ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প। প্রচন্ড জোরালো কম্পন। কেঁপে উঠল মায়ানমার। শুক্র সকাল। অনুভূত কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭.৭ এবং ৬.৪। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে তীব্র কম্পন অনুভূত। মায়ানমারের মান্দালয়ের ঐতিহাসিক আভা সেতু ইরাবতী নদীতে ধসে পড়েছে। বিশাল ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল সাগাইংয়ের কাছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশেও। মৃদু কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে কলকাতায়। বাংলাদেশ ও চিনের কিছু এলাকায়ও ভূমিকম্প টের পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনের বেশী প্রাণহানি মায়ানমারে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটি ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে। দ্বিতীয় কম্পন ১২টা ২ মিনিটে। প্রথমটির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের বর্মা প্রদেশের ১২ কিলোমিটার উত্তরে। দ্বিতীয়টির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের লকসকের ১৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে। দু’টি কম্পনের ক্ষেত্রেই উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০ কিলোমিটার নীচে। আবার, আমেরিকার ভূতত্ত্ব পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাগাইংয়ের ১৬ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে। গভীরতা ১০ কিমি। ভূমিকম্পের তীব্রতা প্রচন্ড থাকার কারণে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে ব্যাংককে কম্পন অনুভূত। থাইল্যান্ডের রাজধানীতে বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পের ফলে মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বহুতল ভবনের সুইমিং পুল ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে জল উপচে বেরিয়ে আসে। এক বহুতল থেকে ঢেউয়ের মতো জল উপচে পড়ে।
মান্দালয় শহরে একাধিক বহুতল ভেঙে পড়েছে। মান্দালয়ে একটি মসজিদ ভেঙে নীচে চাপা পড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু। ৪৫ জন নিখোঁজ। জোরালো কম্পন অনুভূত প্রতিবেশী তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে গগনচুম্বী একটি বহুতল ভেঙে পড়েছে। বহুতলটি নির্মীয়মাণ। তাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু। ৮১ জন নিখোঁজ। মায়ানমার তো বটেই ভূমিকম্পের বিরাট প্রভাব পড়ে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে। থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মানুষের বাস। ভূমিকম্পের কারণে ব্যাঙ্ককে জরুরি বৈঠকে তাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রা। মায়ানমারে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ব্যাঙ্ককের দূরত্ব প্রায় ৯০০ কিলোমিটার। ভূমিকম্প এতটাই তীব্র ছিল যে, ব্যাঙ্ককে জোরালো কম্পন অনুভূত। ভূমিকম্পে ব্যাঙ্ককে ট্রেন এবং মেট্রো পরিষেবা বন্ধ। মায়ানমারের দমকল বিভাগ সূত্রের খবর, উদ্ধারকাজ শুরু। ইয়াংগনে তল্লাশি। হতাহতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রকৃতির করাল গ্রাসে বলি প্রচুর জনসাধারন! ১০ সেকেন্ডে ধুলো হয়ে গেল কংক্রিটের গগনচুম্বি বহুতল। ঝকঝকে লার্জ গ্লাস উইন্ডো বসানো ২০-২৫ তলার বিশাল বহুতল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোড়া ভূমিকম্পের পর মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডে সকলের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছি। ওখানকার পরিস্থিতি দেখে আমি উদ্বিগ্ন। ভারত সাধ্যমতো সমস্ত সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমাদের কর্তৃপক্ষকে তৈরি থাকতে বলছি। মায়ানমার এবং তাইল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছি বিদেশ মন্ত্রককে।’’ মায়ানমারে ভূমিকম্পের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত সাগাইং ফল্টের কাছে ৭.০ মাত্রার বা তাঁর বেশি ছয়টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। মধ্য মায়ানমারের প্রাচীন রাজধানী বাগানে ২০১৬ সালে ৬.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তিনজন নিহত হন। পর্যটন কেন্দ্রের চূড়া ভেঙে যায় এবং মন্দিরের পাঁচিল ভেঙে পড়ে। দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলগুলিতে।