‘শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ পরে/ওরা কাজ করে।’ চিরন্তন হয়ে বারবার ধরা দেয় কবিগুরুর লেখনি। পারফর্মাররা এমনই হন। জ্বলে ওঠার জন্য খুঁজে নেন সেরার সেরা মঞ্চ। কঠিন-কঠোর সমালোচনা তাঁদের বিদ্ধ করতে পারে না। কিংবদন্তিদের অধিকাংশ এমনই বিনয়ী। বলেন, দলের প্রয়োজনে শুধু নিজের কর্তব্য পালন করেছি। টিম গেমে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মূল্য তেমন নেই। শত চাপ নিয়েও সহজাত এবং স্বাভাবিক পারফরম্যান্স মেলে ধরাই তাঁদের অভ্যাস। কোনো বেয়ারজোত, কখনও বা অন্য কারো অফ ফর্ম-চোট সাধারণকে অসাধারণ হয়ে ওঠার সিঁড়ি তৈরি করে দেয়। এভাবেই এগিয়ে চলে খেলা। লড়াই। বেঁচে থাকা। মধ্য ইতালির শান্ত একটি অঞ্চলের এক সিমেট্রিতে শায়িত পাওলো রোসি। ফলকের পাশেই একটি গাছ। হলুদ ফুল ঝরে পড়েছে দক্ষ স্ট্রাইকারের কবরে। পাঁচ বছর ধরে একই জায়গায় রয়েছেন। ১৯৮২’র ফুটবল বিশ্বকাপ। রোসির ঝুলিতে হাফ ডজন গোল এবং সৌজন্যে গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট। এই কৃতিত্ব বিশ্বের আর কারো নেই। সেই পাওলো রোসির দেশ ইতালি এখন ক্রিকেট খেলছে? সদ্যসমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপে নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে আজ্জুরিরা? কিন্তু ফুটবলে ইতালির স্বর্ণযুগ এখন স্রেফ অতীত। কাতার ও রাশিয়া বিশ্বকাপে দেখা যায়নি নীল জার্সিধারীদের। ২০২৬’এ তারা অনিশ্চিত! মনে কি পড়ছে না আজ্জুরিদের? রোসি ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছেন। আবার, ওই মেয়েটাকে নিয়েও বিশেষজ্ঞরা তো নাক কুঁচকেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেমি-ফাইনাল। মাথা চাপড়েছিলেন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে… যাঃ, আর হল না। বড্ড ভালো ফর্মে ছিল প্রতীকা রাওয়াল। সেই কি না চোট পেয়ে বিশ্বকাপের বাইরে? শেফালি ভার্মা কেন? বোর্ড কোনো উত্তর দিল না। অধিনায়ক হরমনপ্রীতও না। ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল শেফালির মেরুদণ্ড দিয়ে। শেফালি। ভারতীয় ক্রিকেটের ‘লেডি বীরু’। কিন্তু হাল ছাড়েননি। এই নীরবতা যে ভরসার! আস্থার! সেদিন শেফালিকে অলক্ষে বলে গিয়েছেন শ্যামলা বর্ণের এক তরুণও? নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের পাঁচ ম্যাচে তাঁর রান ছিল ৪৬। ক্রিকেট বোদ্ধারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কেন বয়ে বেড়ানো হচ্ছে একে?’ প্রতিভার খামতি নেই। অসম্ভব পরিশ্রমী। শুধু একটু ধারাবাহিকতার অভাব। ৩১ বছর বয়সি সেই ক্রিকেটারও কথা বলেছিলেন শচীন তেন্ডুলকরের সঙ্গে। রোহিত শর্মার সঙ্গে। শুরু করেছিলেন আরও বেশি প্র্যাকটিস। লড়াই। অপেক্ষা। ঈশ্বর তাঁর জন্য সত্যিই অন্যকিছু ভেবেছিলেন। হাল ছাড়েননি। স্ট্রাগলের সূত্রে। ফিরে আসার সূত্রে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, লড়াই কখনও ব্যর্থ হয় না। মরে যাওয়ার আগে হার নয়। এটাই তো বীজমন্ত্র প্রত্যাবর্তনের প্রত্যেক নায়কের। নাম যা খুশি হতে পারে… মহিন্দর অমরনাথ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, শেফালি ভার্মা… সঞ্জু স্যামসন। সঞ্জু বিশ্বনাথ স্যামসন। ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ নাটকে তিনিই মুখ্য ভূমিকায়। কখনও তাঁর নাম জিমি, কখনও দাদা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী তাঁর জয়গানেই ব্যস্ত। কেরালাইট যুবকের কথায়, ‘চোখের সামনে স্বপ্নটা ভেঙে যেতে দেখছিলাম। শচীন স্যার না থাকলে বোধহয় ফিরে আসতে পারতাম না। কঠিন সময়ে উনিই আমাকে বুঝিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন। আগের দিন রাতেও ফোন করেছিলেন আমাকে। জিজ্ঞেস করলেন, কেমন মনে হচ্ছে? ফাইনাল…। আর কয়েকটা পরামর্শ। আমার এই ইনিংসের জন্য। লড়াইয়ের জন্য।’ ঠিক তার পরই আপার কাট, শর্ট আর্ম পুল, ইনসাইড আউট ড্রাইভে বল গ্যালারিতে পৌঁছালে ক্রিকেটপ্রেমীরা উদ্বেল। তখন স্যমসনের ব্যাট শুধু তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে সমালোচকদের। পরিস্থিতি অনুযায়ী গিয়ার শিফট করা সঞ্জু স্যামসন পাকাপাকিভাবে ঢুকে যায় স্মৃতির ভল্টে? সঞ্জুর জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সত্যি এভাবেও ফিরে আসা যায়! ফাইট… ফাইট… ফাইট…।
বাংলার জন্য এত দরদ! অথচ ৪৫ মিনিটের বক্তৃতায় নতুন শিল্প, কর্মসংস্থান কিংবা মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা শোনা গেল না নরেন্দ্র মোদির মুখে। শুকনো মুখে যেমন সিঙ্গুরের সভা থেকে ফিরতে হয়েছিল, ব্রিগেড থেকেও তাই। শেষ ফাল্গুনের হাওয়ায় এলোমেলো ভেসে বেড়ালো বহিরাগতদের মুখে ‘পাল্টানোর স্লোগান’, ‘চাকরি চাই’ ব্যানার। মাটিতে লুটালো বাঙালিপ্রেমী সাজতে মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ছোঁয়া। ভ্রম হচ্ছিল, সাত মাস আগেই দুর্গাপুজোর থিম নাকি! রানি রাসমণির ঐতিহাসিক মন্দিরের যুগশ্রেষ্ঠ পূজারি কিন্তু বিভেদের হিন্দুধর্মের কথা বলেননি, পদে পদে হিন্দু-মুসলমানও করেননি সংকীর্ণ স্বার্থে, শুধু মেলানোর কথা বলে গিয়েছেন আজীবন। ধর্মের আড়ালে মেরুকরণের বিষ তাই বাঙালির পক্ষে গেলা কঠিন। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলেই তা আর একবার স্পষ্ট হয়ে যাবে। একথা সবার জানা, ভোট এলে তবেই তিনি আসেন গেরুয়া উড়িয়ে। তথাকথিত ‘জঙ্গলরাজ’ সাফ করতে। নির্বাচন ফুরোলেই আর মনে থাকে না বাংলার ধুলোধূসরিত পথ-প্রান্তর থেকে কল্লোলিনীর মহার্ঘ ব্রিগেড ময়দানের কথা। জঙ্গল বাড়ে, পানাপুকুরে ঢাকে চারদিক, কিন্তু তিনি বেপাত্তা। সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে কথা। তাঁকে নেহাতই ভোটপাখি ভাবা সমীচীন নয় মোটেই। এটাও সত্যি, একমাত্র ভোটের বছরেই তাঁর পায়ের ধুলো পড়ে এই তল্লাটের মহতী সভায়। এর অন্যথা হয় না কখনো। চোদ্দো, ষোলো, উনিশ, একুশ এবং ২০২৬ সাল।
হাওয়াই জাহাজের ধুলোয় গ্রামেগঞ্জে গরিবকে ঢেকে দেওয়ার একই ট্র্যাডিশন চলছে সমানে। মধ্যিখানে পনেরো, সতেরো, কোভিডের ভয়াবহ কুড়ি, বাইশ, তেইশ পঁচিশ সালে ভোট ছিল না, মোদিজিরও দেখা মেলেনি ব্রিগেডের মাঠে। অনেক হাপিত্যেশ করেও রাজ্যের জনগণ তাঁর টিকি ছুঁতে পারেনি মহামারীর সংকটে। বাংলার মানুষের জ্বালাযন্ত্রণা, উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্রের টানাপোড়েন, সাফল্য-বিপর্যয়, টানা ৪ বছর একশো দিনের টাকা না পাওয়া, আবাসের টাকা ও জিএসটির ক্ষতিপূরণ আটকে রাখা এমন দু’শো বঞ্চনার মরুভূমির উপর দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের সংকল্প যাত্রা বড্ড বেমানান নয় কী! বেমানান জঙ্গলরাজ খতমের ক্লিশে উপাখ্যানও। লোকে বুঝে গিয়েছে বিজেপির বহিরাগত কেষ্টবিষ্টু, মন্ত্রীসান্ত্রিরা বাংলার কল্যাণে নয়, স্রেফ ক্ষমতা দখলের চক্করেই নির্বাচনের আগে বাংলামুখী। ভোট না থাকলে ‘জঙ্গলরাজ খতম’, ‘ডবল ইঞ্জিন লাড্ডু’, ‘সুনার বাংলা’ গড়ার মতো চোখা চোখা শব্দগুলির ছুটি। ছুটি রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিম সহ তাবৎ মনীষীদের বিকৃত নাম আওড়ে অকৃত্রিম বাঙালিপ্রেমী সাজার কুনাট্যেরও। চলতি ভোটপর্ব পেরিয়ে গেলে আবার ঊনত্রিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে খুব জরুরি কাজ ছাড়া শতাব্দীর সেরা গুজরাতি ও তাঁর সেকেন্ড ইন কমান্ডের পদচিহ্ন পড়বে বলে মনে হয় না বাংলার মাটিতে। বনসল, যাদবদেরও অখণ্ড ছুটি। একুশে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সাহেব সকাল বিকেল একই আওয়াজ তুলতেন। ভোট মিটতেই সেই যে বাংলা ছেড়ে তিনি পিঠটান দিয়েছেন, আর দেখা গিয়েছে কি? তাঁর চারিত্রিক দোষগুণ সম্পর্কে বিজেপিরই একাধিক নেতার টিপ্পনি কিন্তু সযত্নে বাঁধিয়ে রাখার মতো!
নিঃসন্দেহে এবার নরেন্দ্র মোদির বাংলা নিয়ে তাগিদটা একটু বেশি। সেই নেশা থেকেই কাড়া নাকাড়া বাজিয়ে ঘুরতে আসা। ভুল হল, বলা ভালো ডেলি প্যাসেঞ্জারির মহোৎসব। তাঁর নেতৃত্বে এটাই সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফোটানোর শেষ লড়াই। এরাজ্যে গেরুয়া সংগঠন যেহেতু এখনও চোরাবালিতে নিমজ্জিত তাই একরাশ প্রতিশ্রুতি বিলিয়েই লড়াই জমাতে চাইছেন তিনি। পরের বিধানসভা নির্বাচনে ৮২ বছর বয়সেও তিনি যদি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে আসীন থাকেন তা বাজপেয়ি-আদবানি পরবর্তী গেরুয়া রাজনীতিতে এক অভিনব অধ্যায় হিসাবেই বিবেচিত হবে। দুঃখ একটাই, পরিবারবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিজেপি আজ একনায়কতন্ত্রের পূর্ণগ্রাসে আচ্ছন্ন। মত একজনের, অনুসরণ সবার। আসন্ন নির্বাচনে বাংলার মানুষের সামান্য ভুলচুক হলেই এরাজ্য নিয়ন্ত্রিত হবে নবান্ন কিংবা রাইটার্স থেকে নয়, সুদূর দিল্লি থেকে। কোনো গুজরাতি বাংলার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে এটা মানবে রবীন্দ্রনাথ-নেতাজির বাংলা? এই বঙ্গে মোদিজির দৌড়টা শুরু ১২ বছর আগে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ থেকে শনিবারের এই বারবেলা পর্যন্ত। ভোটে জিততে প্রতিশ্রুতির ফোয়ারা নতুন নয়। বারবার শোনা গিয়েছে একই কথা। আম নাগরিকদের কাছে এক যুগ পেরিয়ে তা নিতান্তই ক্লিশে। দশ বছর আগে নোট বাতিলের ফ্লপ নাটকে কালো টাকার দপদপানি যেমন কমেনি, তেমনি হালের গালভরা এসআইআরের ইন্দ্রজালেও ভোটার সব জব্দ হয়েছে ভাবা শুধু ভুলই নয়, বালখিল্য মন্তব্য। বিজেপির এজেন্ডা পূরণ করতে গিয়ে চরম হেনস্তার সম্মুখীন বাংলার সাধারণ মানুষ। সংখ্যালঘুদের শায়েস্তা করার অছিলায় দশকের পর দশক ভোট দেওয়া হিন্দুদেরও কম হয়রানি করা হয়নি। এখনও ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য বিচারাধীন। কমিশনের প্রাথমিক হিসাবই বলছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে মোটের উপর ২৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ছে। এখন সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের অপেক্ষা।
বিজেপি বলছে, মানুষ পরিবর্তন চায় উন্নয়নের জন্য। কিন্তু মানুষ দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে দেখছে, মোদি শাসনের ১২ বছরেও সোনার ভারত হয়নি, বিজেপি শাসনে ৫০০ দিন পেরিয়েও সোনার ওড়িশার খোয়াব স্রেফ লবডঙ্কা! অসমের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তথৈবচ, এখনও অনুপ্রবেশ আর মাদকের স্বর্গরাজ্য। অগত্যা মন ভোলাতে সোনার বাংলার স্বপ্ন ফেরিতে মরিয়া নরেন্দ্র মোদি। উনিশে, একুশে এবং চব্বিশের ফ্লপ শোয়ের পর এবার ছাব্বিশের মেগা শো। তাঁর অস্ত্র লম্বা চওড়া ভাষণ আর সম্ভব-অসম্ভব প্রতিশ্রুতির গাজর, বিট, বেগুন ঝোলানো, যা তাঁর গত ১২ বছরের ম্লান হয়ে যাওয়া ইউএসপিকে চাঙ্গা করতে পারবে কি না, বলবে ভোটের ফল। বাংলার মানুষ জানে এই পূর্ব ভারতে গেরুয়া আগ্রাসন থেকে এখনও বেঁচে রয়েছে একমাত্র এ রাজ্যই। এবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামক পূর্ব ভারতের দুর্ভেদ্য চাইনিজ ওয়ালের সামনে নিতান্তই খর্বাকার দেখাচ্ছে মোদিজির উন্নয়নের হাতছানি। পূর্ব ভারতে বিজেপির দখলদারি শুরু অসম দিয়ে। অসমে গেরুয়া সরকার শপথ নেয় ২৪ মে ২০১৬। ত্রিপুরায় গেরুয়া সবকারের শপথ ২০১৮ সালে। তারপর একে একে ওড়িশা এবং বিহারে জোট সরকারের জুনিয়র পার্টনার থেকে সিনিয়র শরিকে উত্তরণ সম্পন্ন হয়েছে নিপুণ রাজনৈতিক চালে। ‘সুনার’ ওড়িশা গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে বিজেপি সরকার ভুবনেশ্বরে শপথ নিয়েছিল ১২ জুন ২০২৪। আর তিন মাস পরেই দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। খুন ধর্ষণ রাহাজানি ছাড়া কী পেয়েছে ভগবান জগন্নাথের দেশের মানুষ। দু’বছরেরও কম সময়ে মহিলাদের উপর ৩৭ হাজার ৫০০টি ভয়ংকর অত্যাচার, যৌন নিগ্রহ শ্লীলতাহানির ঘটনা রাজ্যকে উত্তাল করেছে। গোপালপুরের গণধর্ষণ, বালেশ্বরে এক ছাত্রীর অপমানে আত্মহত্যা, বোলাঙ্গিরে এক তরুণীর আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা গোটা দেশের বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অপরাধের বিচারে দেশের মধ্যে ওড়িশার স্থান আজ অষ্টম। বিজেপি ক্ষমতায় আসার কুড়ি মাসে কলিঙ্গ রাজ্যে ৫৪টি দাঙ্গা হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। গণহত্যার ঘটনা ২০। এই অমিত শাহদের সোনার ওড়িশা! উত্তরপ্রদেশে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিগত ৯ বছরে বেছে বেছে এনকাউন্টারে মারা হয়েছে তিনশোরও বেশি বিরোধীকে। মুখে বলা হচ্ছে, অপরাধী নিকেশ। কিন্তু যে কথাটা উহ্য রাখা হচ্ছে তা হচ্ছে, সমাজবিরোধী এবং গুণ্ডাদেরও আমরা-ওরা মেরুকরণ করেছে যোগী সরকার। এনকাউন্টারে খতম করার অপারেশন। বাংলার মানুষ ঠেকে শিখেছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দিয়ে পেট ভরে না, কর্মসংস্থান আর সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশই আসল। সঙ্গে চাই হাতে নগদ টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কন্যাশ্রীর সঙ্গে এইখানেই পাল্লা দিতে গেরুয়া শিবির ব্যর্থ। এই কারণেই মমতার দেওয়ালে বারবার ধাক্কা খেয়ে আটকে যায় বিজেপির রথের চাকা। সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সমস্যা—সঠিক মজুরি এবং হাতে কাজ নিয়ে বিজেপির কোনো সদর্থক ভূমিকা নেই। তারা কেবল নির্বাচনের আগে ‘পরিযায়ী পাখি’র মতো দেখা দেয়। আসার আগে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে সিবিআই-ইডি-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেই ব্যস্ত থাকে। বিভেদকামী প্রতিহিংসাপরায়ণ দলের হাতে বাংলার ভাগ্য? নিঃসন্দেহে বাঙালির ইতিহাস বিরাট চ্যালেঞ্জের সামনে। ‘মোদির গ্যারান্টি’ আর ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ আর কত দিন? বাংলার মানুষ বদলার রাজনীতি চায় ?
সন্তান হোয়াটস্অ্যাপে কী করছে? পূর্ণ নজরদারি চালাতে পারবেন অভিভাবকেরা, মেটা আনল নয়া ফিচার
সন্তানের বয়স ১৩ বছরের নীচে হলে তার হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে নজরদারি চালাতে পারবেন বাবা-মায়েরা। নতুন ফিচার নিয়ে এল মেটা। কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?




