বারবার অনেকগুলো প্রশ্ন উঠে আসছে সেই টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাসে অনীহা দেব-শ্রীলেখাদের মুখে! প্রশ্ন উঠছে ‘‘কে স্বরূপ, কেন স্বরূপ’’? সিনেমা জগতের কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত স্বরূপ? মন্ত্রীর ভাই, শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার ভাই চলচিত্র শিল্পীদের ভিড়ে কেন রাজ করবেন? কোন প্রভাবে টলিপাড়ায় রক্তচক্ষু রাঙানি? কোন বলে ছড়ি ঘোরাবেন স্বরূপ? সঠিক তদন্তের দাবিতে উত্তপ্ত সিনেমাপাড়ার ‘ভয়ার্ত’ শিল্পীদের আর্জিতেই বিশ্বাসভঙ্গের প্রশ্ন? দেব-শ্রীলেখাদের প্রতিবাদে অনেক অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে টলিপাড়ায়। “রাহুল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল, কোনও সংগঠন নয়। টলিউডের প্রত্যেকে এক, এক পরিবারের”, টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় বললেন দেব। একটা মৃত্যু, অনেকগুলো বড় সিদ্ধান্ত! মঙ্গলবারের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো সাক্ষী রইল তার। চলে গিয়ে টলিউডকে মিলিয়ে দিয়ে গেলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়! এ দিন টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় সাংবাদিকদের সামনে প্রযোজক-অভিনেতা এবং সাংসদ দেব ঘোষণা করলেন, “আর কোনও ‘ব্যান কালচার’ নয়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বৈঠকে জানিয়েছেন, যে সমস্ত পরিচালক, অভিনেতা এই ‘সংস্কৃতি’র কারণে দীর্ঘ দিন বসে রয়েছেন, বৈঠক করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাজে ফেরাবেন।” দেবের আরও ঘোষণা, “আমরা আর আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশন নই। আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি, একটা ছাদ। অনেক অভিনেতা ব্যান হয়ে পড়ে রয়েছেন। অনেক পরিচালক ব্যান হয়েছেন। বুম্বাদা আমায় কথা দিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা আবার ফিরবেন। রাহুল চলে যাওয়ায় আমরা বুঝতে পেরেছি শুধু মৃত্যু নয়, কাজ করতে না দেওয়াটাও ভীষণ কষ্টের, ভীষণ যন্ত্রণার। আমার মনে হয়, যাঁদের কাজ নেই, তাঁরা সেটা বুঝতে পারবেন। এই জায়গা থেকেই বুম্বাদা ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে কথা বলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘ব্যান’ অভিনেতা, পরিচালকদের কাজে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন।” দেবের এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। নাম না করে প্রযোজক-অভিনেতা-সাংসদ কি অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন, পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, পরিচালক বিদুলা ভট্টাচার্য-সহ সমস্ত ‘নিষিদ্ধ’কে ফিরে আসারই ইঙ্গিত দিলেন? তাঁর বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে এমনই প্রশ্ন। এ দিন দেব শুরুতেই জানিয়েছেন, ‘ব্যান কালচার’, ‘বয়কট’ বা অসহযোগিতা টলিউডের সংস্কৃতি নয়। কিন্তু রাহুলের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। সেই জায়গা থেকেই টলিউডের সিদ্ধান্ত, যত দিন ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারবে, তত দিন প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কেউ কাজ করবেন না।
আর এই বক্তব্যকে ঘিরেই এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ্যে এল দেব এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। দেব ঘোষণা করে উঠে যাওয়ার পরেই নিজের বক্তব্য জানান স্বরূপ বিশ্বাস। দেবের মুখে ‘ব্যান কালচার’ তুলে দেওয়ার কথা শুনে ক্ষোভ আড়াল করতে পারেননি ফেডারেশন সভাপতি। তাঁর পাল্টা কটাক্ষ, “আজ দেব ‘থ্রেট কালচার’-এর কথা বলছেন। এটা আমরা করিনি, ওঁরা আমাদের থ্রেট করেছিলেন এবং ভয় দেখিয়েছিলেন, টেকনিশিয়ানদের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হবে। তাঁদের পথে বসানো হবে। সে ভাবেই কিন্তু মামলা সাজানো হয়েছিল।” এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন গত বছর ফেডারেশনের বিরুদ্ধে পরিচালকেরা রাজ্যের হাই কোর্টে যে মামলা দায়ের করেছিল তার কথা। তিনি আরও বলেন, “দেব টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গিয়েছিলেন। টেকনিশিয়ানরা যে কাজ করেন, সেটাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। দেবকে অনুরোধ জানাব, হাই কোর্টে গিয়ে দয়া করে যেন দেখে আসেন মামলার কাগজপত্র। তা হলেই জানতে পারবেন, সেখানে টেকনিশিয়ানদের কাজকে খর্ব করার জন্য, টেকনিশিয়ানদের অসুবিধায় ফেলার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল!” স্বরূপের আক্ষেপ, সে দিন দেব যদি এগিয়ে এসে পরিচালকদের বলতেন, এ ভাবে মামলা দায়ের করা ঠিক হচ্ছে না, তা হলে টেকনিশিয়ানরা খুশি হতেন। ফেডারেশন সভাপতি বিষয়টিতে ইতিবাচক সাড়া দেবেন কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান টলিপাড়া। খবর, ইতিমধ্যেই আর্টিস্ট ফোরাম বৈঠকে বসেছে। এই বৈঠকশেষে সম্ভবত জানা যাবে ‘নিষিদ্ধ’রা কবে কাজে ফিরবেন। আদৌ তাঁদের ফেরানো হবে কি না।

‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় একত্রিত হওয়ার কথা ছিল টলিপাড়ার শিল্পীদের। ‘আর্টিস্ট ফোরাম’, ‘ফেডারেশন’, ‘ইম্পা’, টেলিভিশন প্রযোজক এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক এবং কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কর্মবিরতি শেষের ঘোষণা করলেন। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা। বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, হরনাথ চক্রবর্তী, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, দেব-সহ শিল্পীদের অনেকেই। অন্য দিকে ছিলেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। আলোচনায় যোগ দেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। শুটিংয়ে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা ছিল বৈঠকের মুখ্য বিষয়। বৈঠকে ছিলেন রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। ২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তুলেছে অনেক প্রশ্ন। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারি গিয়েছিলেন অভিনেতা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালসারিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। ওড়িশা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রযোজনা সংস্থা পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি নেয়নি। তার পরেই প্রযোজকের দিকে ওঠে আঙুল। রাহুলের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে আইনি পরামর্শ মাফিক আর্টিস্ট ফোরামের তরফে চিঠি পাঠানো হয় ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ প্রযোজনা সংস্থাকে। কিন্তু যথাযথ উত্তর না মেলায় আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ শিল্পীরা কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই রাতে তালসারি থানায় ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এগ্জ়িকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং প্রযোজক সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা। আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কর্মবিরতির। মঙ্গলবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মতো সোমবার বেশি ক্ষণ ধরে শুটিং হয়েছিল বাংলা ধারাবাহিকগুলির। মঙ্গলবার সকালে বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, আগামী দিনে ঠিক কী ভাবে কাজ এগোবে? আলোচনা করে স্থির হয়েছে, আগামী পনেরো থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া, আরও আঁটোসাঁটো করতে এই সিদ্ধান্ত। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য তৈরি হবে বীমা। এমনকি যাঁরা চুক্তিবদ্ধ নন, সেই সব কলাকুশলী এবং শিল্পীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। তবে যত দিন না সেই বীমা তৈরি হচ্ছে, তত দিন ঝুঁকি নিয়ে এমন কোনও জায়গায় শুটিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। বারবার অনেকগুলো প্রশ্ন উঠে আসছে সেই টলিপাড়ার ‘ত্রাস’ স্বরূপ বিশ্বাসে অনীহা দেব-শ্রীলেখাদের মুখে! প্রশ্ন উঠছে ‘‘কে স্বরূপ, কেন স্বরূপ’’? সিনেমা জগতের কোন কাজের সঙ্গে যুক্ত স্বরূপ? মন্ত্রীর ভাই, শাসকদলের প্রভাবশালী নেতার ভাই চলচিত্র শিল্পীদের ভিড়ে কেন রাজ করবেন? কোন প্রভাবে টলিপাড়ায় রক্তচক্ষু রাঙানি? কোন বলে ছড়ি ঘোরাবেন স্বরূপ? সঠিক তদন্তের দাবিতে উত্তপ্ত সিনেমাপাড়ার ‘ভয়ার্ত’ শিল্পীদের আর্জিতেই বিশ্বাসভঙ্গের প্রশ্ন? দেব-শ্রীলেখাদের প্রতিবাদে অনেক অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে টলিপাড়ায়।
শতাব্দী রায়েরও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, “আজকাল মৃত্যু নিয়ে এত বেশি রাজনীতি হচ্ছে। শেষ সময়ে নিজের লোকেরা একটা মানুষকে আঁকড়ে থাকতে চান। কিন্তু অন্য দলগুলি ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজনীতি করার জন্য। এই অবস্থা সত্যিই খুব শঙ্কার। এখন মনে হয়, আমাদের মৃত্যু হলে তা যেন কেউ জানতে না পারে। নিজস্ব দুঃখগুলো আর ব্যক্তিগত থাকছে না।” সৌরভ পালোধীর বক্তব্য, “আমরা এখনও সরব আছি। আমি, চন্দনদা, বাদশাদা, দেবদূতদা সবাই সরব। সেই দিনও প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছিলাম। অবশেষে তা হয়েছে। আমরা সবাই খুশি। আরও খুশি কারণ, রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে যৌথ ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লড়াই সবার, সেটাই তো খুব ভাল দিক।রাজনৈতিক ভাবে ওর জন্য পতাকা নিয়ে মিছিল দেখা যায়নি, এটা প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু লড়াইটা যখন সবাই মিলেই লড়ছে, তখন পতাকা নিয়ে মিছিল করার তো প্রয়োজনই পড়েনি। রাহুলদার মৃত্যু নিয়ে সিপিএমের রাজনীতি করার প্রয়োজন পড়লে, ভোটের প্রচার ছেড়ে দিয়ে এখানে চলে আসত। দীপ্সিতা সেই দিন ভোটের প্রচার ছেড়ে কেবল ওকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রচার ছেড়ে এসেছিল।ওঁকে পাড়ার লোকেরা সেই দিন সেখান থেকে ফিরে যেতে বলেছিলেন। রাহুলদার গায়ে আমরা লাল পতাকা দিয়েছিলাম। কেউ চাইলে নামাবলিও দিতে পারতেন। তবে এক জনের শেষযাত্রায় ‘ভারতমাতা কি জয়’ কী ভাবে প্রাসঙ্গিক আমার জানা নেই। সিপিএম কিন্তু পার্টির স্লোগান তোলেনি সেই দিন। বামেদের অন্তত কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।” দীপ্সিতার বক্তব্য, “রাহুলের তদন্তের দাবি প্রথম দিন থেকেই চাইছি। পিছিয়ে আসার কোনও প্রশ্নই নেই। রাহুলদা আমাদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটতেন। আমরা বিশ্বাস করি, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। কিছু মানুষ অসৎ, তাঁরা মানুষের জীবনকে জীবন মনে করেন না। তাঁদের অসচেতনতা এবং ক্ষমতার দম্ভের জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।” আর্টিস্টস ফোরাম রাহুলের বিচারের দাবিতে সরব। পাশাপাশি ফেডারেশনের সঙ্গে একজোট হয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তার দিক নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় একজোট আর্টিস্টস ফোরাম সিদ্ধান্ত নেয়, প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে আর কেউ কাজ করবেন না।
‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর বৈঠকের মাঝে কাঁদতে কাঁদতে স্টুডিয়ো ছাড়েন শ্রীলেখা! ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর সকল সদস্য একত্রিত ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য়। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর পরেই শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই মর্মেই মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত। বৈঠক চলছে ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’র অন্দরে। এরই মাঝে হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। কিন্তু, কী এমন ঘটল? ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় থেকে প্রিয়াঙ্কা সরকার, কৌশিক সেন, শ্রীলেখা মিত্রেরা। আর্টিস্ট ফোরামের সব সদস্যই যে অন্দরের বৈঠকে রয়েছেন, তেমন নয়। মূলত ইন্ডাস্ট্রির কর্তা-ব্যক্তি এবং সিনিয়রদের নিয়েই আলোচনা চলছে। এখানে কী এমন ঘটল যে মাঝপথেই বেরিয়ে গেলেন শ্রীলেখা? সঙ্গে ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। যে সময়ে শ্রীলেখা বেরিয়ে যান, সেই সময় তাঁর ছবি তুলতেও বারণ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে সকলের মনেই তাই প্রশ্ন। সূত্র বলছে, বৈঠকের মাঝেই শ্রীলেখা নাকি বচসায় জড়ান। অভিনয়ে সুযোগ না পাওয়ার ক্ষোভ মাঝে মাঝেই সমাজমাধ্যমে উগরে দেন অভিনেত্রী। এমনকি প্রকাশ্যে ঋতুপর্ণা এবং প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগও তুলেছিলেন শ্রীলেখা। তাঁর অভিযোগ, এই দুই তারকার জন্যই একের পর এক কাজের সুযোগ হারিয়েছে। টেকনিশিয়ানের বৈঠকেও নাকি সেই একই অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি শ্রীলেখা নাকি নাম করে অভিযোগ করেন যে, দিনের পর দিন মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তিনি নাকি বলতে থাকেন, “মানসিক অত্যাচার করেও মেরে ফেলা যায়”! বৈঠকে তখন উপস্থিত সকলেই। শ্রীলেখার ব্যবহারে নাকি বিরক্ত হন অধিকাংশ শিল্পীই। শ্রীলেখার ব্যবহারে অভিনেতা প্রসেনজিৎও নাকি মেজাজ হারান। শোনা যাচ্ছে, প্রকাশ্যেই অভিনেত্রীর ব্যবহারের বিরোধিতা করেন কৌশিক সেন। নিজেদের মধ্যের এই বচসা নাকি সহ্য করতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা। সূত্র বলছে, শেষে সবাইকে থামাতে নাকি বেঞ্চের উপরে উঠে পড়েন অভিনেত্রী। তিনি নাকি হাতজোড় করে বচসা থামানোর অনুরোধ জানান প্রিয়াঙ্কা, এমনকি ক্ষমাও চান তিনি। শোনা যাচ্ছে, তিনি নাকি বলেন, “এখানে অন্য একটা কারণে জড়ো হয়েছে সবাই। আমার ছোট বাচ্চা, তাকে আমি জানাব, তার বাবার ঠিক কী হয়েছিল।” এই ঘটনার পরেই নাকি শ্রীলেখা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। এই ঘটনার আগে যখন প্রসেনজিৎ বৈঠকে ঢোকেন, সেই সময় চেনা ভঙ্গিতে সবার সঙ্গেই কুশল বিনিময় করেছিলেন তিনি। বাদ যাননি শ্রীলেখাও। তার পরেও এমন ঘটনায় বৈঠকের ছন্দ কাটে। যদিও এই বিষয়ে কেউই প্রকাশ্যে কোনও কথা বলেননি। যদিও বাইরে বেরিয়ে শ্রীলেখা প্রতিবাদ করেন স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেই।





