দীর্ঘ ছয় বছর পর ফের কলকাতায় খেলতে দেখা যাবে বিশ্বনাথন আনন্দকে। ৭ জানুয়ারি থেকে ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শুরু হবে টাটা স্টিল চেস টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতা চলবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আনন্দ ছাড়াও টুর্নামেন্টে খেলতে দেখা যাবে অর্জুন এরিগাইসি, আর প্রজ্ঞানন্দ, বিদিত গুজরাটি নিহাল সারিন-সহ একঝাঁক ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টারকে। এঁদের প্রত্যেকেই কোনও না কোনও সময়ে আনন্দের কাছে কোচিং নিয়েছেন। মেয়েদের বিভাগের মুখ্য আকর্ষণ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দিব্যা দেশমুখ। এছাড়া খেলবেন আর বৈশালী, দ্রোণাভাল্লি হারিকার মতো তারকা দাবাড়ুরা। ওপেন এবং মহিলা বিভাগের পুরস্কার মূল্য সমান থাকছে। খেলা হবে র্যা পিড এবং ব্লিৎজ পদ্ধতিতে। টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর সর্বভারতীয় দাবা সংস্থার সহ-সভাপতি দিব্যেন্দু বড়ুয়া। প্রতিযোগিতার সবথেকে বড় আকর্ষণ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আনন্দ বনাম বর্তমান তারকাদের মগজাস্ত্রের লড়াই। আনন্দ বলেছেন, ছ’বছর পর ফের কলকাতায় খেলব ভেবে আমি উত্তেজিত। এর মধ্যে দাবার অনেক পরিবর্তন এসেছে। সারা বিশ্বে, বিশেষ করে ভারতে প্রচুর প্রতিভাবান দাবাড়ু উঠে এসেছে। জুনিয়রদের চ্যালেঞ্জ জানাতে আমিও তৈরি।

কলকাতার দাবা অনুরাগীদের জন্য বড়সড় হতাশা! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দোম্মারাজু গুকেশ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া র্যাপিড ও ব্লিটজ থেকে সরে দাঁড়ালেন। ৭ থেকে ১১ জানুয়ারি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই টুর্নামেন্টে তাঁর খেলার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার আয়োজকদের পাশাপাশি শহরের তামাম দাবাপ্রেমী নিরাশ। আয়োজকদের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় বলা হয়, ‘ব্যক্তিগত কারণের জন্য এই বছর টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না দোম্মারাজু গুকেশ।’বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দাবাড়ু বা তাঁর টিমের তরফে আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা থাকলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ‘পার্সোনাল রিজ়নসে’ই সীমাবদ্ধ। গুকেশের জায়গায় টুর্নামেন্টে সুযোগ পেলেন নিহাল সারিন। ভারতের অন্যতম শক্তিশালী র্যাপিড ও ব্লিটজ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত নিহালকে শেষ মুহূর্তে দলে নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই স্তরের কোনও খেলোয়াড়কে এত অল্প নোটিসে পাওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর দিব্যেন্দু বড়ুয়া জানান, গুকেশের না আসা বড় ধাক্কা। কলকাতার দাবাপ্রেমীরা প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে গুকেশকে সামনে থেকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, নিহাল সারিন র্যাপিড-ব্লিটজ ফরম্যাটে অত্যন্ত দক্ষ এবং টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখতে দড়। টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে, যাকে নেদারল্যান্ডসের উইক আন জে-তে আয়োজিত টাটা স্টিল মাস্টার্সের ‘সিস্টার ইভেন্ট’হিসেবে ধরা হয়। পুরুষ ও মহিলা বিভাগে সমান প্রাইজমানি—যা দাবা দুনিয়ায় এখনও বিরল। গুকেশ সম্প্রতি দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব র্যাপিড ও ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। সেখানে র্যাপিড বিভাগে তাঁর স্থান ২০তম, ব্লিটজে ৫৩। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যেই কলকাতা সফরের কথা ছিল। সেই কারণে হঠাৎ প্রত্যাহার অনেকের কাছে বিস্ময়। গুকেশের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে টুর্নামেন্টের এক বড় আকর্ষণ কমিয়ে দিল। তবে বদলি হিসেবে নিহাল সারিনের অন্তর্ভুক্তি এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক লাইন-আপ কলকাতার আয়োজন ফাঁকা রাখবে না। আবেগ নয়, বাস্তবতা বলছে মাঠে খেলা চলবে, প্রতিযোগিতা চলবে, বজায় থাকবে দাবার মানও। মঙ্গলে কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে হয়ে গেল ড্র।

গুকেশ না থাকলেও টুর্নামেন্টের আকর্ষণ কমছে না। কলকাতার মঞ্চে থাকছেন ওপেন বিভাগে শিরোনামে অর্জুন এরিগাইসি, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের পাঁচবারের জয়ী বিশ্বনাথন আনন্দ, ওয়েসলি সো, ওয়েই ই, আর প্রজ্ঞানন্দ, বিদিত গুজরাঠি, ভোলোদর মুরজিন, হান্স নেইম্যন, অরবিন্দ চিথাম্বরম ও নিহাল সারিন।

মহিলা বিভাগে খেলবেন দিব্যা দেশমুখ, আর. বৈশালী, হরিকা দ্রোণাভল্লী, বন্তিকা আগরওয়াল ও রাক্ষিতা রবি। বিদেশি প্রতিযোগীদের মধ্যে থাকছেন আলেকসান্দ্রা গোরিয়াচকিনা, কাতেরিনা লাগনো, নানা জাগনিদজে, ক্যারিসা ইয়িপ, ও স্তাভরুলা সোলাকিদু।





