কার আশ্রয়ে রয়েছে প্রোমোটার খুনে অভিযুক্ত হারুন-রোহিত? হাওড়া খুনে এবার মুখ খুললেন ফিরহাদ। হাওড়ার খুনের ঘটনায় এবার পুলিশের ভূমিকায় সরব মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “পুলিশকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। আমি পুলিশকে বলব, যারা অস্ত্র নিয়ে গ্রেফতার হচ্ছে বা অস্ত্র আইনে গ্রেফতার হচ্ছে, তারা যেন এত দ্রুত জামিল না পায়।” তাঁর বক্তব্য, জামিন পেলেই ফের এক অরাজকতা তৈরি করছে। পুলিশকে নজর রাখতে হবে। ভোটের আগে এই অস্ত্র বাইরের রাজ্য থেকে আসছে। এখানে পুলিশের উচিত এইসব ক্রিমিনালদের উপরে নজর রাখা। প্রসঙ্গত কাঁকুলিয়া রোডে মারপিটের ঘটনায় ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জনের জামিন হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে অভিযোগ ছিল। তারপরেও জামিন পেয়ে যায়। মূলত সেই ঘটনাকেই পরোক্ষে পুলিশকে বিঁধলেন রাজ্যের মন্ত্রী। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তদের শনাক্তকরণের পরও কীভাবে এখনও গ্রেফতার করা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার মধ্যে মূল অভিযুক্ত হারুনের সঙ্গে এলাকার বিধায়কের ছবি প্রকাশ্যে আসায় পারদ চড়েছে।
১৬ ফেব্রুয়ারি গোলাবাড়িতে হারুনের রক্ষিতার বাড়িতে বসে ধৃত ৩ জন ও মূল অভিযুক্ত ২ জন মোট ৫ জন মিলে মহম্মদ শফিককে খুন করার ছক কষে। পিলখানায় খুনের ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই এই খুনের সঙ্গে যুক্ত তিন জনকে বুধ গভীর রাতে কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার করে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত হারুন খান বা রাফাকাত হোসেন ছিলেন না। যে হারুন ও রাফাকাত ওরফে রোহিত বুধবার ভোরে মহম্মদ শফিককে গুলি চালিয়ে খুন করে। সিসিটিভি ফুটেজে ২ জনকে খুন করতে দেখা যায়। সেই মূল অভিযুক্ত ২ জনকে খুঁজতে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, যে তিন জনকে বুধবার রাতে জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয় তারা হল মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন। পুলিশ সূত্রে খবর, গুলি চালিয়ে খুন হারুন ও রোহিত করলেও খুনের ছক কষা কিংবা খুনের ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত ধৃত তিনজন। ধৃত ৩ জন খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ২ জনকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করে। হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক গৈরিক রায় ধৃতদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃত তিন জনের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। মোবাইল ট্র্যাক করেই ধৃত তিন জনকে ধরে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গোলাবাড়িতে হারুনের রক্ষিতার বাড়িতে বসে ধৃত ৩ জন ও মূল অভিযুক্ত ২ জন মোট ৫ জন মিলে মহম্মদ শফিককে খুন করার ছক কষে। আর সেই পরিকল্পনা মতোই ২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোরে শফিকের বাড়ির সামনে তাঁকে গুলি করে খুন করে হারুন ও রোহিত। পুলিশ সূত্রে খবর, হারুন ও তার দলবল শফিকের কাছে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। তা না দেওয়াতেই তারা শফিককে খুন করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুধবার ভোরে শফিককে খুন করতে ৫ জনই গিয়েছিল। একটি গাড়ি নিয়ে পিলখানা সেকেন্ড বাই লেনের গলির বাইরে দাঁড়িয়েছিল ধৃত মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না ও দিলদার হোসেন। আর গলির ভিতরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শফিককে খুন করতে গিয়েছিলো হারুন ও রোহিত। বাইরে ধৃত তিনজন পাহাড়ায় ছিল। গুলি চালিয়ে খুনের পরই হারুন ও রোহিত গলি দিয়ে ছুটে পিলখানায় জিটি রোডের উপর চলে আসে। বাকি ৩ জনের সঙ্গে ওই ২ জন গাড়িটিতে উঠে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। শফিককে খুনের পর কলকাতার জোড়াসাঁকোতে মহম্মদ বিল্লালের বাড়িতে ওঠে ৫ জন। ওই বাড়ি থেকে হারুন ও রোহিত পালিয়ে গেলেও বিল্লালের বাড়িতে থেকে যায় মুন্না ও দিলদার। এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার হাওড়ার পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া বলেন, ‘‘ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত চলছে। ঠিক কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ হাওড়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক এই প্রসঙ্গে জানান, ‘‘৫ জনই ছক করে শফিককে খুন করে। ৫ জনের বিরুদ্ধেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ এই ঘটনায় পিলখানায় এলাকার পরিবেশ থমথমে। রমজান মাস হিসেবে এলাকার বাসিন্দারা বাজার দোকান করছেন। পাশাপাশি পিলখানা এলাকায় হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে প্রচুর পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন রয়েছে। অন্যদিকে এদিন এই খুনের ঘটনার প্রতিবাদে গোলাবাড়ি থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। বিজেপির উত্তর হাওড়ার নেতা উমেশ রাই বলেন, ‘‘আমরা দোষীদের দ্রুত উপযুক্ত সাজা চাই। এই খুনের পিছনে আসল মাথাদের ধরতে হবে।’’





