Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

চুরির ভয়ে শ্রমিকদের গুদামের ভেতরে তালাবদ্ধ?‌ তাতেই জতুগৃহ?‌ ওয়াও মোমো-র তরফে বিবৃতি দিয়ে দায় চাপানো হল পাশের গুদামের দিকেই

ওয়াও মোমো-র বাজারমূল্য প্রায় ২,৮৩৮ কোটি টাকা প্রায় ৩১৫–৩২০ মিলিয়ন ডলার। চকচকে মার্কেটিং আর একের পর এক নতুন আউটলেট খুলতে তারা অঢেল টাকা খরচ করে, কিন্তু শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের পরিবেশ আর ন্যূনতম মানবিক মর্যাদার জন্য এক পয়সাও নয়। পুঁজিবাদের সবচেয়ে কুৎসিত চেহারাটা প্রতিদিনই উন্মোচিত হচ্ছে। গতকাল ওয়াও মোমো-র একটি গুদামে অসংখ্য জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, ওয়াও মোমো-র এখন একটি নামী ব্র্যান্ড। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চুরির ভয়ে শ্রমিকদের গুদামের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। আর গতকালের আগুনেই তাদের সকলের জীবন শেষ হয়ে গেল। সাগর দারওয়ানি, ওয়াও মোমো-র শ্রমিকদের এভাবে তালাবদ্ধ করে রাখা কি শ্রম আইনের পরিপন্থী নয়? সাধারণ মানুষের জন্য নরকের সংজ্ঞা?‌ মানুষের জীবনের দাম?‌ প্রশ্ন সাধারনের। ৬০ ঘণ্টা পর মুখ খুলল ওয়াও মোমো! আঙুল পাশের গুদামে অনিয়মের দিকে, মৃত ৩ কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস।

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওয়াও মোমো-র গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ৬০ ঘণ্টা পরে মুখ খুলল সংস্থা। ওয়াও মোমো-র তরফে বিবৃতি দিয়ে দায় চাপানো হল পাশের গুদামের দিকেই। অভিযোগ, রাতে সেখানে অননুমোদিত ভাবে রান্না করা হচ্ছিল। তা থেকেই আগুন লাগে, যা ওয়াও মোমো-র গুদামকে গ্রাস করে ফেলে। এই ঘটনায় সংস্থার তিন জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে ওয়াও মোমো। আজীবন দেওয়া হবে মাসিক বেতনও। কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা। রবিবার মধ্যরাতে নাজিরাবাদের দু’টি গুদামে পর পর আগুন লেগে যায়। ভিতরে আটকে পড়েছিলেন রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় দীর্ঘ ক্ষণ পরে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১১ জন। এ ছাড়াও তিনটি দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে ওয়াও মোমো-র গুদামের পিছন দিক থেকে। সেগুলি এক জনের না একাধিক ব্যক্তির, তা নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও মৃতের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। ঘটনার পর থেকেই ওয়াও মোমো-র ভূমিকা, গুদামে তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমাজমাধ্যমে অনেকে সংস্থাকে বয়কটের ডাকও দিয়েছেন। ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুরে ওয়াও মোমো এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পাশের গুদাম থেকে ২৬ জানুয়ারি ভোর ৩টে নাগাদ আগুন আমাদের গুদামে ছড়িয়ে পড়েছিল। আনন্দপুরে আমাদের একটি গুদাম এর ফলে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আমাদের দু’জন কর্মীর মৃত্যু এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। পাশের গুদামে অননুমোদিত ভাবে রান্নাবান্না চলছিল। সেখান থেকেই আগুন ছড়়িয়েছে। এই আগুন শুধু আমাদের কর্মীদেরই নয়, আমাদের সত্তাকেই গ্রাস করে নিয়েছে।’’

মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ। পরিবারগুলির আর্থিক নিশ্চয়তার দিকেও নজর রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা তিন জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। ওদের আশ্বাস দিয়েছি, প্রতি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সারাজীবনের জন্য প্রতি মাসে শোকাহত পরিবারকে বেতন দেওয়া হবে। প্রতি পরিবারের সন্তানের শিক্ষার খরচ আমরা বহন করব।’’ এই সংক্রান্ত তদন্তে প্রশাসনের সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। নাজিরাবাদের ধ্বংসস্তূপে এখনও কলকাতা পুরসভা এবং দমকল কাজ করছে। আগুন পুরোপুরি নিবে গিয়েছে। তবে সব জায়গায় পৌঁছোনো যায়নি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

আনন্দপুর কাণ্ডের পর পেরিয়েছে চারটে দিন! চারপাশ জুড়ে শুধুই হাহাকার। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১ জন। পাশাপাশি পুলিশের খাতায় এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২৮ জন। তাঁদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবার জেসিবি নিয়ে এসে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া টিনের শেড সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ চালানো হবে। অন্যদিকে এদিন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতার। তার আগেই বুধবার মধ্যরাত থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (পূর্বতন আইপিসি ১৪৪) জারি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় জমায়েত ও যাতায়াতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। 

রবিবার রাতেও আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ছিল কারখানা, গুদাম। প্রতিমুহূর্তে কর্মীদের আনাগোনা লেগেই থাকত। লেলিহান শিখা নিমেষে বদলে দিয়েছে সেই চির পরিচিত ছবি। এখন সেখানে শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর পোড়া গন্ধ। তার মধ্যেও প্রিয়জনের খোঁজ চালাচ্ছেন নিখোঁজদের পরিবার। যদিও সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে আজ থেকেই ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হতে পারে। নিহতদের সঠিক পরিচয় জানার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন। আর সেই কাজ সম্পন্ন হলেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের প্রশ্নে মুখে ওয়াও মোমো। ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার এই বিষয়ে সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সোশাল মিডিয়া পোস্টে সংস্থার তরফে দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের উপর। বলা হয়েছে, পাশের গুদামে অননুমোদিতভাবে রান্না চলছিল গুদামে। সেখান থেকেই আগুন লাগে। যা ছড়িয়ে যায় ওয়াও গুদামে। সেই বিবৃতিতেই সংস্থার তরফে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের পাশের গুদাম থেকে ২৬ জানুয়ারি ভোর ৩টে নাগাদ আমাদের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। আনন্দপুরে আমাদের একটি গুদাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আমাদের দু’জন কর্মীর মৃত্যু এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’ পাশাপাশি মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আজীবন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা মাসোহারা পাবেন। মৃতদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব সংস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles