পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে। এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব নামের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে গত ২৪ মার্চ এই মামলার শুনানি হয়েছিল। তার পর বুধবার ফের এই মামলার শুনানি সর্বোচ্চ আদালতে। ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের নাম যথা সময়ে নিষ্পত্তি করা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে সওয়াল করে বলেন, “৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের মনোনয়নের শেষ দিন। ওই দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ করা খুবই কঠিন।” শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কথা জানানো হলেও সব তালিকা এখনও পর্যন্ত ডাউনলোড করা যাচ্ছে না।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কিছু সমস্যা হতে পারে। পূর্ণ তালিকা প্রকাশ হবে। আমরা তা নিশ্চিত করব।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বললেন, “হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠিতে আমরা সন্তুষ্ট। প্রায় ৪৭ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রাইবুনালও দ্রুত কাজ শুরু করবে। কমিশনের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “আজ বুধবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার থেকে ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হয়ে যাবে।” রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কেন প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দেবে কমিশন? কমিশনই যদি একতরফা ভাবে করে তবে কী ভাবে? প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিন।” রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি কেন আপত্তি করছেন? প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনার কী অসুবিধা? অবশ্যই প্রাক্তন বিচারপতিরা স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।” বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ এই বিচারকদের এমন একটি কাজ করতে বলা হয়েছে, যা তাঁরা আগে করেননি। তবে তাঁদের নিরপেক্ষতা বা পক্ষপাতহীনতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই।” প্রধান বিচারপতি বলেন, “যেখানে নথির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকবে, সেখানে আপিল ট্রাইবুনাল তা যাচাই করবে।” রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ সুপ্রিম কোর্টে বলেন, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বার হয়েছে। বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি করার কাজ চলছে। এই অবস্থায় বান্ডিল বান্ডিল ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কোনও রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এখন কেন?” কমিশনের তরফে আদালতে বলা হয়, আইন অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যায়। যে কেউ তা দিতে পারেন। একই সঙ্গে কমিশনের আইনজীবী বলেন, “আইনে বলা আছে দেখুন ফর্ম ৬ জমা দেওয়া একটি চলমান পদ্ধতি। যে কেউ দিতে পারেন। কমিশন সব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়।”
ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “কেউ যদি এখন তালিকায় থাকেন, কিন্তু পরে বাদ পড়েন, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। তাই মনে রাখতে হবে—কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার মানে এই নয় যে, তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হবে।” কল্যাণ বলেন, “প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ এক জন ব্যক্তি জমা দিয়েছেন। এটা কী ভাবে হতে পারে?” প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রায় প্রতি বারই এই অভিযোগ ওঠে, এটা নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট করে আপনি আপত্তি তুলতে পারেন।” বিচারপতি বাগচী বলেন, “বিজ্ঞপ্তির পরে একটি নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হয়। তার পরে কারও নাম ফর্ম ৬ দিয়ে উঠল মানেই তিনি ভোট দিতে পারবেন এমন নয়।” ৬ এপ্রিল (সোমবার) বিকেল ৪টেয় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি। প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।” কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক। শুনানিও ৬ তারিখ রাখা হোক।” শেষে শীর্ষ আদালত জানায়, ৬ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রায় ৪৭ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে! সব যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বলল কমিশন! অনুমানের ভিত্তিতে বলবেন না, কল্যাণকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের





