জানে দীপক অত্যন্ত ধনী।” এত ধনসম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন লোকে বলবে মেয়ের টাকায় খায়? এটাই সবচেয়ে বড় রাগ ছিল দীপকের, এমনটাই দাবি ওই পরিচিতের। তাঁর মতে, রাধিকাকে খুবই ভালোবাসতেন দীপক। দামি র‍্যাকেট কিনে দিতেও দু’বার ভাবেননি। খুনের নেপথ্যের কারণ নিয়ে সংশয়।

রাধিকার কাকা কুলদীপ পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, গুরুগ্রামের ৫৭ নম্বর সেক্টরের সুশান্ত লোক এলাকায় তাঁদের দোতলা বাড়ি। ঘটনার সময় তিনি এক তলায় ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ হঠাৎই বিকট শব্দ শোনেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, দোতলায় কোনও বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রেসার কুকার ফেটেছে বলে মনে হয়েছিল। উপরে উঠে দেখেন রাধিকা খুন হয়েছেন! এফআইআরে কুলদীপ বলেন, ‘‘আমি দোতলায় উঠে দেখি রান্নাঘরে পড়ে রয়েছে আমার ভাইঝি। আমার পরেই ঘটনাস্থলে আসে আমার ছেলে পীযূষ। আমরা দু’জনে মিলে রাধিকাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে পরীক্ষা করে জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে রাধিকার। ঘটনার সময় দোতলায় ছিলেন দাদা, ভাইঝি এবং বৌদি মঞ্জু যাদব। আমার দাদার কাছে একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলবার ছিল। ঘটনাস্থলে আমি সেটা পড়ে থাকতে দেখি। সব দেখে আমি বুঝতে পারি রাধিকাকে গুলি করেছেন আমার দাদাই।’’

দীপক এবং কুলদীপ। দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন একই বাড়িতে। এক তলায় কুলদীপেরা এবং দোতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তাঁর দাদা। কুলদীপ এবং স্ত্রী সীমার দুই সন্তান। এক পুত্র, এক কন্যা। তাঁর দাদা-বৌদিরও দুই সন্তান। রাধিকা ছাড়াও দীপকের এক পুত্র রয়েছে। ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না দীপকের পুত্র ধীরজ। ব্যবসার কাজে বেরিয়েছিলেন। হরিয়ানার টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব টেনিস খেলা শুরু করেন বাবার উৎসাহেই, ১৮টি স্বর্ণপদক জেতেন, হরিয়ানার সেরার তালিকায় থাকা রাধিকা খুন হলেন? বছর পঁচিশের রাধিকা ছিলেন হরিয়ানার সেরা পাঁচ টেনিস খেলোয়াড়ের মধ্যে এক জন। ছোটবেলা থেকেই টেনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। আর সেই উৎসাহ জুগিয়েছিলেন বাবা দীপকই। বাবা দীপক যাদবের হাত ধরেই টেনিসের দুনিয়ায় পা রেখেছিলেন হরিয়ানার জাতীয় স্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। বাবা দীপকই তাঁর এগিয়ে চলার রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। রাধিকার খেলা, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে প্রতিযোগিতা। সব দিক থেকে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন দীপক। কন্যার টেনিস প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলতেও সহযোগিতা করেছিলেন। যে মানুষটি নিজে হাতে তাঁর কন্যার স্বপ্ন গড়ে দিয়েছিলেন, কী এমন হল যে সেই তিনি নিজে হাতে কন্যার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিলেন? কন্যার জীবন কেড়ে নিতেও কুণ্ঠাবোধ করলেন না? ২০০০ সালের ২৩ মার্চ রাধিকার জন্ম হরিয়ানার গুরুগ্রামে। একটি নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। তার পর ২০১৮ সালে বাণিজ্যবিভাগ নিয়ে দ্বাদশ পাশ করেন। ছোটবেলা থেকেই টেনিসের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। আর সেই উৎসাহ জুগিয়েছিলেন রাধিকার বাবা দীপকই। বছর পঁচিশের রাধিকা হরিয়ানার সেরা পাঁচ টেনিস খেলোয়াড়ের মধ্যে এক জন ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন-এর মহিলাদের ডবলসে রাধিকার র‌্যাঙ্ক ছিল ১১৩। ৫৭টি প্রতিযোগিতায় ১৮টি সোনার পদক জিতেছিলেন হরিয়ানার রাধিকা। পরিচিত এবং আত্মীয়েরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন রাধিকা। কাঁধের চোট পাওয়ার জন্য খেলা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি একটি টেনিস প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলেছিলেন। সেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে টেনিস প্রশিক্ষণ দিতেন রাধিকা। খুব ভাল চলছিল সেই প্রশিক্ষণকেন্দ্র। রাধিকা নিজেও এ বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। শুধু খেলা নিয়েই পড়ে থাকতেন, এমনটা নয়। সমান ভাবে বাড়ির কাজও সামলাতেন।

প্রাথমিক ভাবে খুনের নেপথ্যে যে তত্ত্বটি উঠে এসেছে, সেটি হল রাধিকার ইনস্টাগ্রামে রিল বানানো। এই বিষয়টি নিয়ে খুব একটা খুশি ছিলেন না তাঁর বাবা দীপক। তিনি নাকি বার বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তি শোনেননি রাধিকা। তার পরই কন্যাকে দীপক গুলি করে খুন করেন বলে দাবি। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, তদন্ত এগোতেই দেখা গিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম রিল বানানো খুনের নেপথ্য কারণ নয়। তা হলে? তার পরে উঠে আসে আরও একটি তত্ত্ব। যদিও তদন্তকারীদের সন্দেহ, সেই তত্ত্বেরও কতটা সত্যতা রয়েছে সেই বিষয়টাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি জেরায় দীপক নিজে একটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও তাঁর সেই দাবির সত্যতা কতটা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। গুরুগ্রাম পুলিশ সূত্রে খবর, রাধিকার টেনিস প্রশিক্ষণকেন্দ্র নিয়ে খুব একটি খুশি ছিলেন না দীপক। তিনি চাইতেন যে, রাধিকা এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ করে দিক। কিন্তু রাধিকা সেই পথে হাঁটেননি। তার মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্রও বেশ সফল ভাবে চলছিল। রাধিকার প্রশিক্ষণকেন্দ্র ভাল চলায় পড়শি এবং আত্মীয়দের কটাক্ষের মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন দীপক। তাঁরা কটাক্ষ করে তাঁকে বলতে শুরু করেন, ‘ভালই তো, বসে বসে মেয়ের উপার্জনের টাকায় খাচ্ছিস’। এই কটাক্ষ তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। তার মধ্যে রাধিকাকে প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ করার কথা বললেও তিনি শুনতে চাননি। সব মিলিয়ে গত ১৫ দিন ধরে অত্যন্ত মানসিক দোলাচলে ছিলেন বলে দাবি দীপকের। মেয়ের জন্য অপমান সহ্য করতে হচ্ছে বাইরের লোকের কাছে, সেটা মানতে পারেননি বলেও দাবি তাঁর। রাধিকার মা মঞ্জু যাদব মেয়ের খুনের বিষয়ে একটি কথাও বলেননি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শুধু দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না। তাঁর জ্বর হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে এই তত্ত্বগুলি উঠে এলেও পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রশ্নও উঠে এসেছে। যে ব্যক্তি নিজের কন্যার সাফল্যে গর্ববোধ করতেন, শৈশব থেকেই তাঁকে নানা রকম ভাবে সব কিছুতে সমর্থন করতেন, কী এমন ঘটল যে রাধিকার বিরুদ্ধে এত আক্রোশ জন্মেছিল তাঁর। ইনস্টাগ্রাম রিল বানানোর বিষয়টি খুনের কারণ বলে মনে করছেন না তদন্তকারীদের একাংশ। আবার প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ করা নিয়ে বাবা-মেয়ের ঝামেলাকেও এই চরম পদক্ষেপের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে না। যদি প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ করার বিষয়টিই এর কারণ হত, তা হলে শুরু থেকেই কেন এর বিরোধিতা করেননি দীপক? দীর্ঘ দিন চলার পর কেন তা বন্ধ করার প্রসঙ্গ উঠল? তদন্তকারীদের একটি সূত্র বলছে, এটি ‘সম্মানরক্ষার্থে’ খুন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ রাধিকাকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বাবা দীপকের বিরুদ্ধে। রাধিকা তখন রান্নাঘরে ছিলেন। দীপক তাঁকে লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান। তিনটি গুলি রাধিকার পিঠ, বুক ফুঁড়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাধিকার। মেয়ের উপর বাড়ির প্রতিটি সদস্যের এত ভরসা ছিল, তাঁর সাফল্যে আনন্দিত ছিল। মেয়েই হঠাৎ বাবার চক্ষুশূল হয়ে উঠলেন কেন? রাধিকা খুনের পর নেপথ্যে অনেকগুলি তত্ত্ব ঘুরপাক খাওয়া শুরু করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles