মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ করেন শাহ। দাবি ভোট এলেই মমতা পা ভেঙে ফেলেন, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনও না কোনও অসুস্থতা দেখিয়ে জনগণের সহানুভূতি চান। এ বার তা হবে না। অমিত শাহ বলেন, ‘‘এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট। মমতা যা খুশি অভিযোগ আনতে পারেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের আমরা বার করবই। এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকছে, মমতাজির সরকার কি ঘুমোচ্ছে? প্রশ্ন তুলবেন, বিএসএফ কী করছে? বিএসএফ তখনই কিছু করতে পারবে, যখন আপনি সীমান্তে বেড়া লাগাতে দেবেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি এ রাজ্যের বিজেপি সরকার কেন্দ্রকে দেবে। ১৫ বছরে কাটমানির সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল সরকার। আমি বিশ্বাস করি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে। তাই আমাদের ভোট দেবেন। তৃণমূল সরকারকে সমূলে উৎখাত করুন। আজকের বাংলা কবিগুরুর বাংলা আর নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাঙালি অস্মিতাকে পাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাটমানি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতির কারণে এ রাজ্যে শিল্প অন্ধকারে। তাই এখানে চাকরি নেই। কম রোজগার, কম বেতনের চাকরির কারণও সেই অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। এ রাজ্যের কাউকে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করব।’’
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আমলা, অফিসারদের সরিয়ে হিংসা ছড়ানো হয়েছে বলে সরব মমতা বলেন, “অফিসারদের সরিয়ে দাঙ্গা করিয়েছে।” আক্রমণের সুর চড়িয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, “কাউকে ছাড়া হবে না।” মমতার আরও অভিযোগ, অস্ত্র নিয়ে রামনবমীর মিছিল করা হয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনের গা ছাড়া মনোভাবের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। রানিগঞ্জের খান্দরা ফুটবল মাঠে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই গতকাল শুক্রবার রঘুনাথগঞ্জের সংঘর্ষ নিয়ে মুখ খোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। হিংসা নিয়ে মমতার অভিযোগ, “অফিসারদের সরিয়ে দাঙ্গা করানো হয়েছে। কে অধিকার দিয়েছে দাঙ্গা বাধানোর? টাকা ঢোকানো হচ্ছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” নির্বাচন ঘোষণার পর কমিশন শীর্ষ স্তর থেকে জেলা প্রশাসনের এসপি ও ডিএম স্তরে একাধিক রদবদল করা হয়। সেই সময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন অফিসারদের সড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। তাঁর সেই শঙ্কায় প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। প্রতিবছরের মতো এবারও রঘুনাথগঞ্জে রাম নবমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছোট ছোট মিছিল যাচ্ছিল রঘুনাথগঞ্জের ম্যাকাঞ্জি পার্কের উদ্দেশ্যে। একটি মিছিল সিসাতলা এলাকায় পৌঁছলে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বাধে। মিছিলকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। মুহূর্তে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। অন্যদিকে, বড় শোভাযাত্রাটি শহর ফুলতলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতে আবারও উত্তেজনা ছড়ায়। একদিকে চলতে থাকে ঢিল ছোড়াছুড়ি, অন্যদিকে মিছিল এগিয়ে যেতে থাকায় পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ফুলতলা মোড়ের কাছে বেশ কয়েকটি ফলের দোকানে ভাঙচুর চালায়। আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সভা শেষে মমতা বলেন, “আমি আশা করছি যাঁরা আছেন, তাঁরা নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করবেন। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।”





