বিতর্কের ঝড়। আইপিএলের কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনাল ইডেন গার্ডেন্স থেকে আহমেদাবাদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে বিতর্ক। আবারও টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচের স্টেডিয়াম পরিবর্তন করল বিসিসিআই। ঘটনাচক্রে এবারের রদবদলেও জড়িয়ে রয়েছে ইডেন। কোথাও আবহাওয়ার সমস্যা। কোথাও মাঠ তৈরির অনুরোধ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সূচিতে একাধিক মাঠ বদলে দেওয়া হল। তবে আইপিএলের ফাইনাল চলে গেলেও, একটি টেস্ট ম্যাচ পাচ্ছে ইডেন গার্ডেন্স। প্রতিপক্ষের নামটাই শুধু বদলে যাচ্ছে। বিবৃতি দিয়ে বিসিসিআইয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, ভারতীয় পুরুষ এবং মহিলা দলের ম্যাচগুলির ভেন্যু কিছুটা বদল করা হয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত, সেই নিয়ে বোর্ডের বিবৃতিতে আলাদা করে কিছু বলা হয়নি। অক্টোবরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট রয়েছে শুভমান গিলদের। সেই ম্যাচটি খেলা হবে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে ম্যাচটি ইডেনে হওয়ার কথা ছিল। তার পরিবর্তে ১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলা হবে ইডেনে। নভেম্বর মাসে দিল্লিতে টেস্ট আয়োজনের সূচি দেখেই প্রশ্ন উঠেছিল ক্রিকেটমহলে। কারণ ওই সময় প্রতি বছরই দিল্লিতে দূষণ ব্যাপক আকার নেয়। বিশেষ করে দীপাবলির পর দিল্লির বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে যায়। অতীতে বিশ্বকাপের ম্যাচের অনুশীলনও দূষণের জন্য বাতিল করতে হয়েছে। অক্টোবরে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্বিতীয় টেস্ট হওয়ার কথা ছিল ইডেনে। পরিবর্তিত সূচিতে তা হবে দিল্লিতে। দিল্লিতে হওয়ার কথা ছিল ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। সেটি আনা হয়েছে কলকাতায়। ১৪-১৮ নভেম্বর হবে সেই ম্যাচ। বোর্ডের দল খতিয়ে দেখেছে, নভেম্বরে দীপাবলির কারণে দিল্লিতে বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। তাই ওই সময়ে ম্যাচ করা মুশকিল। তাই সেই ম্যাচ সরিয়ে কলকাতায় আনা হয়েছে।এই প্রসঙ্গে বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সাফ জানান, দিল্লিতে প্রত্যেক বছর মোটেই এমন সমস্যা দেখা যায় না। শেষ পর্যন্ত সেই দূষণের কথা মাথায় রেখেই দিল্লি থেকে শীতকালের যাবতীয় ম্যাচ সরিয়ে দিয়েছে বিসিসিআই, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত আইপিএলেই ভেন্যু বদল ঘিরে তোপের মুখে পড়েছিল বোর্ড। বৃষ্টির অজুহাত দিয়ে ইডেন থেকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার এবং ফাইনাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার চলাকালীন ঝেঁপে বৃষ্টি আসে। দূষণের জন্য যেন বোর্ডের মান রক্ষার কারণেই ভারতীয় দলের ভেন্যু বদলের সিদ্ধান্ত। ভারতের মহিলা দলের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার মহিলা দলের তিনটি এক দিনের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল চেন্নাইয়ের এম চিদম্বরম স্টেডিয়ামে। কিন্তু পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নতুন করে মাঠ এবং পিচ তৈরি করতে চাওয়ার জন্য চেন্নাইয়ের তরফে সেই ম্যাচ অন্যত্র সরানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। তা মেনে নিয়েছে বোর্ড। ফলে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ের প্রথম দু’টি ম্যাচ হবে মুল্লানপুরে। তৃতীয়টি হবে দিল্লিতে। জানা যাচ্ছে, মুল্লানপুরে মহিলাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ দেওয়া হয়নি বলে এক দিনের ম্যাচগুলি দেওয়া হয়েছে। ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের তিনটি এক দিনের ম্যাচ বেঙ্গালুরু থেকে রাজকোটে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে মহিলাদের বিশ্বকাপের উদ্বোধন ও ফাইনাল হওয়ার কথা। তার প্রস্তুতি সারা হবে।
২০ জুন থেকে হেডিংলেতে শুরু ভারত-ইংল্যান্ড প্রথম টেস্ট। তার আগে লর্ডসে অনুশীলন করছে ভারতীয় দল। ১১ জুন থেকে লর্ডসেই শুরু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে নামার আগে লর্ডসে অনুশীলন করতে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ভারতীয় দলের অনুশীলন ছিল লর্ডসে। তার আগে অস্ট্রেলিয়া দল সেখানে যায়। ভারতের অনুশীলন থাকায় অস্ট্রেলিয়াকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অনুশীলনের জন্য বাসে তিন ঘণ্টা ঘুরে অন্য মাঠ খুঁজতে হয় প্যাট কামিন্সদের। এই ঘটনায় কিছুটা হলেও বিরক্ত অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারেরা। আয়োজকদের উপর দায় চাপিয়েছে। রবিবার অবশ্য সেই সমস্যা হয়নি। আগে থেকেই সময় ভাগ করা ছিল। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল নিজেদের নির্ধারিত সময়ে অনুশীলন করেছে। তার পরে অনুশীলন করেছে ভারত। আয়োজকেরা জানিয়েছে, শনিবার আগে থেকে অনুশীলনের সময় জানায়নি অস্ট্রেলিয়া। তার ফলেই বিপত্তি হয়েছে। পরে অবশ্য সেই সমস্যা মিটেছে। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। গত বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। এ বার তাদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই প্রথম বার ফাইনালে উঠেছে তারা। গত দু’বার টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল ভারত। এ বার ফাইনালে উঠতে পারেনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ দিয়ে আগামী টেস্ট বিশ্বকাপের পর্ব শুরু হবে ভারতের। শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি গত মাসে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ায় এ বার নতুন দল নিয়ে গিয়েছে ভারত। নতুন টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে শুভমন গিলকে। তাঁর প্রথম সিরিজ়ই কঠিন পরীক্ষা। সেই কারণেই সিরিজ় শুরুর বেশ কয়েক দিন আগে ইংল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় দল। সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ক্রিকেটারেরা। ১৩ থেকে ১৬ জুন নিজেদের মধ্যে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন শুভমনেরা। তার আগে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ভারত ‘এ’।

ইংল্যান্ড সিরিজ়ের দলে থাকা কয়েক জন ক্রিকেটার সেখানে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন।ইংল্যান্ডে অনুশীলনে নেমে চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। তবে সেই চোট যে গুরুতর নয় তা জানিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় সহ-অধিনায়ক। পন্থের মারা একটি ছক্কার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। এক শটে স্টেডিয়ামের ছাদ ভেঙে দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নেটে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ব্যাট করছেন পন্থ। একটি বলে হাঁটু মুড়ে মিড উইকেটের উপর দিয়ে মারেন। সেই বলটি গিয়ে পড়ে বেকেনহ্যাম স্টেডিয়ামের ছাদে। সেই ভিডিয়োয় দেখা যায়, ছাদের একটি টালি ভেঙে গিয়েছে। নেটে ব্যাট করার সময় একটি বল লাফিয়ে পন্থের বাঁ হাতে লাগে। সেই জায়গায় আইসপ্যাক লাগাতে দেখা যায় ভারতের উইকেটকিপারকে। তবে চোট গুরুতর নয়। অনুশীলনের পর হোটেলে ফেরার আগে সাংবাদিকদের পন্থ জানান, সব ঠিক আছে। দলের চিকিৎসকও একই কথা বলেছেন। অনুশীলনের শুরুতে পন্থকে দেখা যায় দয়ানন্দ গরানি এবং রঘুর থেকে থ্রোডাউন নিতে। নিজের ছন্দ এবং ফুটওয়ার্ক নিয়ে অনুশীলন করেন। এর পর স্পিনারদের বিরুদ্ধে নেটে খেলেন। কুলদীপ যাদব, সুন্দর এবং রবীন্দ্র জাডেজার বলে খেলেছেন। তৃতীয় ভাগে তিনি খেলেছেন পেসারদের। সেখানে জসপ্রীত বুমরাহ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অর্শদীপ সিংহ এবং মহম্মদ সিরাজ। পন্থের খেলার মধ্যে শান্ত মনোভাব দেখা গিয়েছে। খারাপ বলে মেরেছেন। আবার দরকার মতো রক্ষণও করেছেন। স্পিনারদের বিরুদ্ধে ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলেছেন। পেসারদের বিরুদ্ধে বলে চোখ রেখে খেলার চেষ্টা করেছেন, যাতে স্লিপে ক্যাচ না উঠে যায়।
চলতি আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রথম শিরোপা জয়ের উদ্যাপন যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে পরিণত হবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেনি। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই কিশোর এবং তরুণ। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই স্টেডিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্ণাটক সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বহু প্রশাসনিক আধিকারিককে অপসারণ করা হয়েছে এবং কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সচিব ও কোষাধ্যক্ষও পদত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নয়। এমনকি, সরকারের তরফে কোনও আলোচনাও হয়নি এই বিষয়ে। সবদিকে বিবেচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি আরও নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তরের বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে’। চিন্নাস্বামীর স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪০,০০০ হলেও, সেদিন ভিড় ছিল তার দ্বিগুণেরও বেশি। চিন্নাস্বামীর চতুর্দিকে ব্যস্ত রাস্তা, কাবন পার্ক এবং সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত জমি রয়েছে। ফলে সুরক্ষা পরিকাঠামো বা জরুরি প্রস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব নয়। যদিও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর স্টেডিয়াম স্থানান্তর প্রসঙ্গে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মূল শহরের আশেপাশেই কয়েকটি জায়গা ইতিমধ্যেই বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা যাবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্রীড়া পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শুরু হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
সিকে নাইড়ু থেকে শুভমন গিল। মাঝে কেটে গিয়েছে ৯৩ বছর। ১৯৩২ সালে সিকে নাইড়ুর নেতৃত্বে প্রথম বার টেস্ট খেলে ভারত। তার পর অধিনায়কত্বের ব্যাটন গিয়েছে ৩৬ জন ক্রিকেটারের হাতে। দেশের ৩৭তম টেস্ট অধিনায়ক হলেন শুভমন গিল। তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছে তরুণ ভারতীয় দল। কেমন ছিল এই ৯৩ বছরের সফর? কোন ৩৭ জনের হাতে ছিল টেস্ট ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব?
সিকে নাইড়ু: ১৯৩২ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ভারতের টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন কোট্টারি কানাকাইয়া নাইড়ু। ৪টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে ৩টি টেস্টে হেরে যায় ভারত। অন্য ম্যাচটি ড্র হয়।
বিজয়নগরের মহারাজ: আসল নাম বিজয় আনন্দ গণপতি রাজু। তবে ক্রিকেটের মাঠে তিনি বিজয়নগরের মহারাজ নামেই পরিচিত। ১৯৩৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে ৩টি টেস্ট খেলে ভারত। এর মধ্যে দু’টিতেই হারতে হয় দলকে। অন্য ম্যাচটি ড্র হয়।
ইফতিকার আলি খান পটৌডি: ১৯৪৬ সালে তিনিও তিনটি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বেও জয় পায়নি ভারত। দু’টি টেস্ট ড্র হয় এবং একটিতে হারতে হয় সিনিয়র পটৌডির ভারতকে।
লালা অমরনাথ: ছেলের হাত ধরে প্রথম বার বিশ্বকাপ জেতে ভারত। মহিন্দর অমরনাথের বাবা লালা অমরনাথের হাত ধরে প্রথম টেস্ট জয় পায় ভারত। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত দেশকে ১৫টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে দু’টি টেস্টে জয় পায় ভারত। ড্র হয় সাতটি ম্যচ। ছ’টি টেস্টে হারতে হয় ভারতকে।
বিজয় হজারে: দেশের পঞ্চম টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন বিজয় হজারে। তাঁর নেতৃত্বেও একটি টেস্ট জেতে ভারত। তবে হারতে হয় পাঁচটি ম্যাচ। ড্র হয় আটটি ম্যাচ। হজারের নেতৃত্বে ভারত ইংল্যান্ডকে ইনিংস ও ৮ রানে হারায়। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২টি উইকেট নেন বিনু মাঁকড়। শতরান করেন পঙ্কজ রায় এবং পলি উমরিগর।
বিনু মাঁকড়: ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ছ’টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন ভারতের এই প্রবাদপ্রতিম অলরাউন্ডার। তবে তাঁর নেতৃত্বে টেস্ট জেতেনি ভারত। পাঁচটি ড্র এবং একটিতে হারতে হয় মাঁকড়র ভারতকে।
গুলাম আহমদ: ভারতের সপ্তম টেস্ট অধিনায়ক গুলাম আহমদও মাঁকড়ের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে দু’টি টেস্টে হারে দল, হারে একটি টেস্টে।
পলি উমরিগর: সমসাময়িক সময়ে আরও এক অধিনায়ককে পেয়েছিল ভারত। তিনি পলি উমরিগর। তাঁর হাত ধরেও দু’টি টেস্টে জয় পায় ভারত।
হেমু অধিকারী: উমরিগরের পর ভারতকে একটি টেস্টে নেতৃত্ব দেন হেমু অধিকারী। ব্যাটে-বলে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওই টেস্ট ড্র করে ভারত। সেই সিরিজে তিনি ছিলেন ভারতের চতুর্থ অধিনায়ক।
দাত্তা গায়কোয়াড়: ১৯৫৯ সালে ভারতকে ৪টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন দাত্তা গায়কোয়াড়। তবে তাঁর নেতৃত্বে সব ক’টি টেস্টেই হেরে যায় দল।
পঙ্কজ রায়: দত্তার পর একটি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন পঙ্কজ রায়। তবে সেই টেস্টেও হেরে যায় ভারত। দুই ইনিংস মিলিয়ে মাত্র ১৫ রান করেন বাঙালি ওপেনার।
গুলাবরাই রামচন্দ: পঙ্কজের হাত থেকে ব্যাটন নেন গুলাবরাই রামচন্দ। তিনি ভারতকে পাঁচটি টেস্টে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে একটিতে জয় পায় ভারত। দু’টি টেস্টে হারের মুখ দেখতে হয়। বাকি দু’টি টেস্ট ড্র হয়।
নরি কন্ট্রাক্টর: ১৯৬০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এক ডজন টেস্টে নেতৃত্ব দেন নরি কন্ট্রাক্টর। এর মধ্যে আটটি ম্যাচ ড্র হয়। বাকি চারটি ম্যাচের দু’টিতে জয় পায় ভারত।
মনসুর আলি খান পটৌডি: এর পর অধিনায়ক নির্বাচিত হন ইফতিকর আলির ছেলে মনসুর আলি খান পটৌডি। দীর্ঘ ১৩ বছর দেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ৪০টি টেস্ট খেলে ভারত। এর মধ্যে ১৯টি টেস্ট হারলেও ন’টি টেস্টে জেতে ভারতীয় দল।
চন্দু বোর্ডে: পটৌডি জমানার মাঝেই একটি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দেন চন্দু বোর্ডে। তবে সেই টেস্টে হেরে যায় ভারত।
অজিত ওয়াড়েকর: পটৌডি জমানার মাঝে একাধিক টেস্টে নেতৃত্ব দেন অজিত ওয়াড়েকর। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ১৬টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে চারটি করে টেস্ট জেতে এবং হারে ভারত।
শ্রীনিবাসরাঘবন ভেঙ্কটরাঘবন: এর পর ভেঙ্কটরাঘবনের নেতৃত্বে পাঁচটি টেস্ট খেলে ভারত। তবে তাঁর নেতৃত্বে একটিও টেস্ট জেতেনি ভারত।
সুনীল গাওস্কর: ১৯৭৬ সালে ভারতের অষ্টাদশ অধিনায়ক নির্বাচিত হন সুনীল গাওস্কর। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নেতৃত্ব দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ৪৭টি টেস্ট খেলে ভারত। এর মধ্যে ৩০টি ড্র হলেও ন’টিতে জেতে ভারত।
বিষেণ সিংহ বেদী: এই সময়ে টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে অভিষেক হয় বিষেণ সিংহ বেদীরও। তবে তাঁর নেতৃত্বে খেলা ২২টি টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই হেরে যায় ভারত। জেতে মাত্র ছ’টিতে।
গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ: এই সময়ে দু’টি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ। তবে ওই দুই টেস্টের একটিতেও জিততে পারেনি দল।
কপিল দেব: ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ৩৪টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন ‘হরিয়ানা হ্যারিকেন’। দেশকে প্রথম বার বিশ্বকাপ এনে দিলেও টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে তেমন সফল ছিলেন না কপিল। তাঁর নেতৃত্বে মাত্র চারটি টেস্টে জয় পায় ভারত। হারতে হয় সাতটি ম্যাচ।
দিলীপ বেঙ্গসরকর: ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত ১০টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন ডানহাতি মুম্বইকর। এর মধ্যে পাঁচটি টেস্টে হারে ভারত। জেতে মাত্র দু’টিতে।
রবি শাস্ত্রী: এই সময়ে রবি শাস্ত্রীও একটি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেই টেস্ট জেতে ভারত। তবে সেই টেস্ট স্মরণীয় হয়ে আছে নরেন্দ্র হিরওয়ানির ১৬ উইকেটের জন্য।
কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত: ১৯৮৯ সালে শ্রীকান্তের নেতৃত্বে চারটি টেস্ট খেলে ভারত। অমীমাংসিত থাকে চারটি টেস্টই।
মহম্মদ আজ়হারউদ্দিন: ভারতের ২৫তম টেস্ট অধিনায়ক মহম্মদ আজ়হারউদ্দিন। ১৯৯০-’৯৯ পর্যন্ত ৪৭টি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন আজ়হার। তাঁর নেতৃত্বে ১৪টি টেস্ট জেতে ভারত, হারেও সমপরিমাণ টেস্টে।
শচীন তেন্ডুলকর: এর পর অধিনায়কত্বের ব্যাটন যায় সচিন তেন্ডুলকরের হাতে। ২৫টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’। এর মধ্যে দল জেতে মাত্র চারটি ম্যাচে। হেরে যায় ন’টি ক্ষেত্রে।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়: ভারতের ২৭তম টেস্ট অধিনায়ক হন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ৪৯টি টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে ২১টি টেস্টে জয় আসে। দল হারে ১৩টি ম্যাচে। ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
রাহুল দ্রাবিড়: সৌরভের পর নেতৃত্বের ব্যাটন যায় রাহুল দ্রাবিড়ের হাতে। ২৫টি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে আটটি টেস্ট জেতে ভারত, হারে ছ’টিতে।
বীরেন্দ্র সহবাগ: দ্রাবিড়ের পর অধিনায়ক হন বীরেন্দ্র সহবাগ। তবে একটানা অধিনায়কত্ব করেননি তিনি। ২০০৫ থেকে ২০১২ পর্যন্ত চারটি টেস্টে নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে ভারত জয় পায় দু’টি টেস্টে। হারে একটিতে।
অনিল কুম্বলে: ভারতের ৩০তম টেস্ট অধিনায়ক অনিল কুম্বলে। ২০০৭-’০৮ মরসুমে দেশকে নেতৃত্ব দেন ‘জাম্বো’। তবে তেমন সাফল্য পাননি তিনি। কুম্বলের নেতৃত্বে ১৪টি টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতে হেরে যায় ভারত। জেতে মাত্র তিনটি টেস্টে।
মহেন্দ্র সিংহ ধোনি: ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ভারতের টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ৬০টি টেস্টের মধ্যে ২৭টিতে তাঁর নেতৃত্বে জয় পায় দেশ। হেরে যায় ১৮টি ম্যাচ।
বিরাট কোহলি: দেশের ৩২তম টেস্ট অধিনায়ক হন বিরাট কোহলি। সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দেশকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচে (৬৮) নেতৃত্ব দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই সবচেয়ে বেশি টেস্ট (৪০) জেতে ভারত।
অজিঙ্ক রাহানে: এই সময়ের মধ্যে আরও দুই টেস্ট অধিনায়ক পায় ভারত। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছ’টি টেস্টে নেতৃত্ব দেন অজিঙ্ক রাহানে। এর মধ্যে চারটি টেস্টেই জেতে ভারত। ড্র হয় বাকি দু’টি টেস্ট। রাহানের নেতৃত্বে একটিও টেস্ট হারেনি ভারত।
লোকেশ রাহুল: এই সময়ে তিনটি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেন লোকেশ রাহুলও। এর মধ্যে দু’টি টেস্টে জেতে ভারত, হারে একটিতে।
রোহিত শর্মা: কোহলির পর নেতৃত্বের ব্যাটন যায় রোহিত শর্মার হাতে। তাঁর নেতৃত্বে ২৪টি টেস্ট খেলে ভারত, জয় পায় ১২টিতে।
জসপ্রীত বুমরাহ: রোহিতের পর তিনটি টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে এর মধ্যে দুই ক্ষেত্রে হেরে যায় ভারত। জেতে একটিতে।
শুভমন গিল: চলতি ইংল্যান্ড সফরে ভারতের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন শুভমন গিল। দেশের ৩৭তম টেস্ট অধিনায়ক। তরুণ নেতার হাত ধরে তরুণ ভারতীয় দল কেমন খেলে, নজর সকলের।




