এক বছর পর আবার মোহনবাগানে ফিরলেন কিয়ান নাসিরি। চেন্নাইয়িন এফসি-তে এক বছর কাটিয়ে সবুজ-মেরুনে যোগ। চেন্নাইয়িনে খেলার সেরকম সুযোগ পাচ্ছিলেন না বলেই মোহনবাগানে ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছে। এক বছর পর আবার মোহনবাগানে ফিরলেন কিয়ান নাসিরি। চেন্নাইয়িন এফসি-তে এক বছর কাটিয়ে সবুজ-মেরুনে যোগ দিলেন। চেন্নাইয়িনে খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। মোহনবাগানে ফিরেছেন বলে জানা গিয়েছে। পুরনো ক্লাবে ফিরে আপ্লুত জামশিদ নাসিরির ছেলে। ২০১৯-এ মোহনবাগানের আই লিগ জয়ী দলে ছিলেন কিয়ান। ২০২২-এর আইএসএলে কলকাতা ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। বেশি খেলার সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যে মোহনবাগানে যোগ দিয়েছেন। চেন্নাইয়িনে ওয়েন কয়েলের পরিকল্পনায় থাকলেও নিয়মিত ম্যাচে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। গত মরসুমে ১৫টি ম্যাচের মধ্যে ছ’টি ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন। একটিও গোল করতে পারেননি। একটি অ্যাসিস্ট ছিল। নিজেই মোহনবাগানে ফিরতে চেয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। মোহনবাগানও তাঁর অনুরোধ মেনে নিয়েছে। চেন্নাইয়ে কিয়ান যে টাকা পেতেন তার থেকে কম টাকা পাবেন মোহনবাগানে। রাজি হয়ে মোহনবাগানে সই করার পর কিয়ান বলেন, “ফের কলকাতায় ফিরে ভাল লাগছে। সুযোগ পেলে নিজেকে আবার প্রমাণ করার চেষ্টা করব। এই ক্লাবেই আমার প্রথম খেলা শুরু। সেই জন্যই এই ক্লাবের প্রতি আমার একটা আলাদা আবেগ আছে।”
কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসাবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিকের নজির এখনও কিয়ান নাসিরির নামের পাশেই লেখা। জামশিদ নাসিরির পুত্র ২০২৪-এই মোহনবাগান ছেড়েছিলেন। ফের সবুজ-মেরুন জার্সিতে কিয়ান। তিন বছরের চুক্তিতে মোহনবাগানে সই। কিংবদন্তি ফুটবলার জামশিদ নাসিরির পুত্র কিয়ান ছোট বয়সে মোহনবাগান জুনিয়র দলে খেলতেন। অ্যাকাডেমিতে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর সিনিয়র দলেও সুযোগ পান। ২০২২ সালে আইএসএলের ডার্বিতে সুপার-সাব হিসেবে নেমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কিয়ান। কার্যত হারতে বসা ম্যাচ একার হাতেই জিতিয়ে দেন। তারপরও একাধিক নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছেন। সুভাষ ভৌমিকের নামাঙ্কিত পুরস্কারও পেয়েছেন। ম্যাচ খেলার জন্য কিয়ান মোহনবাগান ছেড়েছিলেন। চেন্নাইয়িনেও আইএসএলে ১৫টি ম্যাচ খেললেও প্রথম একাদশে ছিলেন মাত্র ৬টি ম্যাচ। যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে অ্যাসিস্ট করেছিলেন। সেই ম্যাচে জয়ও পেয়েছিল চেন্নাইয়িন। এবার ফের সবুজ-মেরুন জার্সিতে কিয়ান
মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ২ (লালথানকিমা, লালংঘাই) কলকাতা পুলিশ ২ (রাহুল, সন্দীপ)
ইস্টবেঙ্গল ১ (পেকা) সুরুচি ১ (কর্মণ্য)
কলকাতা লিগে দুই প্রধানের খেলা। বারাকপুর স্টেডিয়ামে মহামেডান নেমেছিল কলকাতা পুলিশের বিরুদ্ধে। নৈহাটি স্টেডিয়ামে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বী সুরুচি সংঘ। দু’টি ম্যাচই অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। মহামেডান দু’বার এগিয়ে গিয়েও ড্র করে। লাল-হলুদও ১ গোলে এগিয়েও লিড ধরে রাখতে পারেনি।
কলকাতা লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল সাদা-কালো ব্রিগেড। ফেডারেশনের ব্যানের আগেই লালথনকিমা, সজল বাগ, দীনেশ সিং, সাকা, শুভজিৎ ভট্টাচার্য, অ্যাডিসন সিংয়ের মতো কয়েকজন ফুটবলারের রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রেখেছিল। প্রথম ম্যাচে সেই ফুটবলারদের উপরই ভরসা রেখেছিল সাদা-কালো শিবির। ম্যাচের একদিন আগেই ফেডারেশনের রেজিস্ট্রেশন ব্যান নেমে আসে মহামেডান শিবিরে। ম্যাচের শুরুর দিকে অনবদ্য ডজে পুলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন লালথানকিমা। এগিয়ে যায় মহামেডান। রাহুল নস্করের গোলে সমতায় ফেরে পুলিশ। লালংঘাই সাকার গোলে ফের এগিয়ে যায় মহামেডান। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মহামেডান। পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু কলকাতা পুলিশ ফুটবলাররা ড্র করে। সন্দীপ ওরাওঁয়ের গোলে স্কোরলাইন ২-২।
লিগের অপর ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল শুরুটা ভালো করলেও প্রথম ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখতে ব্যর্থ হল। মেসারার্সকে ৭ গোল দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করা মশাল ব্রিগেড সুরুচি সংঘের কাছে আটকে যায়। ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন গুইতে ভানলালপেকা। ম্যাচে আধিপত্য ছিল লাল-হলুদেরই। কর্মণ্য বনসলের গোলে শেষমেশ সমতায় ফেরে সুরুচি। মনোতোষ মাঝি ও জেসিন না থাকার প্রভাব টের পায় ইস্টবেঙ্গল। গোল করার লোকের অভাব প্রকট হয় লাল-হলুদ শিবিরে। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বলরাম মান্ডির একটা ভুল প্রেস বল পেয়ে যান পেকা। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি তিনি। তবে কলকাতা পুলিশের একজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখায় অনেকটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও হাল ছাড়েননি সুরুচি ফুটবলাররা। কর্মণ্যর গোলে সমতা ফেরে ১-১ অবস্থায়। কলকাতা লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট তুলতে ব্যর্থ হলেন বিনো জর্জের ছেলেরা।




