এনসিসি বেবি লিগ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন পল্লীশ্রী। ফাইনালে উপস্থিত বোর্ড সভাপতি।আইপিএল শুরুর আগে ঝটিকা সফরে কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাস। শেষ হল ‘এনসিসি বেবি লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’। বুধবার ফাইনালে ৭৩ রানে পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল পল্লীশ্রী। ফাইনাল আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মিঠুন মনহাসের উপস্থিতিতে। মুম্বইয়ে দশ দলের অধিনায়কদের সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিয়মকানুন নিয়ে বৈঠক ছিল বধবার আর সেদিনই দুপুরে। শহরে এসে খুদে ক্রিকেটারদের পরামর্শও দিলেন। বললেন, ফর্ম্যাট নিয়ে ভাবনা নয়, খেলাটা উপভোগ করো। বাবা-মায়েদের কাছে আবেদন করলেন, মোবাইল-ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ছাড়িয়ে ছোট ছেলে-মেয়েদের মাঠে পাঠান। উপলক্ষ্য, এনসিসি বেবি লিগ টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ‘কিডস অন জি ফাইভ’-এর উপস্থাপনায় এবং ন্যাশানল ক্রিকেট ক্লাব অর্থাৎ এনসিসি ও মেনল্যান্ড সম্বরণ ক্রিকেট অ্যাকাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল টি-টেন ফর্ম্যাটের যে টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৭৩ রানে পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল পল্লীশ্রী। যে ফাইনাল আরও বেশি রঙিন হল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মিঠুন মানহাসের উপস্থিতিতে।
টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পল্লীশ্রী। শৌভিক ঘোষের (৩২ বলে ৭৭ রান) ও স্পন্দন দে-র (২৮ বলে ৬৫ রান) বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে নির্ধারিত দশ ওভারে তারা তোলে ১৫৫-১। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পরের পর উইকেট হারাতে থাকে পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। লড়াই করল নীল সরকার (২৬ বলে ৪৮)। কিন্তু তা ফাইনাল জেতানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। পল্লীশ্রীর মহম্মদ মেহরাব মোল্লা ১১ রান দিয়ে দু’উইকেট নেয়। বেদ বিজয় রায় ২৩ রান দিয়ে নেয় ২ উইকেট। শেষ পর্যন্ত দশ ওভারে ৮২-৬ স্কোরেই থেমে যায় পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি।
বেবি লিগের ফাইনালে বোর্ড সভাপতি মিঠুন মানহাস ছাড়াও হাজির ছিলেন সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামী, মনোজ তিওয়ারি, অনুষ্টুপ মজুমদার, গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারেরা। ফাইনালে বিজয়ী ও রানার আপদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর মিঠুন মানহাস বলেন, ‘এই বেবি লিগকে অবশ্যই স্মরণীয় উদ্যোগ বলতে হবে। এত ছোট-ছোট বয়সে ক্রিকেটাররা চাপ শুষে নিচ্ছে, নিয়ে ম্যাচ খেলছে! পুরোটাই বিস্মিত করার মতো। আপনারা দেখেছেন, প্রত্যেক ক্রিকেটার কী অসম্ভব আবেগ দিয়ে খেলেছে আজ। একজন খুদে ক্রিকেটারকে অল্প বয়সে মোবাইলের থেকে দূরে রাখা উচিত। তার চেয়ে তারা ক্রিকেট খেলুক। ফর্ম্যাট যাই হোক না কেন, খেলাটাকে উপভোগ করাই আসল।’
প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া ‘এনসিসি বেবি লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘টুর্নামেন্টটা সত্যি খুব ভাল হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ভাল ক্রিকেট হয়েছে। বাচ্চারা উপভোগ করেছে, মনপ্রাণ দিয়ে খেলেছে। বেবি লিগ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল শিশু ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের একটা মঞ্চ তৈরি করে দেওয়া। ভাল লাগছে দেখে যে, ওরা সেই মঞ্চকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করেছে।’’ বাংলার রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা পরীক্ষামূলক ভাবে টুর্নামেন্টটা করেছিলাম। ভাবিনি এমন উত্তুঙ্গ সাফল্য পাব। আমরা এ বছর ২৪টা দল নিয়ে টুর্নামেন্ট করেছি। পরের বছর দলের সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে।” বাংলার রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা পরীক্ষাভিত্তিক ভাবে টুর্নামেন্টটা করেছিলাম। ভাবিনি, এমন সাফল্য পাব। আমরা এ বছর চব্বিশটা টিম নিয়ে টুর্নামেন্ট করেছি। আগামী বছর টিমের সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে।’ ফাইনাল দেখতে এসেছিলেন ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ও। তিনি নিজ উদ্যোগে ক্রিকেটারদের রিস্ট ব্যান্ড উপহার দিয়ে যান।
টুর্নামেন্টের সেরা: শৌভিক ঘোষ (পল্লীশ্রী)
ফাইনালে সেরা: শৌভিক ঘোষ (পল্লীশ্রী)
সেরা বোলার : অয়ন চৌবে (পল্লীশ্রী)
সেরা ব্যাটার: অভ্রজিৎ বিশ্বাস (পাটুলি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি)





