Saturday, March 7, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এক ধাক্কায় বাড়ল গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম!‌ পাঁচ দিনের মাথায় দুই ধরনের গ্যাসের দামই উর্দ্ধগামী

১ মার্চ বাণিজ্যিক গ‍্যাস সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছিল ৩১ টাকা। যদিও সে বারে বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়নি। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় দুই ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ল। ৫ দিন আগেই বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এ বার এক ধাক্কায় বাড়ল বাণিজ্যিক ও গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাসের দাম। মনে করা হচ্ছে, ইরান ও ইজ়রায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্যই এই দামবৃদ্ধি। বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের (১৪.২ কেজি সিলিন্ডার) দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। ফলে ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে সিলিন্ডার প্রতি দাম হয়েছে ৯৩৯ টাকা।লবাণিজ্যিক গ্যাসের (১৯ কেজি সিলিন্ডার) আগে দাম ছিল ১,৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। দাম বাড়ল ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। যার জেরে সিলিন্ডার প্রতি দাম হচ্ছে ১,৯৯০ টাকা। প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ বাণিজ্যিক গ‍্যাস সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছিল ৩১ টাকা। যদিও সে বারে বাড়িতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়নি। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় দুই ধরনের গ্যাসের দামই বাড়ল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্প্রতি পুরনো নিয়ম ফিরে এসেছে। গৃহস্থেরা ২১ দিনে মাত্র একটিই সিলিন্ডার কিনতে পারবেন। ইরান- আমেরিকা-ইজ়রায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি আমদানি-রফতানি কার্যত বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে ভারত জানিয়েছিল, আপাতত চালিয়ে নেওয়ার জন্য জ্বালানি মজুদ রয়েছে। যদিও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাশিয়া। আমেরিকাও ভারতকে শর্ত সাপেক্ষে এক মাসের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ‘অনুমতি’ দিয়েছে। ইরান-ইজ়রায়েলের সংঘাতের প্রভাব এ বার দেশবাসীর হেঁশেলেও! দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে আরও বেশি করে এলপিজি উৎপাদন করার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশে যত এলপিজির প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশ আমদানি করা হয়। এ বার পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে সেই আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ রকম চললে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা কেন্দ্রীয় সরকারের। সে কারণেই জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৪-২৫ সালে ভারতবাসী ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহার করেছিলেন। তার মধ্যে মাত্র এক কোটি ২৮ লক্ষ টন এলপিজি দেশে উৎপাদিত হয়েছিল। বাকি এলপিজি আমদানি করেছিল ভারত। আর তার বেশির ভাগটাই এসেছিল পশ্চিম এশিয়া থেকে। আমদানি করা এলপিজির ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ আনা হয়েছিল সৌদি আরব থেকে। আর তা এসেছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরানে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা গত শনিবার থেকে হামলা শুরু করার পরে সেই প্রণালী বন্ধ। ফলে এলপিজি আমদানি এখন ভারতের পক্ষে সমস্যার হয়ে উঠতে পারে। ভারতে তেল শোধনাগার যথেষ্ট সংখ্যক থাকলেও দেশে এলপিজির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রক দেশের সব সরকারি এবং বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে তৈরি হয় এলপিজি। সেগুলি যাতে এখন দেশে যতটা বেশি সম্ভব উৎপাদন করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের জরুরি পণ্য (এসেনশিয়াল কমোডিটি) আইন বা ইএসএমএ-তে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের আরও নির্দেশ, এখন প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে পেট্রোরাসায়নিক তৈরি করা যাবে না। গৃহস্থদেরই আপাতত এই গ্যাস বিক্রি করা যাবে। সূত্র বলছে, এই প্রোপেন এবং বুটেন দিয়ে পলিপ্রোপাইলিন, অ্যালকাইলেটসের মতো পেট্রোরাসায়নিক তৈরি করে অনেক বেশি লাভ করে তেল সংস্থাগুলি। এলপিজি তৈরিতে অতটাও লাভ হয় না। এ বার কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার ফলে কিছুটা হলেও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশের তেল শোধনাগারগুলি। ভারতে এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা ৩৩.০৮ কোটি। প্রতিদিন দেশে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। রান্নার কাজ, সার তৈরি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, মোটর চালানোর সিএনজি তৈরিতে ওই গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles