বিতর্ক ২০২২ সালের। আইএএস খিরওয়ার তখন ছিলেন দিল্লির রাজস্ব দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। অভিযোগ ওঠে পোষ্যকে নিয়ে তিনি সান্ধ্যভ্রমণ করবেন বলে খালি করিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্টেডিয়াম। পোষ্য কুকুরকে হাঁটানোর জন্য স্টেডিয়াম খালি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে! সেই আমলাই এ বার দিল্লির নয়া পুরকমিশনার। কুকুর নিয়ে স্টেডিয়ামে হাঁটায় হয়েছিল বদলি, সেই খিরওয়ারই এবার দিল্লির পুরনিগমের প্রধান। দিল্লিতে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরলেন ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার সঞ্জীব খিরওয়ার। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি-র নতুন কমিশনার হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২২ সালে দিল্লির থ্যাগরাজ স্টেডিয়ামে পোষ্য কুকুর নিয়ে হাঁটা এবং ক্রীড়াবিদদের অনুশীলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। তৎকালীন দিল্লির প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি থাকাকালীন সঞ্জীব খিরওয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর পোষ্য কুকুরকে হাঁটানোর জন্য থ্যাগরাজ স্টেডিয়ামের খেলোয়াড় ও কোচদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন। আরও অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে অ্যাথলিটরা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অনুশীলন করতেন, সেখানে অফিসারের কুকুরের জন্য সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই মাঠ খালি করে দেওয়া হত। যদিও সঞ্জীব বাবু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ নয়নি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে লাদাখে বদলি করে দেয়। দীর্ঘ সময় দিল্লির বাইরে থাকার পর ফের রাজধানীতে প্রভাবশালী পদে ফিরলেন তিনি। বিদায়ী এমসিডি কমিশনার অশ্বিনী কুমারকে জম্মু ও কাশ্মীরে বদলি করা হয়েছে এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খিরওয়ার। এজিএমইউটি ক্যাডারের এই অফিসারের স্ত্রী রিনকু দুগ্গাও একজন আইএএস অফিসার, যাঁকেও সেই সময়ে বিতর্কের জেরে দিল্লির বাইরে বদলি করা হয়েছিল। বিতর্কের জেরে ‘শাস্তিমূলক’ বদলির পর সঞ্জীব খিরওয়ারের এই ফিরে আসা এবং দিল্লির পুরনিগমের প্রধান হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

পোষ্য কুকুরকে হাঁটানোর জন্য স্টেডিয়াম খালি করিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে বিতর্কও হয়। যদিও সেই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন আইএএস সঞ্জীব খিরওয়ার। এ বার সেই আমলাকেই বসানো হল দিল্লি পুরসভার কমিশনার পদে। আইএএস খিরওয়ার তখন ছিলেন দিল্লির রাজস্ব দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। তাঁর স্ত্রীও রিঙ্কু দুগ্গারও আইএএস অফিসার। দিল্লিতে তখন আম আদমি পার্টির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। ২০২২ সালের মে মাসে আমলা দম্পতি নিজেদের পোষ্য সারমেয়কে নিয়ে সান্ধ্যভ্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিলেন দিল্লির ত্যাগরাজ স্টেডিয়ামকে। অভিযোগ, পোষ্যকে নিয়ে আমলা দম্পতির সান্ধ্যভ্রমণের জন্য খালি করিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্টেডিয়াম। ক্রীড়াবিদ এবং প্রশিক্ষকদের স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। দিল্লির রাজস্বসচিবকে ঘিরে এই বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পরেই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে কেজরীওয়াল সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়, দিল্লির সব স্টেডিয়াম রাত ১০টা পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জন্য খোলা থাকবে। পদক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও। ওই আইএএস দম্পতিকে দিল্লি থেকে দেশের দুই প্রান্তে বদলি করে দেওয়া হয়। খিরওয়ারকে বদলি করা হয় লাদাখে। তাঁর স্ত্রীকে বদলি করা হয় অরুণাচল প্রদেশে। খিরওয়ারের দাবি ছিল, ক্রীড়াবিদদের স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে তিনি যেতে কখনও কখনও পোষ্যকে হাঁটাতে স্টেডিয়ামে যেতেন, সে কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন আমলা। এ বার সেই আইএএস খিরওয়ারকেই দিল্লি পুরসভার কমিশনার পদে বসানো হল। এত দিন যিনি দিল্লির পুরকমিশনার ছিলেন, সেই অশ্বিনী কুমারকে জম্মু ও কাশ্মীরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।





