অলরাউন্ডার ‘দাদা’। ২২ গজ থেকে ছোট পর্দা, কিংবা বিজ্ঞাপনী ছবির প্রচারে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জৌলুস সর্বত্র। যে কোনও পোষাকেই জৌলুস সবসময় ঠিকরে পড়ে! বেহালা থেকে বালিগঞ্জ। বলি থেকে টলি। কলকাতা থেকে বিলেত। সর্বত্রই ‘দাদা’র জয়জয়কার। ‘প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক’, ‘সঞ্চালক’ ‘অভিনেতা’ নবরূপে ‘শিল্পপতি’ সর্বক্ষেত্রেই সফল বাংলার ‘মহারাজ’! প্রাক্তন বিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবার দাঁড়াচ্ছেন সিএবি প্রেসিডেন্ট পদে। সৌরভ প্রতিনিয়ত মনে করেন পরিবর্তন ছাড়া জীবজগৎ অসম্পূর্ণ। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই হবে প্রত্যেককে। যখন যেমন তখন তেমন। নইলে আপনার অস্তিত্ত্ব থাকবে না। আমিও তাই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করি। এটাও তো চলা। জীবন থেমে থাকে না। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সঞ্চালনায় এসেই প্রথমেই প্রথম থমকেছিলেন। সৌরভ বলেন, প্রথম সিজন সঞ্চালনার পর ধরেই নিয়েছিলাম, পরের সিজনে আর ডাকবে না। যাচ্ছেতাই করেছি। তখন মা বলেছিলেন, চেষ্টার বিকল্প কিছু নেই। ধীরে ধীরে আমারও মনে হল, চেষ্টা করেই দেখি না, পারি কিনা! ওই যে বললাম, মানুষকে সারা ক্ষণ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। দেখতে দেখতে ১০টা সিজন সাড়ম্বরে পেরিয়ে এলাম।
পারিশ্রমিকের অঙ্কের প্রতি সৌরভের আর কোনও টান নেই। দাদা বললেন, কাজই টানে। কাজ করলে তো উপার্জন হবেই। শুধুই উপার্জনই লক্ষ্য নয়। একটা উদাহরণ দিই। দর্শক ‘দাদাগিরি’ দেখতে ভালবাসেন। আমায় ভালবাসেন। আমায় দেখতে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা টেলিভিশনে চোখ রাখেন। এটা কম পাওনা নয়! আমার সঞ্চালনায় একটা অনুষ্ঠান রেটিং চার্টে ভাল ফল করে। যা দেখে পরিচালক, দলের বাকিদের মুখ আনন্দে ঝলমলিয়ে ওঠে। এ সব যখন দেখি, পারিশ্রমিকের কথা মনেই থাকে না। এখন আর টাকার নেশায় কোনও কাজ করি না। কাজের নেশায় কাজ করে যাই। আরও ভাল কী করতে পারি। এই ভাবনা আমায় দৌড় করায়। এখনও কাজের খিদে কমেনি। যত দিন এই খিদে থাকবে, কাজ করেই যাব। তা ছাড়া, যে দিন ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম সে দিন কি জানতাম, শহরে আমার চারটে বাড়ি থাকবে? চলার পথে যখন যা এসেছে করার চেষ্টা করেছি। যেখানে সফল হয়েছি সেখানে ফল পেয়েছি।একমাত্র কন্যা সানাকেো উপার্জনের জন্য সানাকে চাকরি করতে পাঠাইনি তো! ওকে পাঠিয়েছি নিয়মানুবর্তিতা শেখাব বলে। চাকরি করা মানে ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষ, সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে চলা। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা। সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমোতে যাওয়া। ঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া করা। নিজেকে নিজের দায়িত্বে সামলে চলা। এখানে থাকলে রাত ১টা-২টোয় ঘুমোত। সকাল হত বেলা ১টায়।
২২ গজ থেকে অভিনয়ে আসা প্রসঙ্গে প্রাক্তন সিএবি সভাপতি বলেন, অভিনয়ে বলবেন না। আমি অভিনয় করতে পারি না। সঞ্চালনায় এসেছি। বিজ্ঞাপনী ছবিতে কাজ করি, এই পর্যন্ত। নীরজ পাণ্ডের ‘খাকি ২’-এর প্রচার ছবিতে তো অভিনয়-ই একপ্রকারান্তে! মহারাজ বলেন, ও, ওটা? ওই কাজটি করে ভাল লেগেছে। বিশেষ কোনও মানুষকে মনে করে রাগে চিৎকার করে ওঠা। ‘ফেলুদা’র ভূমিকায় অভিনয়ের জন্যও অনেক বার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিনয় আমার দ্বারা হবে না। অভিনয় করবও না। তাই রাজি হইনি। রিয়্যালিটি শো ‘দাদাগিরি’-র সঞ্চালনা করতে গিয়েই যা বেগ পেতে হয়েছে! টেলিপাড়ায় ১০ বছরের গাঁটছড়া নাকি খুলতে চলেছে? সৌরভ গাঙ্গুলি এ বার স্টার জলসায়? একসঙ্গে দুটো রিয়্যালিটি শো-তে দেখা যাবে। নতুন রূপে ‘দাদাগিরি’ আর ‘বিগ বস’-এর সঞ্চালনা। নতুন রূপে দর্শকদের কাছে আসছেন বাংলার দাদা। নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে আমায়। আমি সেটা গ্রহণ করেছি। নতুন নতুন কাজ, নতুন কিছু করার নেশা সারা ক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই কারণেই নতুন চ্যানেলে নতুন রূপে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ‘দাদাগিরি’ও করবেন, ‘বিগ বস্’-ও! ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক বলেন, “জি বাংলায় আর দেখা যাবে না আমাকে। এ বার আমি স্টার জলসার। ওখানেই ‘দাদাগিরি’ এবং ‘বিগ বস্’ দুটো রিয়্যালিটি শো-এর সঞ্চালনা করব। দাদাগিরি’র ধরন বদলাতে চলেছে। স্টার জলসার চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো অনুষ্ঠান অন্য রকম ভাবে পরিবেশন করতে চান। পাশাপাশি, জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস্’-ও আনতে চান। তার সঞ্চালক হিসাবেও আমাকেই ভেবেছেন। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে খুবই ভাল লাগে। সেই জন্যই রাজি হয়ে গেলাম।” ১৭ দিন করে এক একটি শো হবে। মোট ৩৪ দিন দুটো শো-তে সময় দেবেন সৌরভ। শুধুমাত্র এক চ্যানেলে একসঙ্গে দু’টি রিয়্যালিটি শো-ই নয়, সৌরভ রেকর্ড গড়ছেন আরও দু’টি বিষয়ে। স্টার জলসা থেকে দু’টি শো-এর জন্য ‘মহারাজা’ রাজকীয় পারিশ্রমিকই পেতে চলেছেন। যা বাংলার বিনোদন দুনিয়ার কোনও খ্যাতনামী এর আগে পাননি। দুই, এই মুহূর্তে তিনি ৪৮টি বিজ্ঞাপনী বিপণির মুখ! এখানেও ৫০ পূর্ণ করবেন? প্রশ্ন শুনে হেসে সৌরভ বলেন, “বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায় রাজত্ব করবেন, এমন ভাবনা কোনও দিনই ছিল না। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবার নেই। কাজের নেশায় কাজ করে যাচ্ছি। ভাল কাজ করার খিদে প্রবল এখনও। ঈশ্বর সহায় থাকলে এটাও হয়তো পূর্ণ হয়ে যাবে।” বিনোদন থেকে খেলা। দেশের সমস্ত তারকার তুলনায় সৌরভ গাঙ্গুলি এই দিক থেকেও এগিয়ে।
বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে অভিনেতার চেহারা, জীবনীছবিতে রাজকুমার প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে অভিনেতার চেহারা কি হুবহু মেলে না। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় চরিত্রে মিমি চক্রবর্তীকে পছন্দ নয় ‘দাদা’র! কথা প্রসঙ্গে এমনই আভাস দিয়েছেন। ছবির চিত্রনাট্য ঘষামাজার কাজ চলছে। প্রাথমিক ভাবে শোনা গিয়েছিল, রণবীর কপূর বড় পর্দায় ‘সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়’ হবেন। সেই অনুযায়ী কলকাতায় ভারতীয় প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কের সঙ্গে দেখাও করতে এসেছিলেন। পরে সরে যান কোনও অজানা কারণে। বাঙালি অভিনেতাদের মধ্যে নাম উঠে এসেছিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। যদিও সৌরভ পরে জানান, জীবনী ছবিতে জাতীয় স্তরের কোনও অভিনেতাকে তাঁর ভূমিকায় দেখতে চান। রাজকুমার রাওকেই পছন্দ তাঁর। সৌরভ বলেন, “ বাস্তব চরিত্রের সঙ্গে অভিনেতার চেহারা কি হুবহু মেলে? মহেন্দ্র সিংহ ধোনির কথাই ধরুন। ওঁকে নিয়ে তৈরি ‘ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’তে প্রয়াত সুশান্ত সিংহ রাজপুত অভিনয় করেছিলেন। ধোনির মতো লম্বা চুলও রেখেছিলেন সুশান্ত। তবু ধোনির আদল আনতে পারেননি। ছবি হিট অভিনয়ের জোরে। রাজকুমার রাও ভীষণ উঁচু দরের অভিনেতা। আমার মতে, রাজকুমার আমার চরিত্র হয়ে উঠতে পারবেন। তাই ওঁকেই আমার পছন্দ। ছবিটি হিন্দি ভাষায় বানানো হচ্ছে। সঙ্গে ইংরেজি সাব টেইটেল থাকবে। যাতে সর্ব ভারতীয় স্তরের দর্শক ছবি দেখে বুঝতে পারেন। তাই বলিউড থেকে অভিনেতা বাছছি। এই জায়গা থেকেই রাজকুমারে ভরসা তাঁর। সেই সৌরভই আবার পরিচালক কবীর খানের ‘৮৩’ ছবিতে কপিল দেবের চেহারার সঙ্গে রণবীর সিংহের অদ্ভুত সাদৃশ্যের প্রসঙ্গও তুলেছেন! বলেছেন, “ব্যতিক্রম সবেতেই থাকে। বাংলা থেকেও একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকবেন।’ তবে স্ত্রী ‘ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়’-এর চরিত্রে মিমি চক্রবর্তীর অভিনয় প্রসঙ্গে কোনও ইতিবাচক বার্তা দেননি। ছবির চিত্রনাট্য ঘষামাজা চলছে। এখনও ছবির বাকি চরিত্র বাছাই বাকি। সৌরভ সারা ক্ষণ কাজের সূত্রে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে, ছবি নিয়ে কথা বলার সময় খুবই কম পাচ্ছেন তিনি। জানিয়েছেন, প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি ছবিটি সম্ভবত আন্তর্জাতিক স্তরের প্রথম সারির ওয়েব প্লাটফর্মেও মুক্তি পাবে।
দিলীপ ঘোষ বিয়ের বয়স ৬১। পুরুষদের জন্য সুখবর? সৌরভ বলেন, মন্দ কী? দিলীপবাবু যদি ভাল থাকেন, ভালই তো। নবদম্পতিকে আমার অভিনন্দন। খুব কাটুক ওঁদের বিবাহিত জীবন। আমির খান তাঁর ভাবনা-চিন্তা থেকে যা ভাল মনে করেছেন সেটাই করেছেন। যুগ বদলাচ্ছে। পেশা দুনিয়ায় টিকে থাকার রাজনীতিটাও শিখতে হবে বলে জানালেন মহারাজ। সৌরভ বলেন, রাজনীতি করে বেশি দিন টেকা যায় না। আপনার কাজ আপনার যোগ্যতার মাপকাঠি। যাঁরা ভাবেন, কাজ না করে কেবল ‘পলিটিক্স’ করে পেশা দুনিয়ায় টিকে যাবেন, খুব ভুল ভাবেন। কাজের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। আপনাকে কেউ আটকাতে পারবে না। আবার বললেন, মেয়ে যখন নিজের উপার্জন থেকে কিছু কিনে দেয় খুব ভাল লাগে। সানার বিয়ে নিয়ে এখনই কী ভাবব! প্রেম করছে কিনা জানি না। করলেও আমায় অন্তত এখনও কিছু জানায়নি। সে রকম যদি কিছু হয় তখন ভেবে দেখব। কী কী গুণ থাকলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জামাই হওয়া যাবে, প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ও বাবা! এত কিছু তো ভাবিইনি! সত্যিই এ সব কিছুই ভাবিনি।
বিয়ের ২৮ বছর পরেও সৌরভ-ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দাম্পত্য অটুট। কী ভাবে? সৌরভ বলেন, আমরা খুব সহজ জীবন যাপন করি। আর পাঁচ জন বাঙালি যে ভাবে ঘর-সংসার করেন। মাথা ঠান্ডা রাখি। ব্যস্ততার চোটে রাগ করার ফুরসতও পাই না। অন্য দিকে, ডোনাও খুবই শান্ত। খুব ধৈর্য ওর। ঠান্ডা মাথার মেয়ে। ভীষণ ভাল। ফলে, আমাদের সে রকম কোনও সমস্যা হয় না। ধরুন, বিরাট কোহলির মতো আপনার স্ত্রী নায়িকা। তিনি যদি অনুষ্কা শর্মার মতো অভিনয় না ছাড়তেন, তা হলে কি বেশি চ্যালেঞ্জিং হত? সৌরভ বলেন, নায়িকা বৌ মানেই বিচ্ছেদ, আর সাধারণ ঘরের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হলে বিচ্ছেদ হবে না— এ কথা কে বলেছে? তা হলে তো ঘরে ঘরে এত বিচ্ছেদ হত না! রোজ কত বিয়ে ভাঙে। প্রত্যেকের স্ত্রী-ই কি নায়িকা? এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া। সেটা সঠিক থাকলেই সব ঠিক। তা ছাড়া, তারকাদের বিচ্ছেদ নিয়ে কত ভুয়ো খবর রটে জানেন? যেমন, বীরেন্দ্র সহবাগ। স্বামী-স্ত্রীতে দিব্যি আছেন। কোনও বিচ্ছেদ হয়নি। অকারণ ওঁদের বিচ্ছেদের খবর লিখে সংবাদমাধ্যম সাড়া ফেলে দিল।
রাজ্যের শাসক এবং বিরোধী দল। উভয়ের সঙ্গে দারুন সুসম্পর্ক। পারস্পরিক বোঝাপড়া? নাকি সৌরভ রাজনীতিতে আসবেন? সৌরভ বলেন, আমি পাবলিক ফিগার। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নই। তাই আমার সমস্ত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। কোনও দিন রাজনীতি করিনি, কোনও দিন রাজনীতিতে আসবও না। বিশ্বাস করুন, রাজনীতি নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। অন্যান্যদের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও আসেন। কিছু বিষয় নিয়ে হয়তো আলোচনা করেন। একসঙ্গে বসে কথা বলতে বলতে বা কোনও অনুষ্ঠানে গেলে ছবি ওঠে। সেই ছবি ছাপা হলেই আমার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে কাগজে কাগজে ছাপা হয়। চর্চা বাড়ে।
সারা ক্ষণ লোকজনের এই যে ভিড়, ছবি তুলতে চাওয়া, এই হইহই ব্যাপারটা যদি না থাকে! ভয় হয়?সৌরভ বলেন, ভয় আমি কাউকে পাই না, কিছুতেই পাই না। ভয় পাওয়ার মতো কোনও কাজ করিনি তো! কেন ভয় পেতে যাব? জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ভয় বলছেন, গেলে যাবে। সে কি আমি আটকাতে পারব? কখনও জোর করে কিছু আটকানো যায়? এ সব নিয়ে, এত কিছু নিয়ে ভাবিই না। কী কী কাজ করতে পারলাম, কতটা দিয়ে যেতে পারলাম, সে সব নিয়ে ভাবি। যতই সারা বিশ্ব ঘুরি, দিনের শেষে আমি আদ্যোপান্ত বাঙালি। এটুকু কথা দিতে পারি, যত দিন বাঁচব বাঙালিদের জন্য কিছু না কিছু করেই যাব। সৌরভ এখনও যে দিন বিরিয়ানি খান পরের দিন বেশি করে শরীরচর্চা করেন? সৌরভ বলেন, না না, এখন আর বিরিয়ানি খাই না। বয়স বেড়ে গিয়েছে। সানার জন্মদিনে শুধু বিরিয়ানি খাই। আর ওয়র্ক আউট তো রোজই করি। পরজন্মে বিশ্বাসী নন। একটাই জন্ম, এক জন্মেই সব সেরে যেতে হবে। তবু যদি আবার জন্মাই তবে, আবার ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হয়ে জন্মাব। আবার দেশ-বিদেশে খেলতে যাব। সারা ক্ষণ খেলা নিয়ে ডুবে থাকব। এখন যেমন থাকি। পরের জন্মে কাকে বিয়ে করবেন? সৌরভ জানান, ভাবিনি, উত্তর জানা নেই। ভেবে দেখি। স্কুল, স্টেডিয়াম তৈরির কাজ প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, কই আর এগোল! সময় কই? ৪৮টি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মুখ। আইপিএল রয়েছে। দুটো রিয়্যালিটি শো-এর সঞ্চালনা। সেপ্টেম্বরে সিএবি-র প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন। এ বছর সভাপতি পদে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছি। এর পর হাতে আর সময় থাকে? প্রচুর পরিশ্রম করি। এই সব কাজ সানা করবে। ওকে সে ভাবেই তৈরি করে দেব। সানাকেও তো কিছু করতে হবে। বললেন ভারতের অন্যতম সফলতম প্রাক্তন অধিনায়ক।




