বাংলা: ০
সার্ভিসেস: ০
টাইব্রেকারে ২-৩ গোলে হেরে বিদায় বাংলার
হতশ্রী ফুটবল, গোল করতে ব্যর্থতা, এমনকী টাইব্রেকারেও গোল মিসের প্রবণতার ফল ভুগতে হল বাংলাকে। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল ছিল গোলশূন্য ড্র। টাইব্রেকারে বদলি গোলকিপার গৌরব শ জোড়া সেভ করেও দলের পতন রোধ করতে পারেননি। সন্তোষ ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেল সঞ্জয় সেনের দল। টাইব্রেকারে সার্ভিসেসের কাছে ২-৩ ব্যবধানে হেরে ছিটকে গেল গত বারের চ্যাম্পিয়নেরা। গোল করার ব্যর্থতাতেই ডুবল বাংলা। টাইব্রেকারেও গোল করতে পারলেন না বাংলার একাধিক ফুটবলার। টাইব্রেকারে বাংলার পরিবর্ত গোলরক্ষক গৌরব শ প্রতিপক্ষের দু’টি শট আটকেও বাংলাকে সেমিফাইনালে তুলতে পারলেন না। সঞ্জয়ের দল ডুবল ফুটবলারদের জঘন্য ফুটবলের জন্য। নির্ধারিত সময়ে গোল করতে পারেনি কোনও দলই। টাইব্রেকারেও গোল করতে ব্যর্থ হন বাংলার একাধিক ফুটবলার। ফলে কাজে এল না গৌরবের চেষ্টা।সার্ভিসেস প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে কেরলের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছিল। বাংলার কোচ জানতেন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই সহজ হবে না। ম্যাচের শুরু থেকেই রবি হাঁসদাদের চাপে রেখেছিলেন সার্ভিসেসের ফুটবলারেরা। গোল না পেলেও তাঁরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে যান একটানা। খেলার গতির কিছুটা বিপরীতে ১৯ মিনিটের মাথায় গোল করার সুযোগ পেয়েছিল বাংলা। কিন্তু লাভ হয়নি। মাঝমাঠের দখল শুরু থেকেই নিয়ে নেন সার্ভিসেসের ফুটবলারেরা। চাপে পড়ে একের পর এক ভুল পাস করতে শুরু করেন বাংলার ফুটবলারেরা। সুবিধা কাজে লাগিয়ে গোল করার জায়গায় চলে যাচ্ছিল সার্ভিসেস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলও করে ফেলে তারা। অফসাইড হওয়ায় সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আকাশ হেমব্রমকে বসিয়ে বিজয় মুর্মুকে নামান সঞ্জয়। তাতে উইং কিছুটা সচল হয়। তবে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে পারেননি রবিরা। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অন্য দিকে, বাংলার প্রথম গোলরক্ষক সোমনাথ দত্ত বেশ কয়েক বার দলের পতন রোখেন। ফাঁকা পোস্ট পেয়েও গোল করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ও সার্ভিসেসের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে চাপে ছিল বাংলা। একেক সময় বাংলাকে দেখে দিশাহারা, অসহায় মনে হয়েছে। ১০০ মিনিটের মাথায় চাকু মান্ডি গোললাইন সেভ না করলে, ম্যাচ তখনই শেষ হয়ে যেত। সার্ভিসেসের প্লেয়ারদের ফিনিশিংয়ের অভাব ও বাংলার মরিয়া রক্ষণে গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচ শেষ হয়। টাইব্রেকারের আগে গোলকিপার বদল করে বাংলা। সোমনাথের জায়গায় নামেন গৌরব। তিনি দু’টো সেভ করেন। তাতেই বা রক্ষা হল কোথায়? প্রথম দু’টি শট মিস করেন বাংলার ফুটবলাররা। চাকু মান্ডি ও করণ রাইয়ের মিসের পর শেষ শটে গোল করতে পারেননি নরহরি শ্রেষ্ঠা। সেখান থেকে আর কামব্যাক করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে সন্তোষ ট্রফি থেকে বিদায় নিল বাংলা।





