ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইথিওপিয়ায় ইবোলা-সম্পর্কিত একটি ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, ব্যথা এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে। এটি ইবোলা ভাইরাসগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা-সম্পর্কিত ভাইরাসগুলো সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় এবং পরবর্তীতে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এর আগে এমন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ইথিওপিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইথিওপিয়ার সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা নিয়েছে। দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভাইরাসটি অন্য দেশে ছড়িয়ে না পড়ে। ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আতঙ্কিত না হয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। হাত ধোয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম মজুত করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপই এই ধরনের ভাইরাস মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যদিও গোটা বিষয়ের ওপর নজর রাখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এবিষয়ে যদি দরকার পড়ে আরও কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা ধরণের নতুন ভাইরাসের খবর মিলেছে। সেখানে বিবর্তনের ধারা অনুসরণ করছে এই ধরণের ভাইরাসরা। যেভাবে পৃথিবীর পরিবেশ বদল যাচ্ছে সেইমতো নিজেদের আপডেট করেছে এই নতুন ধরণের ভাইরাসরা। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সতর্ক রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা মনে করছে প্রথম থেকেই যদি সকলকে সতর্ক করা যায় তাহলে দ্রুত রোখা যেতে পারে এই ধরণের ভাইরাসকে।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্যাকটেরিয়া থেকে এটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর বিশ্বের বাকি দেশে এর সম্প্রসারণ ঘটেছে। যেসব দেশে এখনও স্বাস্থ্য কাঠামো সঠিক নেই সেখানে এই ঘটনা বেশি হয়েছে বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া নিজেদের শক্তি বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ই কোলাই এবং নিউমোনিয়া। এই দুটি এত দ্রুত রক্তের সঙ্গে মিশছে যে সেখান থেকে দেহের বেশ কয়েকটি অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। রক্তের মধ্যে দ্রুত মিশতে পারে বলে ই কোলাই এবং নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া নিজেদেরকে শক্তিশালী করেছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে এই ধরণের ব্যাকটেরিয়া ঝড়ের গতিতে ছড়িয়েছে। সেখান থেকে এদের আটকানো আগামীদিনে প্রায় অসম্ভব। পৃথিবীতে ওষুধ আবিষ্কারের একটি শেষ পর্যায় রয়েছে। তারপর দেহ আর অ্যান্টিবডি নিতে পারবে না। সেখানে এই ব্যাকটেরিয়াকে সামলোনো প্রায় অসাধ্য হবে বিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে প্রতিটি মানুষ নিজের দেহে কতটা শক্তি তৈরি করতে পারবে তার ওপরই নির্ভর করবে এই ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত। ২০২৯ সালের একটি সমীক্ষা দেখা গিয়েছে দেহে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষেত্রে পৃথিবীতে প্রায় ১.২৭ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যাটি প্রতি বছরেই বাড়ছে। সেখানে নানা ধরণের রোগের ফলেই সকলের মৃত্যু ঘটেছে। এইচআইভি, ম্যালেরিয়াতে মৃত্যুর হার এই সময় বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ২০ জন ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের কারণে মৃত্যুবরণ করবে। এই হার প্রতিবছরই বাড়ছে। একে রোখা প্রায় অসম্ভব।
ভেজাল কাশির সিরাপ সেবনের ফলে প্রায় ২২টি শিশুর মৃত্যুর পর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও বা হু) কোল্ডরিফ এবং আরও দু’টি কাশির সিরাপের বিক্রি এবং ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের সর্বশেষ পরামর্শে রেডনেক্স ফার্মাসিউটিক্যালসের রেসপিফ্রেশ টিআর এবং শেপ ফার্মার রিলাইফকে দূষিত এবং ‘নিম্নমানের’ পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কোল্ডরিফ কাশির সিরাপ সেবনের কারণে প্রায় ২২ জন শিশুর মৃত্যুর পর এই কাশির সিরাপগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)-এর মতে, ওষুধটিতে অনুমোদিত সীমার প্রায় ৫০০ গুণ বেশি পরিমাণে বিষাক্ত ডাইথিলিন গ্লাইকল ছিল। সিডিএসসিও মৃত্যুর বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে দূষিত কোনও ওষুধ রপ্তানি করা হয়নি। কোল্ডরিফ হল তামিলনাড়ুর স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি একটি কাশির সিরাপ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ একাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর দেয়, যার সবক’টিই দূষিত কাশির সিরাপের ব্যাচের দিকে ইঙ্গিত করে। কাশির ওষুধটি যাসাধারণত শিশুদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর দেখা যায় যে, কোল্ডরিফের কাশির সিরাপে ৮.৬ শতাংশ ডাইইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি) রয়েছে। যা অনুমোদিত ০.১ শতাংশের বেশি। একের পর এক রাজ্য ওষুধটি ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ জারি করে এবং নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। দু’বছরের কম বয়সী শিশুদের এই সিরাপ দেওয়া উচিত নয় বলেও নির্দেশিকা জারি করা হয়। স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদন লাইসেন্স বাতিল করা হয় এবং এর মালিক জি রঙ্গনাথনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুজরাটের রেডনেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস দ্বারা নির্মিত, রেসপিফ্রেশ টিআর-এর কারণে কোনও শিশু মৃত্যু হয়নি। তবে, এটিতে ১.৩৪২ শতাংশ ডিইজি রয়েছে, যা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৈরি এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা সিরাপটির। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে ওষুধটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ভারত সরকার সমস্ত উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আতসকাচের তলায় থাকা তৃতীয় সিরাপটি হল শেপ ফার্মার রিলাইফ। সিডিএসসিও এই কাশির সিরাপে ০.৬১৬ শতাংশ ডিইজি খুঁজে পেয়েছে। যার ফলে পণ্যটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, শেপ ফার্মাকে তাদের সকল চিকিৎসা পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করতেও বলা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলায় এবং রাজস্থানে, দূষিত কাশির সিরাপ কোল্ডরিফ খাওয়ার কারণে মোট ২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ শিশুই ওষুধ সেবনের ফলে কিডনি সংক্রমণ এবং ফেইলিয়রের শিকার। ভারতে তৈরি কাশির ওষুধ ব্যবহার করে মৃত্যুর তালিকায় মধ্যপ্রদেশ নতুন সংযোজন। ভারতীয় তৈরি কাশির সিরাপে ডাইথাইলিন গ্লাইকল কয়েক ডজন তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২০২৩ সালে গাম্বিয়ায় ৭০ জন এবং উজবেকিস্তানে ১৮ জন শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে ডাইথাইলিন গ্লাইকল-মিশ্রিত ভারতীয় সিরাপের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারির মধ্যে, কাশ্মীরের জম্মুতে পাঁচ বছরের কম বয়সী কমপক্ষে ১২ জন শিশু কাশির সিরাপ সেবনের কারণে মারা গিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অতীতে, কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপের অপব্যবহারেরও উদাহরণ রয়েছে অনেক। কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ একটি হালকা ওপিওয়েড, যা উচ্চমাত্রায় আনন্দ তৈরি করতে পারে এবং আসক্তির দিকে পরিচালিত করতে পারে। বাচ্চাদের জন্য এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।





