সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ফের এসআইআর মামলার শুনানি। বুধবারের মতো ওইদিন শুনানিতে অংশ নেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণে ফের দিল্লি যাবেন। শুক্রবার এসআইআর ও সোমবার বিধানসভার শেষদিনে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে আলোচনায় সব মিলিয়ে তিনদিনই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যাত্রার ফলে সোমবারের পরিবর্তে শনিবার বিধানসভার অধিবেশন শেষ করছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারই অধিবেশনে ভোট অন একাউন্ট নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। সূত্রের খবর, সোমের বদলে শনিবারই হতে পারে আলোচনা। শুক্রবার সকাল ১১টায় এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্তার ইস্যু নিয়ে পরিষদীয় রুলের ১৬৯ নম্বর মোশনে প্রস্তাব পেশ করবেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এক ঘণ্টার জন্য হলেও এসআইআর কেন্দ্রিক এই আলোচনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন। এরপরই রাজ্যপালের ভাষণের উপর দু’ঘণ্টার বিতর্ক শুরু হবে। এরপর আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার ১ ঘণ্টার জন্য রাজ্য সরকারের পণ্য বিষয়ক একটি বিল নিয়েও আলোচনা হবে। শেষে ভোট অন অ্যাকাউন্ট নিয়ে দু’ঘণ্টার বিতর্ক চলবে। এই শেষদিনেও মুখ্যমন্ত্রী অংশ নিতে পারেন। তবে ৯ ফেব্রুয়ারির কার্যক্রমে বদল হবে বলেই সূত্র মারফৎ খবর। ভোট অন অ্যাকাউন্ট, তবু বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘মা-মাটি-মানুষ সরকার’-এর এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারের কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ ‘সুখবর’ থাকার সম্ভবনা রয়েছে। বাংলার বাড়ি, কৃষি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা থাকতে পারে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেটে। শুধু তাই নয়, ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট হলেও সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্য়োগ-সহ অন্যান্য বিষয়েও বাড়তি বরাদ্দের কথা থাকতে পারে চন্দ্রিমার ঘোষণায়।
মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিসহ উৎপাদনমুখী পরিকাঠামো, বাস্তব ক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নগত ক্ষেত্রগুলি যথেষ্ট পরিমাণে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হয়েছে। ১৫ বছরে রাজ্যের সেচপরিসর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সেচের আওতাভুক্ত চাষযোগ্য জমির পরিমাণ জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণরূপে নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করেছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে মোট ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ ধান ও পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং কাট ফ্লাওয়ার্স, আনারস ও মাংস উৎপাদনেও পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। সবজি, মৎস্য এবং চা উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। ডিম উৎপাদনে এই রাজ্য বর্তমানে স্বনির্ভর হয়েছে। রাজ্যপালের ভাষণ শেষে হাত তালি দিয়ে অভিনন্দন বিরোধী দলনেতার। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “রাজ্যের তৈরির করা মিথ্যা ভাষণ পড়েননি রাজ্যপাল।”





