Friday, April 4, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বারবার ব্যর্থ স্কটল্যান্ড স্কোয়াড?‌ ইডেনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন?‌ কলকাতা পুলিশের নাকে ডগা দিয়ে টিকিটের কালোবাজারী, মাঠে ঢুকে পড়ল দর্শক!‌

আবার কালোবাজারি। ইডেনে আইপিএলের ম্যাচের টিকিট ব্ল্যাক। প্রতারিত ব্যক্তি ধীরাজ মালি গিরিশ পার্কের এক বাসিন্দা। আশিস শর্মা নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক প্রোফাইলে আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের টিকিটের বিজ্ঞাপন দেখে, সেই পোস্টের মাধ্যমে আশিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিট কেনার কথা জানান। গিরিশ পার্ক এলাকায় যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় পীযূষ মহেন্দ্র নামে আর এক ব্যক্তির। আইপিএলের ম্যাচের টিকিটের জন্য ওই ব্যক্তি নগদ ২০,০০০ টাকা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁকে একটি খাম দেওয়া হয়। খামটি খোলার পর দেখেন যে, দুটি ২০০০ টাকা দামের টিকিট এবং অন্য দুটি বিনামূল্যে পাওয়া কমপ্লিমেন্টারি টিকিট রয়েছে। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে, আশিস শর্মা নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, প্রতারক আর ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ। গিরিশ পার্ক থানায় মামলা নথিভুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ ব্ল্যাক মার্কেটিং অ্যাক্ট ১৯৪৮-এর অধীনে মামলা রুজু। তদন্তে এফআইআরে নাম থাকা অভিযুক্ত পীযূষ মহেন্দ্র এবং তার সহযোগী কামাল হোসেনক কলকাতার মিত্র লেন থেকে গ্রেপ্তার। অভিযুক্তদের থেকে মোট ১৭টি সাধারণ টিকিট, ৪টি ভিআইপি টিকিট, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ২০,৬০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শাহবাজ খান নামে আরও এক ব্যক্তিকে। কালোবাজারির পিছনে আরও কোনও বড় চক্র কাজ করছে কিনা খতিয়ে দেখছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এখানেই শেষ নয়। মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আশপাশে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘‌দাদা, লাগবে নাকি’‌। প্রতিবার আইপিএল আসে। আইপিএল যায়। টিকিট কালোবাজারীদের অবস্থান একই থাকে।

রামনবমীতে ইডেনে কলকাতা-লখনউ ম্যাচ বিষয়ক জটিলতা। কলকাতা পুলিশের আপত্তিতেই জটীল পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না বলে গা-‌ছাড়া ভাব দেখিয়ে সিএবিকে মেল কলকাতা পুলিশের তরফে। শনি ম্যাচে প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন। তারপরও মাঠের ফেন্সিং টপকে সমর্থক ঢুকে যাওয়ার ঘটনা? বিভাগীয় তদন্ত?‌ কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ কোনও পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে?‌ কলকাতা পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানা যায়নি। হঠাৎ হঠাৎ নিজেদের ইমেজ বিল্ডিংয়ের চেষ্টা কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে। কর্তব্য নিষ্ঠাভরে পালনে বিরাট প্রশংসা অথচ গাফিলতি ঢাকতে এমন লুকোছাপা? কলকাতার নগরপালের কেকেআর-আরসিবি ম্যাচের আগের দিন ইডেন পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ। রামনবমীর ম্যাচের দিন সকলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতেই সিদ্ধান্ত। অথচ প্রথম ম্যাচেই বেআব্রু ইডেনে নিরাপত্তাহীনতার চেহারা। বিরাট কোহলির পর মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মারা ইডেনে তালিকায় আছেন?‌ শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার হবে? পুলিশকর্মীদের কি শেখানো হবে খেলা দেখা আপনাদের কাজ নয়। দর্শকদের দিকে সতর্ক নজর রাখা আপনাদের কাজ। মাঠে লোকজন ঢুকে পড়লে তো ইডেনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন ক্রিকেটাররাই। ম্যাচের আগের দিনও দুই দলের ড্রেসিংরুমের সামনের ছবিটা ছিল এনেকটা মাছের বাজারের মতো। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভিড়ের মাঝে আটকে পড়েন। হাজির পুলিশকর্মীরা নীরব দর্শক। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা তো দূরে থাক, ঢুকে পড়া লোকজনকে হঠানোর তৎপরতা দেখাই যায়নি। মাঠের দিকে মুখ করে পুলিশের খেলা দেখা, এমনকি বিরাট কোহলিদের ছবি মোবাইলে তুলতেও দেখা গিয়েছে পুলিশকর্মীদের বলে অভিযোগ। ইডেনে টিম বাস ঢোকার সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরই দেখা গিয়েছে হাসিমুখে সবটা নিজেদের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে। কর্তব্যপরায়ণ পুলিশকর্মীদের বিরাট দায়িত্ব। সঠিকভাবে ডিউটি পালন করবেন পুলিশকর্মীরা?‌ কলকাতা পুলিশ কেকেআর-আরসিবি ম্যাচের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে?‌ পুলিশকর্মীদের হয়তো নির্দেশও দেওয়া হবে?‌ কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের?‌ ঋতুপর্ণকে গ্রেফতার বা আইনি পদক্ষেপ!‌ পরিবার, প্রতিবেশীদের আর্জি, লঘু পাপে যেন গুরুদণ্ড দেওয়া না হয়। এই ধরনের ঘটনায় বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনিরাও অনুরোধ করে থাকেন কোনও কড়া পদক্ষেপ না করতে।

ঋতুপর্ণ দোষী। সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই!‌ ‘ঈশ্বর’ কোহলির পা ছুঁয়েছেন। ভাইরাল ভিডিওয় প্রশ্ন চিহ্নের সামনে ইডেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের ভূমিকা?‌ দেশে-বিদেশে যে কোনও খেলায় নিয়মে, পুলিশের নজর থাকে দর্শকদের দিকে। খেলার মাঠে তাকিয়ে খেলা উপভোগ করা যায় না। এই গুরুদা্যিত্ব পালনের জন্য তাঁরা বেতনও পান। দোষী ঋতুপর্ণকে একদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও কোনও আফসোস নেই। জামিন পেয়ে র্ধমানের আঠারো বছরের এক তরুণ বিরাট-ভক্তের দাবি, ‘বিরাট আমার ভগবান। বিরাটের জন‍্য সব করতে পারি।’ শনি আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলতে ইডেনে নেমেছিলেন বিরাট। ম্যাচ চলাকালীন হঠাৎ ব মাঠে ঢুকে বিরাট কোহলির পা ধরে প্রণাম করেন। ‘ক্রিমিনাল ট্রেসপাসিং’ সেকশনে গ্রেপ্তার করা হয় ওই বিরাটভক্তকে। তবে সেই নিয়ে কোনও অনুতাপ নেই। একদিনের পুলিশ হেফাজত শেষে আদালত জামিন দিয়েছে বিরাট ভক্ত ঋতুপর্ণ পাখিরাকে। তবে শর্ত দিয়েছেন বিচারক। আইপিএল চলাকালীন ইডেনের মাঠে আর ঢুকতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইডেনে নিরাপত্তা যাতে লঙ্ঘন করা না হয়, সেজন্য পুলিশকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। ঋতুপর্ণ বলেন, “যখন আমি কোহলির পা ছুঁই, তখন উনি আমার নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তারপর বলেন, ‘তাড়াতাড়ি এখান থেকে পালা’। এমনকী নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছিলেন, আমাকে আঘাত না করতে।” ঋতুপর্ণর ঘটনায় ইডেনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারকও ইডেনের নিরাপত্তায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারক বলেন, “ইডেনের নিরাপত্তা যে লঙ্ঘন করা যায় তা এই তরুণ দেখিয়ে দিয়েছে। এটা কলকাতা পুলিশের কাছে একটা শিক্ষা। আশা করব পুলিশ এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে।”

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চলাকালীন কলকাতার ট্রাফিক নিয়ে বড় আপডেট কলকাতা পুলিশের। জানানো হয়েছে, আইপিএল চলাকালীন ইডেনে যত খেলা থাকবে প্রত্যেকদিন ইডেন সংলগ্ন বেশ কিছু রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে খেলা থাকলে বিকেল ৪টে থেকে রাত ১টা পর্যন্ত মালবাহী যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে। দুপুর ৩.৩০টে থেকে খেলা থাকলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত হবে বেলা ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় খেলা থাকলে বিকেল ৪টে থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ক্ষুদিরাম বোস রোড, নর্থ ব্রুক অ্যাভিনিউ, গোষ্ঠ পাল সরণিতে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে যান চলাচল। বিকেলে খেলা থাকলে রাস্তাগুলি বন্ধ থাকবে বেলা ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ইডেনে ম্যাচের দিন গোষ্ঠ পাল সরণি, ক্ষুদিরাম বোস রোড, গভর্নমেন্ট প্লেস ইস্ট, রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ, ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট, রেড রোড, মেয়ো রোডে গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না। ইডেন সংলগ্ন রাস্তায় ম্যাচের দিনগুলিতে কড়া নিরাপত্তায় থাকবে পুলিশ। ম্যাচের দিন ইডেন সংলগ্ন রাস্তায় ট্যাক্সি, বাস বা গাড়ি পার্ক করা থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতা বা বিবাদী বাগের দিকে আসা গাড়িগুলিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। ঘুরিয়ে দেওয়া হবে উত্তর ও পূর্ব কলকাতার গাড়িগুলিকেও। ইডেনে ম্যাচের দিন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে বাইক আরোহীদের ওপরেও।

কেকেআর এর কালো জার্সি মস্ত অপয়া! জুহির দাবি শুনেই দলের রংবদল করেছিলেন শাহরুখ? ১৫ বছর পর আবার ফিরল সেই কালো জার্সি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কালো জার্সি। আইপিএল-এ দু’বারই গ্রুপ লিগের গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয় কেকেআর কালো জার্সি ভূষণেই। ‘অপয়া’ তকমা পেয়েছিল কেকেআর-এর এই কালো জার্সি। তকমা দেওয়ার পিছনে অন্যতম হাত কেকেআর-এরই অন্যতম কর্ণধার জুহি চাওলার! ২০০৮ সালে জুহি চাওলা এবং শাহরুখ খানের হাত ধরে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স-এর যাত্রা শুরু। ‘‌’লিভিং উইথ কেকেআর’‌ তথ্যচিত্রে জুহির স্বামী এবং সহ-মালিক জে মেহতা অশুভ বিশ্বাসের কথা শেয়ারও করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২২ গজে পরপর হারের খারাপ মরশুম কাটানোর পর, জুহির দাবি, “আমি মনে করি কালো রঙের জার্সি-ই কেকেআর-র জন্য অশুভ।’ জুহিকে সেই তথ্যচিত্রতে বলতে শোনা যায়, “কালো রঙ নিয়ে আমার কিছু একটা ছিল। আমি ভাবছিলাম, এই রঙ দলের শক্তির জন্য সহায়ক নয়। যখন খুব খারাপ সময় চলছিল, তখন আমি এই বিষয়টাতে খুব জোর দিলাম। আমি বললাম, ‘না, আমাদের জার্সির রং পরিবর্তন করতে হবে, কালো নয়।’ জুহির এই দাবি শুনে ফুৎকারে উড়িয়ে শাহরুখ খানিক বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন -“কী ফালতু, অবাস্তব কথাবার্তা!”

জুহির স্বামী জয়েরও কমবেশি একই ধারণা ছিল শাহরুখের মতোই। পরে অবশ্য কেকেআর কালো থেকে বেগুনি জার্সিতে রাতারাতি বদলে যায়। তারপর দলের ভাগ্যও ২২ গজে পরিবর্তন হয়। জুহির অশুভ বিশ্বাস এবং দলের রং পরিবর্তনের পর কেকেআর ধীরে ধীরে সাফল্য ফিরে পায়। ১৫ বছর পর ফের নাইটদের গায়ে ফের একবার কালো জার্সি ওঠার ফল কী?‌ অধীর আগ্রহে কেকেআর ভক্তেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles