Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সন্তানের উপর নজরদারি?‌ হোয়াট্‌সঅ্যাপে এল নয়া ফিচার।

সমাজমাধ্যমের কুপ্রভাব থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কী ভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, আবার ডিজিটাল যুগের সুযোগ-সুবিধাও বজায় রাখা যায়— জটিল প্রশ্ন ঘুরছে বিশ্ব জুড়ে। বিশ্বের নানা দেশ, ষোলো বছরের নীচে সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে, কেউ অভিভাবকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক করার নীতি আনছে। অর্থাৎ, বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের পথে এগোচ্ছে অনেক দেশই। অন্ধ্রপ্রদেশও তেরোর নীচে সমাজমাধ্যমে প্রবেশ রদ করার পথে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াট্‌সঅ্যাপও তাদের নিয়ম-নীতিতে কিছু বদল আনল। নাবালক সন্তানের হোয়াট‌স্‌অ্যাপ অ্যাকাউন্টে পূর্ণ নজরদারি চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের। সেই মর্মে নতুন ফিচারও নিয়ে এসেছে মেটা। ডিজিটাল যুগে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই। সন্তান কার সঙ্গে কথা বলছে, কাকে ফোন করছে, সে নিয়ে চিন্তা থাকেই। এই সমস্যার সমাধানে মেটা নিয়ে এসেছে ‘পেরেন্টাল সুপারভিশন’।

কী ভাবে আড়ি পাতবেন অভিভাকেরা? শিশুদের হাতেও এখন ফোন। বড়দের মতো সমাজমাধ্যমের পাতায় তাদের অবাধ বিচরণ। এ দেশে এখনও তেমন নিয়ম বা আইন নেই, যা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধ করতে পারে। তাই ছোটরাও খুলে ফেলছে হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। সেখান থেকে ফোন করা, চ্যাট সবই চলছে। এই ব্যবস্থাতেই লাগাম পরানোর চেষ্টা করল মেটা। সন্তানের বয়স যদি ১৩ বছরের নীচে হয়, তা হলে তার হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থাকবে বাবা-মায়েদের হাতের মুঠোয়। নতুন ফিচারটি বুঝে নিলে, সন্তান হোয়াট্‌সঅ্যাপে কার সঙ্গে কথা বলছে, কোন কোন গ্রুপে সে আছে, বিপদের মুখে পড়ছে কি না, তার সবটাই জানতে পারবেন অভিভাবকেরা। শুধু জানা নয়, সন্তানের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার চাবিও থাকবে তাঁদের হাতে। এতে গোপনীয়তা বজায় রেখেও সন্তানকে ডিজিটাল বিপদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। নতুন ফিচারটির সুবিধা নিতে, অভিভাবকদের প্রথমে নিজের ফোন থেকে সন্তানের হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লিঙ্ক করতে হবে। এর জন্য দু’টি ফোন পাশাপাশি রেখে, দুই ফোন থেকেই হোয়াট্‌সঅ্যাপ খুলতে হবে। এ বার অভিভাবকেরা সন্তানের ফোনের হোয়াট্‌সঅ্যাপে গিয়ে ‘মোর অপশন’-এ ক্লিক করুন। সেখান থেকে বেছে নিন ‘ক্রিয়েট এ পেরেন্ট-ম্যানেজ়ড অ্যাকাউন্ট’। অপশনটি খুলে সন্তানের মোবাইল নম্বর দিয়ে তাদের বয়স লিখুন। এর পরেই হোয়াট্‌স্যাপ একটি কিউআর কোড পাঠাবে। সেটির মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সন্তানের অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা যাবে। অভিভাবকদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে নিতে হবে এবং তাঁরা গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ৬ নম্বরের পিন সেট করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা করার পরে সন্তানের হোয়াট্‌সঅ্যাপে পূর্ণ নজরদারি চালাতে পারবেন অভিভাবকেরা। সন্তান যদি কোনও গ্রুপে থাকে, তা হলে সেই গ্রুপে কে কে রয়েছেন তা জানা যাবে। অচেনা কেউ গ্রুপে যোগ দিতে গেলে অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। অভিভাবকেরা যদি চান, তা হলে সন্তানের হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। সন্তান কাকে ফোন করতে পারবে, কার সঙ্গে চ্যাট করতে পারবে, তার সবটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles