‘নিজের লোকেদের বিরুদ্ধেই লড়িয়ে দিচ্ছে’। ভারতীয় ক্রিকেটে কি গৃহযুদ্ধ চলছে? কোচ গম্ভীরকে লড়তে হচ্ছে নিজের লোকেদের সঙ্গেই? বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০ ম্যাচ জেতার পরই রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটালেন কোচ গৌতম গম্ভীর। গভীর রাতের এক টুইটে গুরু গম্ভীর ইঙ্গিত করলেন, কোচ হিসাবে তাঁর অসীম ক্ষমতা রয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেই দাবি ভ্রান্ত। এখন তাঁকে নিজেদের লোকেদের বিরুদ্ধেই লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোচ গম্ভীরকে নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। সেখানে গম্ভীরের দৃঢ়চেতা মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। থারুর বলেন, “নাগপুরে আমার পুরনো বন্ধু গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বেশ খানিকটা কথা হল। এই লোকটাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর দেশের সবচেয়ে কঠিন চাকরিটা করতে হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ মানুষ ওকে কটাক্ষ করে। কিন্তু ও নীরবে শান্তভাবে একাগ্রতার সঙ্গে কাজটা করে যায়। ওঁর নেতৃত্ব এবং একগ্রতার জন্য প্রশংসা প্রাপ্য।”পোস্টটি শেয়ার করে গম্ভীর বলেন, “অনেক ধন্যবাদ থারুরকে। সব বিতর্ক শেষ হওয়ার পর কোচের অসীম ক্ষমতা নিয়ে যুক্তি এবং সত্যিটা প্রকাশ্যে আসবে। ততদিন আমাকে যেভাবে নিজেদের লোকেদের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যারা কিনা নিজেদের জায়গায় সেরা সেটাই আমি উপভোগ করছি।” গম্ভীরের কথাতেই ইঙ্গিত, যেভাবে দলের মহারথীদের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই চলছে বলে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয়, সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হয়, বা ধারণা তৈরি করা হয়, সেটা আসলে সত্যি নয়। যেভাবে ভারতীয় ক্রিকেট গৃহযুদ্ধ চলছে বলে প্রচার করা হয়, সেসব তাঁকে কষ্ট দেয়। কোচ হিসাবে গম্ভীর এই মুহূর্তে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। টেস্টে তাঁর রেকর্ড রীতিমতো শোচনীয়। ওয়ানডেতেও তথৈবচ। একমাত্র টি-২০ ক্রিকেটে তাঁর দল ভালো খেলছে। সামনে সেই ফরম্যাটেরই বিশ্বকাপ। তাঁর আগে নিজের অবস্থান নিয়ে খানিক আক্ষেপের কথাই শোনা গেল কোচ গম্ভীরের মুখে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরুটা ভালোই হল টিম ইন্ডিয়ার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জিতলেন সূর্যকুমার যাদবরা। নেপথ্যে অভিষেক শর্মার তাণ্ডব। ভরসা দিলেন ‘ফিনিশার’ রিঙ্কুও। বোলাররা একটু খরুচে হলেও দরকারের সময়ে কাজের কাজটি করে দিয়েছেন। তবে চিন্তা রইল অক্ষর প্যাটেলের চোট নিয়ে। ম্যাচের মাঝে রক্তাক্ত আঙুল নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। বিদর্ভে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। সম্ভবত ভেবেছিলেন, পরের দিকে শিশির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তবে এই মাঠে যারা প্রথমে ব্যাট করে, তাদের জয়ের দিকে পাল্লা ভারী থাকে। পিচ পরের দিকে স্লো হয়ে যায়। এদিনও কমবেশি সেটাই হয়েছে। যে কারণে সুবিধা পেয়েছেন শিবম দুবে, বরুণ চক্রবর্তীরা।
তবে তারও আগে ছিল অভিষেক শর্মার তাণ্ডব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ বলে ৮৪ করে যান ভারতীয় ওপেনার। ৫টি চারের সঙ্গে ছিল ৮টি ছক্কা। ম্যাচের মোমেন্টাম ওখানেই তৈরি হয়ে যায়। আর যে মেজাজে কিউয়ি বোলারদের বল বাইরে পাঠাচ্ছিলেন, তা সূর্যকুমারকে আশ্বস্ত করবে। অধিনায়ক নিজেও রানে ফেরার চেষ্টা করছেন। ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংসটা সূর্যসুলভ না হলেও যে খারাপ ফর্মের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে হতাশ করলেন সঞ্জু স্যামসন (১০) ও ঈশান কিষাণ (৮)। একজন চেনা ওপেনিং স্লটে রান করার চেষ্টা করলেন। অন্যজন জাতীয় দলে ফিরে দাগ কাটতে ব্যর্থ। যদিও এই সিরিজে ফর্মে ফেরার সুযোগ পাবেন। আর যিনি সুযোগের জন্য হন্যে হয়ে বসে থাকেন, সেই রিঙ্কু আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন। অভিষেকের রানের গতিকে বজায় রেখে ২০ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে যান। বিশ্বকাপের দলে তাঁর থাকা নিয়ে কোনও সংশয় থাকা উচিত না। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ভারতের রান দাঁড়ায় ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৮।
জবাবে অর্শদীপ সিংয়ের বলে ডেভন কনওয়ের উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পরের ওভারেই হার্দিক পাণ্ডিয়ার ধাক্কা। তিনি ফেরালেন রাচীন রবীন্দ্রকে। বরুণ চক্রবর্তীর বলে টিম রবিনসনের ফিরতেও বেশিক্ষণ লাগল না। যদিও গ্লেন ফিলিপস (৭৮) একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন। মার্ক চ্যাপম্যান বা ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে রান তাড়া চেষ্টা করে যান। তবে ওয়ানডে সিরিজের মতো এবার কাঁটা হয়ে উঠতে পারেননি। শিবমের বলে আউট মিচেল। চ্যাপম্যানকে ফেরালেন বরুণ। আর অক্ষর প্যাটেলের শিকার ফিলিপস। শেষের দিকে দুবের কাছে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এসে গিয়েছিল। সেটা না হলেও জিততে অসুবিধা হয়নি। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থেমে যায় ১৯০ রানে। ভারত জিতল ৪৮ রানে। উদ্বেগ রইল অক্ষর প্যাটেলের চোট নিয়ে। মিচেলের একটি শট ধরতে গিয়ে চোট লাগে তাঁর। পরে দেখা যায়, আঙুল কেটে রক্ত ঝরছে। ওভারও শেষ করতে পারেননি। এমনিতেই চোটের জন্য নেই তিলক বর্মা ও ওয়াশিংটন সুন্দর। এবার অক্ষরও ছিটকে গেলে সমস্যায় পড়বেন গৌতম গম্ভীররা। তবে অক্ষরের চোট কতটা গুরুতর, সেটা জানানো হয়নি।





