বরফের চাদরে ঢাকল সান্দাকফু-মানেভঞ্জন। দার্জিলিংয়ে উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। পূর্ব সিকিমে জওহরলাল নেহরু রোডের সিপসু থেকে ১৬ মাইলের মধ্যে কয়েকটি পর্যটকবাহী গাড়ি বরফে আটকে পড়ে। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়। খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনা। পুলিশ ও জিআরইএফের সহায়তায় শিশু-সহ মোট ৪৬ জন পর্যটককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। সিকিমের আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দার্জিলিং ও সিকিমের পার্বত্য এলাকায় আরও কয়েক দিন একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। মূলত হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলেই তুষারপাত চলবে। পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলেও বরফ পড়েনি দার্জিলিং শহরে। এদিকে ভারী তুষারপাত অব্যাহত পূর্ব সিকিমে। বরফে এলাকা ঢেকে থাকায় বিপর্যস্ত চিন সীমান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই অবস্থায় নাথু-লা ও ছাঙ্গু উপত্যকা ভ্রমণে পর্যটক পাস ইস্যু বন্ধ করে দিল সিকিম প্রশাসন। এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষলগ্নে তুষারের চাদরের ঢাকল দার্জিলিঙের সান্দাকফু। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, চলতি বছরে এই প্রথম এত ব্যাপক আকারে তুষারপাত হল সান্দাকফুতে।
তুষারপাতের সম্ভাবনার খবর মিলতে এদিন সকাল থেকে পর্যটকরা সান্দাকফুতে ভিড় করেছিলেন। দুপুরের পর তুষারপাত দেখে খুশি পর্যটকরা। অবশেষে ফেব্রুয়ারির শেষে বরফ পেয়ে খুশিতে মজেছেন তারা। এদিন টুংলুন, তুংলিং-সহ নিচু এলাকা হালকা বৃষ্টির সঙ্গে হালকা তুষারপাত হয়েছে। তুষারপাতের খবর চাউর হতে সান্দাকফুর উদ্দেশে রওনা হন প্রচুর পর্যটক। দুপুরে ওই এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়। নিমেষের মধ্যে গাছের পাতা, রাস্তা, ঘাস ঢেকে যায় বরফে। এদিকে একই পরিস্থিতি উত্তর এবং পূর্ব সিকিমে। মঙ্গলবারও ভারী তুষারপাত হয়েছে উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন, জিরো পয়েন্ট, গুরুদংমার হ্রদ এবং পূর্ব সিকিমের নাথু-লা, ছাঙ্গু উপত্যকায়। নিরাপত্তার প্রয়োজনে সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে নাথু-লা ও ছাঙ্গু উপত্যকা ভ্রমণের পাস ইস্যু এবং যান চলাচল। রবিবার ছাঙ্গু উপত্যকায় ভারী তুষারপাতের জেরে আটকে পড়ে পর্যটকদের শতাধিক গাড়ি। গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪৬ জন পর্যটককে উদ্ধার করে ও চালকদের নিরাপদে সরিয়ে আনে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার অতিভারী তুষারপাত এবং ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে সিকিমের উঁচু এলাকায়। স্বভাবতই রবিবারের ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে আর ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।





