Saturday, July 11, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হানিমুনে স্বামী খুন!‌ দায়ে গ্রেফতার, সোনম পুলিশকে কী বলেছিল?

মেঘালয়ে হনিমুনে গিয়েছিলেন সোনম রঘুবংশী ও রাজা রঘুবংশী। মেঘালয়ে উদ্ধার রাজার দেহ। এরপর সোনমকে গ্রেফতার করা হয় উত্তরপ্রদেশে। গোটা ঘটনার পরতে পরতে রহস্য। রাজাকে খুনের পেছনে সোনমের হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। সোনম গ্রেফতার হওয়ার পরেই মুখ খুলেছেন রাজা রঘুবংশীর মা। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, রাজা রঘুবংশীর মা উমা রাজবংশী জানিয়েছেন, সোনম ট্রিপের জন্য় টিকিট বুক করেছিল। সে মনে হয় শিলং সফরটা আরও কয়েকদিন বৃদ্ধি করতে চেয়েছিল। কারণ আমার ছেলে ওই এলাকাটি চিনত না। রাজার মা জানিয়েছেন, তারা গত বছরেও শিলংয়ে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সমস্ত সোনার অলঙ্কার পরে ওই দম্পতি মেঘালয়ে গিয়েছিল। সোনম তার বাবা মায়ের বাড়ি থেকে সরাসরি এয়ারপোর্টে চলে যান। রাজা প্রায় ১০ লাখ টাকার সোনার অলঙ্কার পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তার মধ্যে ডায়মন্ডের আংটি, গলার হার, ব্রেসলেট ছিল। মা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেন এত টাকার জিনিসপত্র পরে যাচ্ছ? এত অলঙ্কার কেন পরছ? সেই প্রশ্নের উত্তরে রাজা বলেছিল সোনিয়া পরে যেতে বলেছে। রাজার মা জানিয়েছেন, যদি সোনম এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে তার ফাঁসি হওয়া দরকার। তিনি আরও জানিয়েছেন, সোনম যদি কিছু করে থাকে তবে সিবিআই তদন্ত হওয়া দরকার। সেই সঙ্গেই তাঁর প্রশ্ন যদি সোনম আমার ছেলেকে ভালোই বেসে থাকে তবে কেন সে তাকে মারতে যাবে? রাজার মা জানান, এই ঘটনার পেছনে যারা যারা যুক্ত রয়েছে সবার শাস্তি চাই। ১১ মে রাজা ও সোনমের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল। পূর্ব খাসি পাহাড়ে হানিমুনে বেড়াতে গিয়েছিলেন দম্পতি। এরপর ২৩শে মে তারা নিখোঁজ হয়ে যায়। বালাজি হোমস্টে থেকে তাদের শেষবার বের হতে দেখা গিয়েছিল। সোহারিম এলাকায় একটি স্কুটারকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই স্কুটার ব্যবহার করেছিল তারা। এরপর খাদ থেকে উদ্ধার কার হয় রাজার দেহ। একটা কাটারি দিয়ে তাকে সম্ভবত হত্যা করা হয়েছিল। সেটাও উদ্ধার করা হয়েছিল ওই এলাকা থেকে। শনি রাতে আধিকারিকরা সোনমকে কার্যত অজ্ঞান অবস্থায় উত্তরপ্রদেশের একটি ধাবা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে গাজিপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। এরপর সে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুনের ছক কষার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা সোনম রঘুবংশী। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল সে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিজিপি অমিতাভ যশ সোনম রঘুবংশীকে ‘দুর্বল পরিকল্পনাকারী’ হিসাবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, স্বামীকে হত্যার কয়েকদিন পরে নিজেকে ভিকটিম হিসাবে পুলিশের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল সোনম। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আধিকারিক বলেন, পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিল না অভিযুক্ত। তাই সে এই দাবি করেছিল। উল্লেখ্য, সোমবার সোনম রঘুবংশী ও তাঁর চার সঙ্গীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোনম পুলিশের সামনে নিজেকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করে দাবি করেন, তাকে মাদক খাইয়ে গাজিপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ শেষ পর্যন্ত তার কাছে পৌঁছে যাবে জেনে সে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। সোমবার ভোর তিনটে নাগাদ পরিবারকে ওই তরুণী জানায়, গাজিপুর-বারাণসী রোডের একটি ধাবায় রয়েছে সে। মেয়েটির পরিবার তৎক্ষণাৎ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। তারপর সোনমকে গ্রেফতার করা হয়। সোনমকে প্রথমে মেডিকেল চেকআপের জন্য এবং পরে ওয়ান স্টপ সেন্টারে পাঠানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ অফিসার বলেন, ‘বিকেলে ঘুম থেকে ওঠার পর সোনমকে অপহরণ করা হয়েছে এবং সে কাউকে হত্যা করেনি বলে জানায়।’ মেঘালয়ের মধুচন্দ্রিমায় খুন সোনম ও রাজা রঘুবংশী গত ২৩ মে মেঘালয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। ২ জুন রাজাকে একটি গিরিখাতের কাছে পাওয়া যায়। তাকে খুন করা হয়েছিল। সোমবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে রহস্যজনকভাবে ফিরে আসে সোনম। এর আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন সোনম নিখোঁজ ছিল। সূত্রের খবর, রাজ কুশওয়াহা গ্রেফতার হওয়ার পরেই সোনম আত্মসমর্পণ করে। রাজার পরিবারের দাবি, সোনম মেঘালয়ে যাওয়ার একমুখী টিকিট কেটে রেখেছিলেন। রাজার ভাই বিপুল রঘুবংশী জানিয়েছেন, সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা তাঁর কর্মচারী ছিলেন এবং তিনি নিয়মিত তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলত।

মেঘালয়ে নিখোঁজ দম্পতি কাণ্ডে রহস্যের পর্দা উন্মোচন। কয়েকদিন আগেই রাজা রঘুবংশীর দেহ উদ্ধার। ৯ জুন তাঁর স্ত্রী সোনমের খোঁজ মেলে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে। সেখান থেকে রাজার স্ত্রী সোনমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোনম-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজার খুনের ঘটনায়। বাকি ধৃতরা হল বিশাল চৌহান, রাজা কুশওয়াহা এবং আকাশ রাজপুত। রাজার সঙ্গে বিয়ের আগেই রাজ কুশওয়াহা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সোনমের। এই রাজ নাকি রাজার শ্রাদ্ধে এসেছিল। এমনই দাবি করেছেন রাজা রঘুবংশীর মা উমা। রাজার ভাই বিপুল রঘুবংশী জানিয়েছেন, সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা তাঁর কর্মচারী ছিলেন এবং তিনি নিয়মিত তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। সোনমের বাবা জানিয়েছেন, রাজ নামে একটি ছেলে সোমনের সঙ্গে কাজ করে। তিনি বলেছিলেন যে তাঁর পদবি কুশওয়াহা কিনা তা তিনি জানেন না, তবে তিনি রাজকে চেনেন। তবে সোনম ও রাজের মধ্যে কোনও সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। তিনি বলেন, রাজের সঙ্গে সোনমের কোনও সম্পর্ক ছিল না। তিনি আরও জানান, সোনম ও রাজ দুজনের সম্মতিতে বিয়ে করেছিলেন। তিনি অস্বীকার করেছেন যে রাজাকে বিয়ে করার জন্য সোনমের উপর তার কোনও চাপ ছিল। এদিকে রাজ কুশওয়াহা গ্রেফতার হওয়ার পরেই সোনম আত্মসমর্পণ করে। রাজার পরিবারের দাবি, সোনম মেঘালয়ে যাওয়ার একমুখী টিকিট কেটে রেখেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল ধৃত সোনম। নিজেকে ভিকটিম হিসাবে পুলিশের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিল সোনম। সে দাবি করেছিল যে তাকে মাদক দিয়ে অপহরণ করা হয়েছিল। পুলিশ শেষ পর্যন্ত তার কাছে পৌঁছে যাবে জেনে সোমন ৯ জুন তার পরিবারকে জানায় যে সে গাজিপুরে আছে। গাজিপুর-বারাণসী রোডের একটি ধাবায় ছিল সোনম। এরপর সোনমের পরিবার তৎক্ষণাৎ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা স্থানীয় পুলিশকে খবর দেয়। তারপর সোনমকে গ্রেফতার।

ধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহর থেকে মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয় গিয়েছিলেন পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশী। সেখানে খুন। সেই রহস্যের পর্দা এবার উন্মোচন হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর খুনের মূল চক্রী সোনম রঘুবংশী ও তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশী ও তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী মধুচন্দ্রিমার সময় শিলংয়ের কাছ থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। পরে রাজার দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সন্দেহ, বিয়ের চার দিন পর থেকেই রাজাকে খুনের ছক কষেছিল সোনম। রাজা এবং সোনম ১১ মে বিয়ে করেছিলেন এবং ২০ শে মে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ২ জুন যখন রাজা রঘুবংশীর মৃতদেহ একটি খাদে পাওয়া যায়, তখন সন্দেহ করা হয়েছিল যে এটি ডাকাতির ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি রক্তমাখা রেইনকোট পাওয়া গিয়েছিল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহতের সোনার আংটি ও চেইন উধাও হয়। পুলিশ যত গভীরে তদন্ত করতে থাকে, মামলাটি ততই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। ৯ জুন উত্তরপ্রদেশের একটি ধাবা থেকে রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী সোনমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা সহ আরও তিন সন্দেহভাজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনম প্রথমে গাজিপুর পুলিশকে জানিয়েছিল যে দুষ্কৃতীরা জলপ্রপাতের কাছে রাজার জিনিসপত্র ছিনতাই করে তাকে হত্যা করেছিল, তবে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন বা কীভাবে পালিয়েছিলেন তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। ধৃত চারজনের কথা উল্লেখ করে সোনম বলেছিলেন, ‘আমি আমার স্বামীকে খুন করিনি। গয়নার জন্য তারা তাকে হত্যা করেছে।’ নিজেকে ভিকটিম সাজানোর চেষ্টা করেছিল সোনম। দাবি করেছিল, তাকে মাদক দিয়ে গাজিপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও পরে তদন্তে সত্যিটা উঠে আসে। সোনমের মিখ্যা ধোপে টেকেনি। রাজ কুশওয়াহা সোনমের বাড়ির কাছেই থাকত। সোনমের পারিবারিক ব্যবসায় হিসাবরক্ষক হিসাবে কাজ করত সে। এদিকে রাজার ভাই বিপুল বলে, রাজ কুশওয়াহা তাদের অধীনে কাজ করত। পুলিশের দাবি, রাজের সঙ্গে সম্পর্কের বিরুদ্ধে ছিল সোনমের পরিবার। শেষ পর্যন্ত রাজার সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেন সোনমের পরিবার। বিয়ের ঠিক চার দিন পরেই বাপের বাড়ি ফিরে আসেন সোনম। সেই সময়ই রাজার খুনের ছক কষে থাকতে পারেন সোনম। দাবি পুলিশের।

রাজা রঘুবংশীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশীকে নিয়ে মেঘালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছে শিলং পুলিশ। সূত্রের খবর, সড়কপথে তাঁকে প্রথমে বিহার নিয়ে যাওয়া হবে। তার পর কলকাতা। সেখান থেকে অসমের গুয়াহাটি হয়ে শিলঙে নিয়ে যাওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির পর থেকেই খুব একটা কথা বলছেন না সোনম। গাজ়িপুর থেকে বিহার নিয়ে আসার পথে পুলিশের কথার কোনও উত্তর দিতে চাননি সোনম। তাঁকে খাবার দেওয়া হলেও খেতে চাননি। বার বার তাঁকে খাবার খাওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি স্পষ্ট ‘না’ বলে দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম তাঁদের বার বার একটা কথাই জানিয়েছেন যে, তাঁর প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা করছে। ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। রাস্তায় বেশ কয়েক বার গাড়ি থামানো হয়। সোনমের বিশ্রামের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। কিন্তু সোনম তাতে সম্মতি দেননি। এমনকি খাবার দেওয়া হলেও তা খেতে অস্বীকার করেছেন। পুলিশ বার বার তাঁকে কোনও কথা জিজ্ঞাসা করলে চুপ করে থাকছেন সোনম। কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেই শুধু একটাই উত্তর দিচ্ছেন, ‘‘আমার মাথা যন্ত্রণা করছে।’’ সোনমের গ্রেফতারির পর তাঁকে শিলং নিয়ে যাচ্ছে সে রাজ্যে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশও। উত্তরপ্রদেশের সীমা পার করিয়ে দেয় তারা। তার পর সেই গাড়ি পৌঁছোয় বিহারে। বিহার পুলিশ সেই গাড়ি ‘এসকর্ট’ করে নিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, পটনা থেকে বিমানে কলকাতা, সেখান থেকে গুয়াহাটি। তার পর শিলঙে নিয়ে যাওয়া হবে। এখন মেঘালয় পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ সোনমকে জেরা করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আদায় করা। কারণ, এই ঘটনা মেঘালয় প্রশাসন এবং পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছিল। যদিও মেঘালয় পুলিশই এই নিখোঁজ রহস্যের উন্মোচন করেছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে এখনও রহস্য এবং ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। যে প্রশ্নের উত্তর সোনমই একমাত্র দিতে পারেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা কাণ্ডে ধৃত সোনম রঘুবংশী কি অন্তঃসত্ত্বা? মেডিক্যাল রিপোর্টে বাড়ল রহস্য। ইন্দোর দম্পতির মধুচন্দ্রিমা কাণ্ডে প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ৯ জুন উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে সোনম রঘুবংশীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই গোটা বিষয়টি ইউ-টার্ন নেয়। এতদিন যাঁকে ভিকটিম বলে মনে করা হচ্ছিল, সেই সোনমকেই এখন মূল অভিযুক্ত বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডে সোনমের বয়ফ্রেন্ড রাজ কুশওয়াহা-সহ চারজনের নাম জানা গিয়েছে। ঘটনায় উঠে এসেছে নতুন মোড়- সোনমের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর। ডাক্তারি পরীক্ষা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৯ জুন তিন মহিলা চিকিৎসকের একটি দল সোনমের মেডিক্যাল পরীক্ষা করেন। সোনমের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দুর্বল বলে জানা গেছে। তিনি ভয় পেলেও তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রেগন্যান্সি টেস্টের ফলাফল সন্তোষজনক নয়, যার অর্থ সোনম গর্ভবতী কিনা তা স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকরা সাত দিন পর পর সোনমের আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে অবস্থা পরিষ্কার করা যায়। এই বিভ্রান্তি তদন্তকে আরও জটিল করে তুলছে। সোনম যদি অন্তঃসত্ত্বা হন, তাহলে এই সন্তান রাজার না অন্য কারও? এই প্রশ্ন নতুন জটিলতা।

নিজেই নিজের জালে জড়িয়ে পড়ছেন স্বামী হত্যায় অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী। মেঘালয়ে ‘হানিমুন কিলিং’ মামলায় সোনমের গ্রেপ্তারের পর জেরার মুখে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত। যার জেরে দফায় দফায় বয়ান বদল করছেন সোনম। যার জেরে সন্দেহ আরও তীব্র হচ্ছে পুলিশের। সোনমকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রথম প্রশ্ন ছিল কীভাবে মেঘালয় থেকে গাজিপুর পৌঁছলেন তিনি? উত্তরে সোনম জানান, তাঁকে অপহরণ করে এখানে ফেলে রেখে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এর কয়েক ঘণ্টা পর ফের নিজের বয়ান বদল করেন অভিযুক্ত। জানান, তাঁকে মাদক খাওয়ানো হয়েছিল। এরপর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা। এছাড়াও পুলিশি জেরায় সোনমের বয়ানে মিলেছে একাধিক অসঙ্গতি। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি অমিতাভ যশের দাবি, সোনম আসলে যে পরিকল্পনা করেছিল তাতে বিস্তর গলদ ছিল। ও ভেবেছিল নিজেকে আক্রান্ত দেখিয়ে পার পেয়ে যাবে। নিজেকে মানসিক বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত হিসেবে দেখানোর কোনও খামতি রাখেনি। তবে নিজের বয়ানে একের পর এক অসঙ্গতির জেরে নিজের জালে জড়িয়ে পড়ছে অভিযুক্ত। ২০ মে মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ে ঘুরতে যান নবদম্পতি রাজা রঘুবংশী ও সোনম। ২৩ মে চেরাপুঞ্জিতে পৌঁছনোর পর নিখোঁজ দম্পতি। এই ঘটনার ১১ দিন পর জলপ্রপাতের খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। তবে খোঁজ মেলেনি সোনমের। এরইমাঝে সোমবার গাজিপুর থেকে নিজের বাড়িতে ফোন করেন সোনম। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এরপরই সোনমের বক্তব্যে অসঙ্গতি নজরে আসায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি সোনমের প্রেমীক রাজ কুশওয়াহা-সহ এই মামলায় মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেঘালয় পুলিশ গত রাতে সকল অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে এবং সেখান থেকে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শিলং। সোমবার রাতেই সোনম রঘুবংশীকে গাজিপুর থেকে পাটনায় নিয়ে আসে পুলিশ। আজ তাঁকে বিমানে গুয়াহাটি এবং সেখান থেকে শিলংয়ে আদালতে হাজির করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles