Monday, May 4, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট?‌ ৫ মার্চ মনোনয়ন জমা!‌ নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা বাতিল!‌ ৮০৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে!‌ রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি

আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা বাতিল করা হল। ৮০৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে। ভোটারদের নাম বাদের হিসাবের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সিইও দফতর জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে অসুবিধা নেই। নির্বাচন কমিশনের মতে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যে সব তালিকা বার হবে সেগুলি নিয়েই নির্বাচনে যাওয়া হবে। রাজ্যে খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেও, এখনই ভোটারদের নাম বাদের হিসাব মিলবে না। আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক, ২৮ তারিখের পরেও ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন। পরবর্তী কালে সেগুলিকেও চূড়ান্ত তালিকা হিসাবে ধরা হবে। ফলে মোট কত নাম বাদ গেল একেবারে সেই তালিকা ধরে হিসাব করতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা হতে পারে রাজ্যে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা বাতিল করা হল। ৮০,৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে। ভোটার তালিকার বিশের নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ শেষ না হওয়ায় বুথবিন্যাস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের পূর্বসূচি অনুযায়ী, বুধবার রাজ্যে বুথবিন্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভোটার সংখ্যা স্থির না হওয়ায় বুথবিন্যাস হবে না। তবে বহুতলের জন্য ৬০-৭০টি অতিরিক্ত বুথ যুক্ত হতে পারে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, ১২০০-র বেশি ভোটার থাকলে নতুন বুথ তৈরি করা হবে। এসআইআরের কাজ শেষ না হওয়ায় কত ভোটার বাদ এবং যুক্ত হলেন, সেই হিসাব মিলছে না। এই অবস্থায় আগের বুথের হিসাবই থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮১। এসআইআর শুরুর আগে ভোটার অঙ্কে প্রায় ১৪ হাজার অতিরিক্ত বুথ তৈরির প্রয়োজনীয়তা ছিল। খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়ায় নতুন করে বুথবিন্যাস করার কথাও জানিয়েছিল কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের বেঞ্চ জানায়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের শেষ দিন। তবে যদি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (তথ্যগত অসঙ্গতি) বা ‘আনম্যাপড ক্যাটেগরি’ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তবে কমিশন তালিকা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবে।

তৎপরতা শুরু করে দিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। রাজ্যসভা নির্বাচন। নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। ৬ মার্চ স্ক্রুটিনি এবং ৯ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। মোট পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলে ভোটাভুটি না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্ক্রুটিনির দিনেই তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, আগামী ৫ মার্চ দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেন। মঙ্গলবার বিকেল থেকেই তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে বিধায়কদের ফোনে বার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। কেউ যাতে প্রস্তাবক হিসাবে সই করা থেকে বাদ না পড়েন, সেই কারণে হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে বিধায়কদের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পৃথক ভাবে ফোন করেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিধানসভায় এসে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষ এ বিষয়ে বিধায়কদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাতে বলেছেন। জানানো হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মনোনয়ন দাখিল প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলীয় নির্দেশ অনুযায়ী, বৃহস্পতি, শুক্র এবং আগামী সোমবারের মধ্যে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে সই করে যেতে হবে বিধায়কদের। সোমবারের মধ্যেই সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাখা হবে। আপাতত প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য দু’টি করে মনোনয়নপত্র তৈরি করা হবে। এর পর দোলের দু’দিনের ছুটি কাটিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৫ মার্চ তৃণমূল প্রার্থীরা একযোগে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ৫ মার্চ পর্যন্ত। ৬ মার্চ স্ক্রুটিনি এবং ৯ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। মোট পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলে ভোটাভুটি না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্ক্রুটিনির দিনেই তাঁদের নির্বাচিত ঘোষণা করে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। এ বারের নির্বাচনে একটি আসন আগেই শূন্য হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর জানুয়ারিতে রাজ্যসভার সদস্যপদ ছেড়ে দলত্যাগ করে কংগ্রেসে যোগ দেন। ফলে তাঁর আসনটি ফাঁকা রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সমাজকর্মী সাংসদ সাকেত গোখলে এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। যদিও সাকেত ও ঋতব্রত ভাঙা মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবু তাঁদের পুনরায় প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে সংশয় রয়েছে। অন্য দিকে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সুব্রত আর রাজ্যসভায় যেতে আগ্রহী নন বলেই দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত। এ দিকে বিরোধী শিবিরে এখনও তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। বিজেপি পরিষদীয় দলের তরফে মনোনয়ন নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রস্তুতির খবর নেই। তবে রাজনৈতিক মহলের অনুমান, ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই পদ্ম বিধায়কেরাও দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র তৈরির কাজ শুরু করবেন। সিপিএমের একমাত্র রাজ্যসভা সাংসদ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেই আসনে এ বার বিজেপি প্রার্থী দেবে এবং সংখ্যার অঙ্কে সুবিধা থাকায় তারা একটি আসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এগোবে। সব মিলিয়ে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী নির্বাচন ও সমীকরণ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল থাকছেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles